২৪ মে ২০১৯

মিটফোর্ডে কর্মচারী নেতা বাবুলের সাম্রাজ্য

-

মিটফোর্ড হাসপাতাল এখন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নেতা বাবুলের সাম্রাজ্য। বাবুল যা বলেন তাই এখানে আইন। প্রশাসন এখানে অকার্যকর। ছিনতাই, মাদক ব্যবসায়, নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ করার পরেও তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি হয় না। সব সরকারের আমলেই তিনি ওই সাম্রাজ্যের রাজা। কোনোকালে এই বাবুলের বিরুদ্ধে কেউ টুঁ শব্দটিও করতে পারে না। এ দিকে বাবুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মোজাফফর হোসেন বাবুল মিটফোর্ড হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি। হাসপাতাল থেকে বরখাস্ত হলেও নেতাগিরি ঠিই চলছে ধুমধামে। শুধু মিটফোর্ড হাসপাতালেই নয়; তার অপরাধের সাম্রাজ্য আশপাশেও বিস্তৃত। বুড়িগঙ্গা পার হয়ে ওপারে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত। কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া, কদমতলী, বাবুবাজার ব্রিজের ঢাল, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী ও ওয়ারীসহ বিভিন্ন এলাকায় তার বাহিনী সক্রিয়। ওইসব এলাকার ছিনতাই এই বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। শুধু ছিনতাই নয়; খুনেরও অভিযোগ রয়েছে বাবুল বাহিনীর বিরুদ্ধে। কেরানীগঞ্জের অমিতাবপুর সায়মন সেন্টারের গলিতে আলোচিত রবি হত্যা এর একটি। আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা ও জনপ্রতিনিধির বডিগার্ড ছিলেন ওই রবি। ৫০ লাখ টাকা চুক্তিকে তাকে হত্যা করা হয় বলে কথিত আছে। এর মধ্যে ৩০ লাখ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে বাবুলের বিরুদ্ধে। আর ২০ লাখ টাকা স্থানীয় এক মেম্বার নিয়েছেন বলে জানা যায়। বাবুল ছাড়াও এই হত্যা কমল, চাণ্ডাল সোহাগ, মিজান ও শরীফ অংশ নিয়েছিল বলে অভিযোগ আছে। আসামি করা হয়েছিল ইসলাম মেম্বারকে। কিন্তু পার পেয়ে যায় বাবুল। এই নিয়ে বাবুলের সাথে ইসলাম মেম্বারের বিরোধ হয়েছিল। পরে আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা মিলে মীমাংসা করে দেন। মামুন মার্ডারের সাথেও এই বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে জানা যায়। এই মামলায় মিজান, লিটন ও শামীমকে আসামি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তারা কিছুদিন জেলও খেটেছে। লিটন ও মিজান বাবুলের শিষ্য। এই মামলায় নিরপরাধ এক যুবলীগ নেতাকে ধরে নিয়েছিল পুলিশ। পরে থানা ঘেরাও করা হলে ছেড়ে দেয়া হয়। মিটফোর্ডের ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী কানা মান্নান বাবুলেরই লোক ছিল। মিটফোর্ড হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ছাদে তাকে গুলি করে হত্যা করে আল আমিন। এর এক দিন আগে মান্নানের সাথে বাবুলের মাদক কারবার নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল বলে কথা আছে। জানা গেছে, ওই খুনে অস্ত্র সরবরাহ করেছিল শাহিদা। তার দেহরক্ষী ছিল আবেদ নামের এক সন্ত্রাসী। ২০১৫ সালে ওয়ারী থানা পুলিশের গুলিতে আকাশ আহমেদ ফেরদাউস নামের এক ছিনতাইকারী নিহত হয় বলে জানা যায়। কামরুজ্জামান সুমন নামের এক ব্যবসায়ীর পাঁচ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেলে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে আকাশ নিহত হয়। ওই মোটরসাইকেলের চালক ছিল মিজান। আর মোটরসাইকেলে মাঝখানে যে ছিল সে বাবুল বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন।
মিজান ও লিটন বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা কারবার ও ছিনতাই করে আসছে। বাবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে মিজান ও লিটনকে শেল্টার দিচ্ছে। তার লিপ্সার শিকার হয়ে অনেক নারীর সর্বনাশ হয়েছে। এমনকি নার্সিং পড়তে এসে অনেক ছাত্রী বাবুলের কারণে পড়ালেখা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। সম্প্রতি হনুফা নামের এক কর্মচারীর মেয়েকে তিনি অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ আছে। তবে এই ব্যাপারে কেউ মুখ খুলেছে না।
এ দিকে, সম্প্রতি বাবুলকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে ওই সাংবাদিককে নানাভাবে হুমকি দেয় বাবুল। ইসহাক নামের এক ওয়ার্ড মাস্টার বলেছেন, হাসপাতালের কোনো তথ্য বাইরে জানাই না। অথচ কোনো সাংবাদিক বাবুলের বিরুদ্ধে কি নিউজ করেছে এখন হুমকি দিচ্ছে আমাকে।
এ দিকে, গতকাল সোমবার বিকেলে মোবাইল ফোনে কথা হয় বাবুলের সাথে। তিনি বলেন, এর আগে একটু-আধটু যা ছিলেন ১৫ বছর ধরে তিনি ফেয়ার আছেন। এই ১৫ বছরে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, আউট সোর্সিংয়ে নিয়োগ নিয়ে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে চাকরি দেয়ার ক্ষমতা রাখি না। তবে অনেক কর্মচারী রয়েছেন যারা অসুস্থ। তাদের সন্তানরা বিপথে চলে যাচ্ছে। ওই সন্তানদের মধ্যে দু-চারটিকে চাকরি দেয়া হয়েছে অনুরোধ করে।’ এর বাইরে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 


আরো সংবাদ

Instagram Web Viewer
agario agario - agario
hd film izle pvc zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Canlı Radyo Dinle Yatırımlık arsa Tesettürspor Ankara evden eve nakliyat İstanbul ilaçlama İstanbul böcek ilaçlama paykasa