২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে পৃথক কর্ম কমিশন গঠনে আপত্তি

-

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে পৃথক ‘কর্ম কমিশন গঠন’ করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও প্রস্তাবনায় আপত্তি জানিয়েছে অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আরো আপত্তি করেছে মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলেছে, এ ধরনের কমিশন গঠনের কোনো সুযোগ নেই। এর পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিও ‘কমিশন গঠনে’ আপত্তি জানিয়েছে। ফলে ‘কর্ম কমিশন গঠন’ করার উদ্যোগ শুরুতেই হোঁচট খেল। যদিও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি- নির্দেশনার আলোকে মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) পৃথক ‘কর্ম কমিশন গঠন’ করার প্রস্তাবনা প্রণয়ন করে মতামত চেয়েছিল উপরিউক্ত নীতিনির্ধারণী মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরির্দশনকালে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দ্রুত করতে আলাদা একটি কমিশন গঠনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু নানা জটিলতার দোহাই দিয়ে গত ৫ বছর বিষয়টি ঝুলে ছিল। লাগাতার তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন নতুন সচিব আকরাম-আল-হোসেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি-নির্দেশনার আলোকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক (প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক) নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা আনতে এবং চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে দ্রুততম সময়ে নিয়োগ নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান। আকরাম আল হোসেন সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর পর যেসব তড়িৎ উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পৃথক ‘কর্ম কমিশন গঠন’-এর উদ্যোগ।
গত ফেব্রুয়ারিতে মন্ত্রণালয়ের প্রথম মাসিক সমন্বয়ক সভায় কমিশন গঠনের ডিপিইর পলিসি ও অপারেশন বিভাগকে প্রস্তাবনা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। কমিশন গঠনের সে প্রস্তাবনার মতামত চাওয়া হয় এবং তা অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাবনার ব্যাপারে তাদের নেতিবাচক মত দেয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এ ধরনের কমিশন গঠনের কোনো সুযোগ নেই।’ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ বৈঠকেও বিষয়টি আলোচিত হয় সেখানেও কমিটির সদস্যরা এতে আপত্তি দিয়েছেন। তারপরও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কমিশন গঠনের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে।
একাধিক সূত্রে মন্ত্রণালয় ও ডিপিইতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্ত্রণালয় এবং ডিপিইর একটি সিন্ডিকেট চায় না, সহসা পৃথক ‘কর্ম কমিশন গঠন’ হোক । তারা কমিশন গঠন না করার পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, পৃথক কমিশন হলে ‘পিএসসি’র মতই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হবে। ডিপিই থেকে চাহিদা পাঠাতে হবে মন্ত্রণালয়ে। সেখানে অনুমোদনের পর সেটি গঠিত কমিশনে যাবে। কমিশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেবে, পরীক্ষা গ্রহণ করে ফল প্রকাশের পর, তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। সেখান থেকে অধিদফতরে যাবে এবং পরে নিয়োগ পাবেন শিক্ষকরা। এই দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে পৃথক ‘কর্ম কমিশন গঠন’ না করাই সময়ের দাবি। এখন পুরনো নিয়োগ নীতিমালা অনুসরণ করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ডিপিই বিজ্ঞপ্তি দিয়েই নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে সরাসরি নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে যত ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগ দেয়া হয়েছে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ও ডিপিই পরিচালনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের যৌথ তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। একই প্রক্রিয়ায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০১৮ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। এ পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন করেছে নেপ। তবে, প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা দেয়ায় এখন তাদের সরাসরি নিয়োগের পথ বন্ধ হয়েছে। এখন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি)তে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই প্রধান শিক্ষক হতে হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি মন্ত্রী ও সচিব বলছেন, এখন থেকে প্রধান শিক্ষক পদে কোনো নিয়োগ পরীক্ষা হবে না। শতভাগ পদোন্নতির মাধ্যমেই প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।
শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার মান ও স্বচ্ছতা সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা কতটুকু নিশ্চিত করা গেছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন। তারা বলেন, মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের দায়িত্ব হচ্ছে নীতি প্রণয়ন বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ। শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট পরীক্ষা (প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা-পিইসি) গ্রহণ ও পরিচালনা তাদের কাজ বা দায়িত্ব নয়। অথচ মন্ত্রণালয় ও ডিপিই এখন তাই করছে। কেউ কোনো কথা বলছেন না। তবে, শিক্ষাবিদরা এ পরীক্ষা(পিইসি) বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছেন শুরু থেকেই।

 


আরো সংবাদ