২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বিআইডব্লিউটিসির ক্রয় প্রকল্পে নন-টেকনিক্যাল পরিচালক

মানসম্মত জাহাজ বুঝে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা
-

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ৩৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ ও ৮টি জলযান সংগ্রহ প্রকল্পে একজন নন-টেকনিক্যাল পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। জাহাজ কেনার কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা এ পরিচালকের নেই। অভিযোগ রয়েছে, একটি বিশেষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পছন্দের কারণে ১৩১৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ের বড় এ প্রকল্পে একজন অনভিজ্ঞ পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে উপপরিচালক হিসেবে বিআইডব্লিউটিসির দুইজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে; যাদের একজন নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করতে পারেননি।
এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস সামাদ বলেন, প্রকল্প পরিচালক একটি ম্যানেজারিয়াল পোস্ট। তার সাথে বহু টেকনিক্যাল মানুষ থাকবেন। কাজ করবেন দেশী-বিদেশী অভিজ্ঞজনেরা। ফলে সঠিক মানের জাহাজ বুঝে নিতে কোনো সমস্যা হবে না।
জানা গেছে, এ প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সৈয়দ মো: তাজুল ইসলামকে। আর উপপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী ও মো: জিয়াউল ইসলামকে। বর্তমানে মো: জিয়াউল ইসলাম ‘বিআইডব্লিউটিসি’র ডাম্পফেরি প্রতিস্থাপনকল্পে দুটি উন্নতমানের কে-টাইপ ফেরি নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক। এ প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালের জুনে এটি শেষ করার কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে এ প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিসির দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সংস্থাটির এটিই সবচেয়ে বড় অঙ্কের প্রকল্প। ‘বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান ক্রয় এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ শীর্ষক এ প্রকল্পের আওতায় সংস্থার বহরে একই সঙ্গে সর্বোচ্চসংখ্যক জলযান সংযুক্ত হবে। এটি পুরোপুরি কারিগরি প্রকল্প। কিন্তু এ সংক্রান্ত কারিগরি অভিজ্ঞতা নেই এমন কর্মকর্তা প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটিকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। এমনকি মানসম্মত জাহাজ বুঝে পাওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তারা আরো বলেন, এসব জলযান নির্মাণের উদ্দেশ্য হচ্ছে যাত্রীসেবা দিয়ে সংস্থাটির আয়ের খাত তৈরি করা। কিন্তু সঠিক মানের জাহাজ বুঝে নিতে না পারলে যাত্রীসেবা ও আয় কোনোটি হবে না। উল্টো এসব রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন খাতে বিপুল অঙ্কের টাকা গচ্চা দিতে হবে। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিসির যাত্রীসেবা খাতটি লোকসানে রয়েছে।
জানা গেছে, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তদবির ছিল ওই প্রতিষ্ঠানটি যাতে বেশির ভাগ কাজ পায় সেই আয়োজন করা হচ্ছে। এতে সংস্থাটির কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 


আরো সংবাদ

Hacklink

ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme