১১ ডিসেম্বর ২০১৮

দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই : নজরুল ইসলাম খান

-

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার লেখা বইয়ের বক্তব্যই প্রমাণ করে বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ সহ বিভিন্ন জায়গায় আজকে সয়লাব হয়ে গেছে যে, তিনি (এসকে সিনহা) একটি বই লেখেছেন। সেই বই আমাজান (অনলাইন শপিং মাধ্যম) বলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রকাশনা সংস্থা তারা সেটি প্রকাশ করেছে। তার মধ্যে উনি অনেক কথা লিখেছেন। সেসব কথা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রমাণ করে না। প্রমাণ করে যে, প্রশাসন অর্থাৎ সরকার ও তার অন্যান্য বিভাগ বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে। তাহলে কী দাঁড়াল? পঁচাত্তরের যেটি করা হয়েছিল আইন করে। এখন করা হচ্ছে কৌশলে। কিন্তু বাস্তবতা একই।
জাতীয় প্রেস কাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরামের উদ্যোগে ‘নিরপে নির্বাচন আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ভূমিকা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সহসভাপতি মজিবর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, ফরিদ উদ্দিন, শাহজাহান মিয়া সম্র্রাট প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আজকে বিচার বিভাগ আইনে প্রশাসনের অধীনে নয়। কিন্তু বাস্তবে অবস্থা কী? নি¤œ আদালতের এক বিচারক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে খালাস দিয়েছিলেন- তিনি দেশে থাকতে পারেননি। সর্বোচ্চ আদালতে প্রধান বিচারপতিসহ সব বিচারপতিরা একমত হয়ে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করলেন। সেই রায়ে কিছু মন্তব্য করার জন্য প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ এবং দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। তার অর্থ কী? বিরোধী রাজনৈতিক দল থাকতে পারবে না, স্বাধীন মিডিয়া থাকতে পারবে না, স্বাধীন বিচার বিভাগ থাকতে পারবে না। তাহলে গণতন্ত্র থাকবে কী করে? যাকে ঘিরে এক বছর আগে বাংলাদেশের বিচারাঙ্গনে রীতিমতো ভূমিকম্প ঘটে গিয়েছিল, সেই বিচারপতি এসকে সিনহা বিদেশে বসে একটি বই লিখেছেন, যেখানে দেশত্যাগ ও পদত্যাগ নিয়ে এসেছে বেশ কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য।
সরকারকে নিয়মতান্ত্রিক পথে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, জনগণ চায় বেগম খালেদা জিয়া বেরিয়ে আসুক। তার নেতৃত্বে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নিবার্চন হোক। সেই নির্বাচনে জনগণ সিদ্ধান্ত দেবে কারা আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। আমরা সেই দাবি করছি। সরকার এই দাবি না মানলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন হবে। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার যদি নিয়মতান্ত্রিক পথে না হাটে, মানবিক পথে না হাটে, যদি জনগণের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন অব্যাহত রাখে তাহলে নিশ্চয়ই অতীতে যারা স্বৈরশাসক ছিল তাদের বিরুদ্ধে যেমন গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন হয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধেও হবে। বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করবে।


আরো সংবাদ