১৫ অক্টোবর ২০১৯

পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন ৭ দিনের জন্য স্থগিত

স্বাধীনতা ফোরামের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন : নয়া দিগন্ত -

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তিনটি দাবি মানার আশ্বাসের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শ্রমিকেরা কাজে যোগদান করেছেন।
গতকাল দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় জেলা প্রশাসন, বিজেএমসি ও শ্রমিকদের মধ্যে ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের আন্দোলন নিয়ে বৈঠক হয়। ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মুরাদ হোসেন টানা ১৫ দিনের আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন।
সূত্র জানায়, দীর্ঘ চার ঘণ্টা আলোচনার পর শ্রমিকেরা ঘোষণা দেন, চলতি সপ্তাহে দু’টি বকেয়া এবং এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো বকেয়া প্রদানের পাশাপাশি আজ বুধবার বন্ধ মিলগুলোতে জরুরিভাবে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করে কর্মরত শ্রমিকদের হাতে পে স্লিপ প্রদান করার শর্তে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। তিন শর্ত মেনে নেয়ার একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেন খুলনা জেলা প্রশাসক।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেনÑ খুলনা জেলা প্রশাসক মো: হেলাল হোসেন, খুলনা বিভাগীয় শ্রম অধিদফতরের পরিচালক মো: মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আনিসুর রহমান, উপ-সহকারী পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন, পাটকল শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সরদার মোতাহার উদ্দীন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মো: আশরাফুল ইসলাম, বিজেএমসি খুলনা অঞ্চলের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা মো: সাজ্জাদ হোসেন, পাটকলের প্রকল্প প্রধানদের মধ্যে বনিজ উদ্দীন মিয়া, মঈনুল করিম, শফিকুল ইসলাম, মুরাদ হোসেন, খলিলুর রহমান, মোস্তফা কামাল, শাওন মাহমুদ, ড. জুলফিকার, শ্রমিক নেতাদের মধ্যে পাটকল শ্রমিকলীগ নেতা মো: মুরাদ হোসেন, মো: সোহরাব হোসেন, হেমায়েত উদ্দীন আজাদী, সাহানা শারমিন, হুমায়ুন কবির, সাইফুল ইসলাম লিটু, আ: হামিদ সরদার, বেল্লাল মল্লিক, আ: মান্নান, আবু দাউদ দ্বীন মোহাম্মদ, শেখ মো: ইব্রাহিম ও মো: খলিলুর রহমান।
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিনে খুলনা অঞ্চলের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৫ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য, যার বিক্রয়মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। খুলনা অঞ্চলের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে গত ১২ সপ্তাহের শুধু শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া পড়েছে ৪২ কোটি টাকা। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এপ্রিল মাস পর্যন্ত বকেয়া বেতনের পরিমাণ ১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৬০ কোটি টাকা বকেয়া পড়েছে শুধু মজুরি ও বেতন বাবদ। পক্ষান্তরে ৯ মিলে উৎপাদিত পণ্য মজুদ রয়েছে তিন শ’ কোটি টাকারও বেশি।
উল্লেখ্য, গত ৫ মে বিকেল থেকে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে কর্মবিরতি শুরু হয়। এরপর ১৩ মে থেকে দেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে এ কর্মবিরতি ছড়িয়ে পড়ে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum