২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
একই সময়ে তিন প্যানেলের সভা

আগামীকাল হাবের নির্বাচন

-

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গত সোমবার প্রচারণার শেষ দিনে সন্ধ্যায় তিনটি প্যানেল একই সময়ে পৃথকভাবে পরিচিতি সভার আয়োজন করে। তিনটি প্যানেল হলোÑ বর্তমান মহাসচিব এম শাহাদাত হোসাইন তসলিমের নেতৃত্বাধীন হাব সম্মিলিত ফোরাম, আটাবের সহসভাপতি আসলাম খানের নেতৃত্বে হাব গণতান্ত্রিক ঐক্যফ্রন্ট ও হাবের ইসি সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল নাসেরের নেতৃত্বে সচেতন হাব গণতান্ত্রিক ফোরাম।
রাজধানীর পুলিশ কনভেনশন হল, হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল (সাবেক শেরাটন) ও হোটেল ফার্সে যথাক্রমে তিনটি প্যানেল পরিচিতি সভা করে। পরিচিতি সভায় ফোরামগুলোর সমন্বয়কারীরা প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
তিনটি প্যানেলের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল রয়েছে প্রথম দু’টির এবং গত কয়েক দিনে দু’টি প্যানেল জোর প্রচারণা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় পরস্পরবিরোধী প্রচারণাও লক্ষ্য করা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন গত নির্বাচনে হাবের যে প্যানেলটি নির্বাচিত হয়ে দুই বছর নেতৃত্ব দেন সেই প্যানেলটিই তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে এবার নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে।
হাব সম্মিলিত ফোরামে হাবের বিদায়ী কমিটির মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম প্যানেল প্রধান। এই প্যানেল পূর্ণ প্যানেলে নির্বাচিত হলে তিনি সভাপতি হবেন। এই প্যানেলে বিদায় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী, কোষাধ্যক্ষ মাওলানা ফজলুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন রয়েছেন। এই প্যানেলের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন হাবের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন যিনি বিগত নির্বাচনে বিজয়ী প্যানেলেরও উপদেষ্টা ছিলেন হাবের প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি মো: আব্দুস শাকুর। এই প্যানেলে সমন্বয়ক ও উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন, হাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সহসভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার, হাবের বর্তমান ইসি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন, সাবেক সহসভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সিলেট চেম্বারস অব কমার্সের চেয়ারম্যান খন্দকার শিপার আহমেদ, সাবেক সহসভাপতি ওয়াহিদুল আলম ও নুরুল ইসলাম, মেয়র হজ কাফেলার পরিচালক চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম, ফরহাদ হোসেন স্বপন প্রমুখ।
অন্য দিকে হাব গণতান্ত্রিক ঐক্যফোরামে আটাবের সহসভাপতি আসলাম খান প্যানেল প্রধান। নির্বাচিত হলে তিনিই সভাপতি হবেন। এই প্যানেলে রয়েছেন বিদায়ী কমিটির সহসভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ (আটাবেরও মহাসচিব), যুগ্ম সম্পাদক রুহুল আমিন মিন্টু, জনসংযোগ সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ইসি সদস্য গোলাম মোহাম্মদ, সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক কারী গোলাম মোস্তফা প্রমুখ। এই প্যানেলের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বে রয়েছেন হাবের বিদায়ী কমিটির সভাপতি আব্দুস ছোবহান ভূঁইয়া (হাসান)। প্রধান উপদেষ্টা আটাবের সভাপতি এস এন মঞ্জুর মোরশেদ মাহবুব যিনি বিগত নির্বাচনে বিজয়ী প্যানেলের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন। এই প্যানেলের সাথে রয়েছেন এফবিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন, টোয়াবের সভাপতি তৌফিক উদ্দিন, হাবের সাবেক মহাসচিব এম এ রশীদ শাহ সম্রাট, হাবের এম এ করিম বেলাল, আটাব সিলেট জোনের সভাপতি আব্দুল জব্বার, আটাবের চট্টগ্রামের সভাপতি আবু জাফর প্রমুখ।
সচেতন হাব গণতান্ত্রিক ফোরামের প্যানেল প্রধান হিসেবে রয়েছেন হাবের বিদয়ী ইসি সদস্য, হজযাত্রী ও হাজী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল নাসের।
২৫ এপ্রিল নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটের আঞ্চলিক মিলিয়ে ৫৪ জন নির্বাচিত হবেন। পরে তাদের ভোটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে। মোট ভোটার ৯৮২ জন। সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত নয়া পল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে ভোটগ্রহণ করা হবে।
গত দুই বছরে হাবের দায়িত্ব পালনে বিদায়ী কমিটি সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন বলে প্রধান দুই প্যানেলের পক্ষ থেকেই দাবি করা হচ্ছে। বিদায়ী সভাপতি আব্দুস সোবহান ভূঁইয়া সড়ক দুর্ঘটনাজনিত অসুস্থতার কারণে প্রায় দেড় বছর হাবের মূল দায়িত্ব পালন করেন তরুণ মহাসচিব এম শাহাদাত হোসেন তসলিম। নির্বাচনে শাহাদাত হোসেন তসলিম সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকায় হাবের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের অনেকের সমর্থন তার দিকেই লক্ষ করা যাচ্ছে এবং সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
আব্দুস ছোবহান ভূঁইয়া প্রথমে প্যানেল প্রধান হওয়ার কথা জানালেও পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে প্যানেলের প্রধান সমন্বয়ক হন। হাবের বিগত নির্বাচনে অপর একটি শক্তিশালী প্যানেলকে পরাজিত করার পেছনে বিদায়ী সভাপতি আব্দুস সোবহান হাসান ও আটাব সভাপতি মঞ্জুর মোরশেদ মাহবুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে মনে করা হয়। এই কারণে হাবের নির্বাচন শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।


আরো সংবাদ