২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

৫ দফা দাবি না মানলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের নীলক্ষেতে সড়ক অবরোধ : নয়া দিগন্ত -

তীব্র সেশনজট, ত্রুটিপূর্ণ ফলাফল এবং ফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রিতা কমানোসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভস্থল নীলক্ষেত মোড়ে বিক্ষোভ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় এইচএসসি পরীক্ষার জন্য পূর্বঘোষিত সময়ের ১ ঘণ্টা পরে আন্দোলন শুরু করার কথাও জানান তারা।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ঢাকা কলেজের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভে সাত কলেজের ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেন। বিক্ষোভ শেষে ১১টার দিকে নীলক্ষেত মোড়ের সড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে নীলক্ষেত-নিউ মার্কেট রুটের যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। আশপাশ এলকায় দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট। দুর্ভোগে পড়েন এ এলাকা দিয়ে যাতায়াত করা সর্বসাধারণ। তবে রোগী এবং রোগীবাহী যান চলাচলে কোনো বাধা ছিল না।
এ সময় তারা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সময়মতো পরীক্ষা না নেয়া, রেজাল্ট প্রকাশে সাত থেকে আট মাস বিলম্ব, বিনা নোটিশে নতুন নিয়ম কার্যকর, একই বিষয়ে গণহারে ফেল, খাতার সঠিক মূল্যায়ন না হওয়া এবং সিলেবাস বহির্ভূত প্রশ্নপদ্ধতির অভিযোগ আনেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা- ‘গণহারে আর ফেল নয়, যথাযথ রেজাল্ট চাই’, ‘শিক্ষা কোনো পণ্য নয়, শিক্ষা নিয়ে ব্যবসা নয়’, ‘গণহারে ফেল, ঢাবি তোমার খেল’, ‘বন্ধ করো অনাচার, সাত কলেজের আবদার’, ‘নিচ্ছো টাকা দিচ্ছো বাঁশ, সময় শেষে সর্বনাশ’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়ার পাশাপাশি এসব সেøাগান লেখা ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন করেন তারা।
বিক্ষোভে তারা তাদের সমস্যা নিরসনে ঢাবি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফলাফল প্রকাশসহ ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ২০১৬ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ এবং ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ২০১৭ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের লিখিত পরীক্ষাসহ সব বিভাগের ফলাফল একত্রে প্রকাশ করা; ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্সসহ সব বর্ষের ফলাফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনর্মূল্যায়ন করা; সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন; প্রতিমাসে প্রত্যেকটা বিভাগে প্রতি কলেজে দুইদিন করে মোট ১৪ দিন ঢাবির শিক্ষকের ক্লাস নেয়া অথবা প্রশ্ন প্রণয়ন থেকে ঢাবি শিক্ষকদের বিরত রাখা; সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করা।
উল্লিখিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে আন্দোলন করার পাশাপাশি সাত কলেজের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন এ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অভিযোগ করে বলেন, ঢাবি কর্তৃপক্ষ বার বার সমস্যা সমাধানের আশ^াস দিলেও তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সঙ্কট ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থায় দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আবারো কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের অবরোধ চলাকালীন বেলা ১টার দিকে ঢাবির সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আশ^াস দেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বিশ^বিদ্যালয়েল ভিসি অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামানের আশ^াস চান। এ সময় ঢাকা কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আশিক বলেন, আমাদের সমস্যার বিষয়ে আমরা অনেক লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধান নেই। তাই ভিসি নিজে এসে সমস্যার সমাধান করে যাবেন। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্রী মিলি বলেন, আমরা আশ^াস চাই না। লিখিতভাবে সমস্যার সমাধান চাই।
এ সময় সহকারী প্রক্টর আব্দুর রহিম নিয়মিত এবং জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষার্থীদের কারণে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান। তিনি বলেন, দুই ধরনের শিক্ষার্থীদের অবস্থা দু‘রকমের। এক্ষেত্রে নতুনদের কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু যারা এর আগে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় থেকে কনভার্ট হয়ে এসেছেন, তাদের নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
পরে দুপুরে গতকালেরমতো আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন তারা। আজ বুধবার এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে সকাল ১০টার পরিবর্তে ১১টায় নীলক্ষেতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানান তারা। দুপুর আড়াইটায় নীলক্ষেতে সংবাদ সম্মেলন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত জানান ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর। তিনি বলেন, আমাদের ৫ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। তবে আজকের মতো আন্দোলন স্থগিত। আগামীকাল (বুধবার) এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় সকাল ১০টার পরিবর্তে ১১টায় নীলক্ষেতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব। আন্দোলন স্থগিত ঘোষণার পর ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য, সেশনজট দূর করে শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ। একই বছর পরীক্ষার রুটিনের দাবিতে আন্দোলনে গিয়ে দুই চোখ হারান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান। এর পরেও ফলাফল প্রকাশসহ নানান সঙ্কটের কারণে কয়েক দফা আন্দোলন করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।


আরো সংবাদ

থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে : খন্দকার মোশাররফ আড়াইহাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবক নিহত, আহত ২ সরকারের পরিণতি আরও করুণ হবে : আলাল গার্মেন্টসে চাকরি দেয়ার কথা বলে তরুণীকে ধর্ষণ ভালোবেসে বিয়ে, পরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীর গোপনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ঢেলে নির্যাতন বশেমুরবিপ্রবি’তে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা রামগঞ্জ এলডিপির সভাপতি-সম্পাদকের বিএনপিতে যোগদান ভয়ানক কাণ্ড! ট্রেনে এক যাত্রীর আঙ্গুল চিবিয়ে খেলেন আরেক যাত্রী বিয়ের প্রস্তাবে সম্মতি না দেয়ায় ২ বোনকে পিটিয়ে আহত, হাসপাতালে ভর্তি আ’লীগ নেতারাও ক্যাসিনোর টাকার ভাগ পায় : জামায়াত ডুবন্ত ব্যক্তিকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিল হাতি (ভিডিও)

সকল