১৬ জুলাই ২০১৯

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল গ্রহণের শুনানি ৩০ এপ্রিল

নাইকো মামলার পরবর্তী শুনানি ৬ মে
-

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন গ্রহণের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩০ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনটি উপস্থাপন করার পর আদালত এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালতের আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আপিলটি আজকে অ্যাডমিশন হিয়ারিংয়ের জন্য গিয়েছে। এটা আগামী মঙ্গলবার অ্যাডমিশন হিয়ারিং হবে। বিধান হচ্ছে অ্যাডমিশনের সাথে সাথে জামিনের আবেদন দিতে হয়। আমরা ইতোমধ্যে জামিনের আবেদন রেডি করেছি। আমরা আশা করি, ওই দিন অ্যাডমিশনের সাথে সাথে জামিনের আবেদন করব।
আইনজীবী জয়নুল আবেদীনের সাথে আদালতে ছিলেন বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট সালমা সুলতানা প্রমুখ।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে পূর্বেই আপিল আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার আবেদনটি গ্রহণের জন্য উপস্থাপন করা হলে আদালত ৩০ এপ্রিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের সাথে জামিনের জন্যও দরখাস্ত করা হবে।
গত ১৮ নভেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল আবেদন করেন বেগম খালেদা জিয়া। নি¤œ আদালতের দেয়া সাত বছরের কারাদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ২০ থেকে ২২টি গ্রাউন্ডে এ আপিল করা হয়।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার খালাস ও জামিন চেয়ে আপিল আবেদনের সাথে ৭০০ এরও বেশি পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেয়া হয়েছে। আইনজীবীরা বলেন, চ্যারিটেবল ট্রাস্টটি একটি প্রাইভেট ট্রাস্ট এটা সরকারি কোনো ট্রাস্ট ছিল না, এ ছাড়া এ মামলায় ক্ষমতা অপব্যবহারের যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটাও সত্য নয়।
এর আগে গত ১৪ নভেম্বর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন বিচারিক আদালত। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত থেকে ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের সার্টিফায়েড কপি বুঝে নেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া। ওই দিন তিনি বলেছিলেন, মামলার রায়ের দিনই সার্টিফায়েড কপি চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো: আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
একই সাথে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, তার একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খানেরও একই দণ্ড দেন আদালত। রায়ে চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইল মৌজার ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়া হয়।
নাইকো মামলার পরবর্তী শুনানি ৬ মে : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে আগামী ৬ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত বিশেষ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালত শুনানির এ দিন ধার্য করেন। মঙ্গলবার নাইকো মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনের শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ। খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন মেসবাহ চার্জ শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাকে হাসপাতালের ভর্তি করা হয়েছে। তার অনুপস্থিতিতে চার্জ শুনানি করা আইনসম্মত হবে না। তিনি আরো বলেন, তার চিকিৎসায় দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। তাই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য একটা দীর্ঘ সময় প্রার্থনা করেন তিনি। তার সাথে ছিলেন জিয়াউদ্দিন জিয়া ও জাকির হোসেন ভূইয়া। শুনানি শেষে আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।
গত ৩ মার্চ সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলামের পক্ষে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনের শুনানি শেষ করেন। ওই সময় বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া সব আসামির পক্ষে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি আবেদনের শুনানি শেষ হয়।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াসহ অন্যদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাস ক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডীয় কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দেয়ার মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন।

 


আরো সংবাদ

ইরানের সাথে যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে : ইসরাইল ধোনিকে অবসরের পরামর্শ বোর্ডের?‌ রবি শাস্ত্রীকে বাদ দেয়া হচ্ছে? পারিবারিক দ্বন্দ্ব : কোন দিকে যাবে এরশাদ-পরবর্তী জাতীয় পার্টি? হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্ট সুবিধার অপেক্ষায় এজেন্সি মালিকেরা বেসরকারি টিটিসি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবিতে স্মারকলিপি কলেজ শিক্ষার্থীদের শতাধিক মোবাইল জব্দ : পরে আগুন ধর্ষণসহ নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়াতে বিএনপির কমিটি রাজধানীতে ট্রেন দুর্ঘটনায় নারীসহ দু’জন নিহত রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত আজমত আলীকে মুক্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের

সকল




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi