২৬ মে ২০১৯

বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা

কমিশনের সুপারিশও কাজে আসছে না
-

উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়ন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আইনটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রীপরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিলেও গত এক বছরে এর কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। আইন প্রণয়ন কার্যক্রম থেমে থাকলেও বিচারক নিয়োগ থেমে নেই। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩০ মে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টে বিভাগে ১৮ বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের অভিযোগ এড়াতে সরকারের নীতিনির্ধারণের একটি অংশ চায় আইনটি প্রণয়ন হোক। আর অন্য অংশ চায় না এ আইন হোক। ফলে এ আইন করার উদ্যোগ নিলেও এর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইনজীবীসহ বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেক্ষিতে আইনটির খসড়া প্রণয়নের কার্যক্রম হাতে নেয় সরকার। আইনটি প্রণয়নের কাজ দেয়া হয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগকে। গত বছরের মে মাসের মধ্যে আইনটির খসড়া চূড়ান্ত করার টার্গেটও দেয়া হয়েছিল।
এতে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জুডিশিয়াল অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়ে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। নতুন এ আইনের খসড়া প্রণয়নের কার্যক্রমে বলা হয়, বিচারক নিয়োগের জন্য গঠন হবে একটি কমিশন। এ কমিশনে রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, সরকার, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও সুশীলসমাজের একজন করে প্রতিনিধি রাখার বিধানটি ছিল। নিয়োগের ক্ষেত্রে কমিশন প্রার্থীর মাপকাঠি নির্ধারণ করবে। নিয়োগের জন্য যারা প্রার্থী হবেন, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি জুডিশিয়াল বিষয়ে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতাই প্রাধান্য পাবে এমন বিধানও উল্লেখ ছিল।
এদিকে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হওয়ার যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। এতে বলা আছে, প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হবেন এবং প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগ দেবেন। সংবিধান অনুযায়ী আইন পেশায় ১০ বছর মেয়াদ বা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার পদে ১০ বছর অতিবাহিত হলেই হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগ করা হয়।
উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো আইন বা নীতিমালা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আইনজ্ঞ ও সুশীলসমাজসহ নানা মহলে আইনটি করার দাবি উঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন কমিশনও ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে সরকারের কাছে সুপারিশ প্রেরণ করে।
কমিশনের সুপারিশেও প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে একটি কমিটির মাধ্যমে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের বিচারপতি পদে নিয়োগ দিতে বলা হয়। উচ্চ আদালতে বিচারপতি পদে নিয়োগে কমপক্ষে ৫০ বছর বয়স এবং অবসর গ্রহণের বয়স ৭৫ বছর নির্ধারণ করলে অভিজ্ঞ বিচারক দক্ষতার সাথে অধিক সময় বিচারিক দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন। সুপারিশে আরো বলা হয়, বিচারকদের যোগ্যতা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে অন্যূন বিশ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে প্রকৃত কার্যকাল, অথবা বিচার বিভাগে অন্যূন বিশ বছর প্রকৃত বিচারিক দায়িত্ব পালন এবং তন্মধ্যে অন্তত তিন বছর জেলা জজের প্রকৃত দায়িত্ব পালন করতে হবে।
গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে হাইকোর্ট বিভাগে ১৮ বিচারপতি নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেছিলেন, উচ্চ আদালতে একের পর এক বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হলেও আইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে না। আইন বা নীতিমালা তৈরির জন্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি দীর্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে বলে জানান তিনি।
আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিচারক নিয়োগে আইন প্রণয়নের কাজ হাতে নেয়া হয়েছিল। আইনটির খসড়া চূড়ান্ত না করতেই এ কার্যক্রম আবার বন্ধ হয়ে যায়। এ আইনটি আদৌ প্রণয়ন করা হবে কি না এ ব্যাপারে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়নে সরকার সম্পূর্ণ একমত। শুধু আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নয়, খসড়াও প্রায় তৈরি হয়ে গেছে। কিছুদিনের মধ্যে এটা মন্ত্রিপরিষদের সভায় উত্থাপন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

 


আরো সংবাদ

Instagram Web Viewer
agario agario - agario
hd film izle pvc zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Canlı Radyo Dinle Yatırımlık arsa Tesettürspor Ankara evden eve nakliyat İstanbul ilaçlama İstanbul böcek ilaçlama paykasa