১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

অপরাধীদের পক্ষ নেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে

-

এবার শীর্ষ তিন নেতার সিদ্ধান্তকে উপোক্ষা করে অপরাধীদের পক্ষ নিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। ফলে দোকান কর্মচারীর মাথা ফাটিয়েও দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা। অপকর্মের দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ হামজাকে সংগঠন থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। অবশ্য কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, তারা বহিষ্কার চান, কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আমির হামজাকে বহিষ্কারের সুপারিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী জানান, আমরাতো চাই তাকে বহিষ্কার করতে। কিন্তু আপনি সভাপতির সাথে কথা বলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, আমরা তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছি। আপনি কেন্দ্রীয় সভাপতির সাথে যোগাযোগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ কখনোই অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না। আমরা অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছি। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।
ছাত্রলীগের একাধিক নেতার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আমির হামজা কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারী। ফলে শোভনের আপত্তি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশের পরও আমির হামজার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এর আগে রোববার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এলাকায় সেবা ফার্মেসি দোকানে হামলা চালিয়ে শুভ নামে এক কর্মচারীর মাথা ফাটিয়ে দেন আমির হামজা ও সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল শাখা ছাত্রলীগের স্কুল-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হাসান ঝন্টু। গুরুতর আহতাবস্থায় শুভকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়। তার মাথায় আটটি সেলাই দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। এই ঘটনার খবর পেয়ে তাৎণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। তারা গিয়ে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারী আমির হামজার বিরুদ্ধে সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুরকে চাপাতি দিয়ে কোপাতে গিয়েছিলেন। রাজধানীর বাটা সিগন্যালের সামনে কোটা আন্দোলনের তিন নেতাকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিল চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। তবে সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগ নেতা আমির হামজা।
এ দিকে ঢাবি ছাত্রলীগ তাদেরকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করলেও কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে কোনো পদপে না নেয়ায় ােভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাবি ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, অপরাধীদের ছাত্রলীগে স্থান না দিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সুপারিশ করেছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটি এই অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ছাত্রলীগের সুনাম ুণœ হবে। তাদেরকে যত দ্রুতই বহিষ্কার করা হবে, ততই ভালো।
এ দিকে এর আগেও অপরাধীকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা দেখা গেছে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের কার্যক্রমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে এক সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জড়িত সাবেক ও বর্তমান দুই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তিনি তা বাস্তবায়ন করেননি। এমনকি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পবিত্র সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এই অপরাধীদের একজনকে সফরসঙ্গী করেছিলেন তিনি। অপর একজন মদের বারে সংঘর্ষের ঘটনায় বহিষ্কৃত হল ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধেও তিনি কোনো পদপে গ্রহণ করেননি।


আরো সংবাদ