১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

প্রেমিকার বাসা থেকে প্রেমিকের লাশ উদ্ধার

নিহতের পরিবারের অভিযোগ হত্যা, প্রেমিকার দাবি আত্মহত্যা
-

রাজধানীর ভাটারা এলাকায় বান্ধবীর বাসায় গিয়ে লাশ হয়ে ফিরেছে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নিহতের নাম আশিক এ এলাহী (২০)। নিহতের বান্ধবীর দাবি, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গলায় কোমরের বেল্ট পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে আশিক। অপর দিকে নিহতের পরিবার অভিযোগ করছে, আশিককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি কোমরের বেল্ট দিয়ে জানালার গ্রিলের সাথে ঝুলে কেউ আত্মহত্যা করতে পারে না। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে হত্যার কোনো আলামত পাওয়া গেলে পুলিশ সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। তবে তা না পাওয়া গেলে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুলিশ কুর্মিটোলা জেনারেল হসপিটাল থেকে আশিকের লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ নিহতের স্বজন ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, আশিক আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র। যে মেয়েটির বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই মেয়েটি তার সাথেই পড়তেন। মেয়েটি অপর এক বান্ধবীর সাথে কুড়িলের কুড়াতলির নুরুল ইসলামের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।
গতকাল ভোর সাড়ে ৫টায় মেয়েটি আশিকের বড় ভাই আল আমিনকে ফোন দিয়ে ছিলেন, কিন্তু সে ঘুমিয়ে থাকায় ওই সময় মোবাইল ফোনটি রিসিভ করতে পারেনি। পরে যখন আল আমিন ফোন ব্যাক করেন তখন মেয়েটি জানান, ‘আপনার ভাই এখানে এসে খুবই সিন ক্রিয়েট করেছে, সে হাসপাতালে আছে। এই বলে ফোনটি কেটে দেন। এরপরই পুলিশও আল আমিনকে ফোন দিয়ে তার ভাই আশিক কুর্মিটোলা হসপিটালে রয়েছে জানিয়ে ফোন করে। খবর পেয়ে আল আমিন ও তার বন্ধু রাকিব হাসপাতালে গিয়ে আশিকের লাশ দেখতে পান। নিহতের ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের জিওলজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র আল আমিন (২৫) বলেন, সকালে আশিকের সহপাঠী মেয়েটিই তাকে আশিক হাসপাতালে বলে জানায়। আমি এসে তার লাশ দেখতে পাই। তার সন্দেহ আশিককে হত্যা করা হতে পারে। জানালার সাথে কোমরের বেল্ট দিয়ে কোনোভাবেই ফাঁস দেয়া যায় না।
ভাটারা থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘প্রাথমিক তথ্যে পাওয়া গেছে, আশিক এবং ওই মেয়েটির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ছেলেটি সকালে মেয়েটির বাসায় গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মেয়েটি জানিয়েছে, সে আশিকের প্রস্তাবে রাজি না হাওয়ায় তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়। এরপর মেয়েটি তার বাসা থেকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর মেয়েটি ঘরে ফিরে আশিককে কোমরের বেল্ট দিয়ে জানালার গ্রিলের সাথে ফাঁস দেয়া অবস্থায় দেখতে পায়।’ ওসি বলেন, ‘বিষয়টি জানিয়ে প্রথমে বাড়ির মালিক পুলিশকে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আশিককে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
নিহত আশিকের বাবার নাম মো: সোহরাওয়ার্দী। তার গ্রামের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায়। তিন ভাইয়ের মধ্যে আশিক ছিল দ্বিতীয়।


আরো সংবাদ