১৭ নভেম্বর ২০১৮

ফ্রিজ, এসি ও কম্প্রেসার তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তার দাবি

-

রেফ্রিজারেটর, এসি এবং কম্প্রেসর তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদে নীতি সহায়তা দাবি করেছে বাংলাদেশ রেফ্রিজারেটর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বলা হয়, এক সময় ফ্রিজ ও এসির বাজার ছিল পুরোটাই আমদানিনির্ভর।
এখন দেশেই এসব পণ্য তৈরি করছে ওয়ালটন, মিনিস্টার, প্রাণ, যমুনার মতো কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ খ্যাত ফ্রিজ, এসি রফতানি হচ্ছে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। সম্প্রতি স্যামসাং এলজিসহ কিছু বহুজাতিক ব্র্যান্ড এ দেশে ফ্রিজ, এসি কারখানা স্থাপন করেছে।
সম্ভাবনাময় এ শিল্প খাতের বিকাশ চলমান রাখতে বিদ্যমান শুল্ক সুবিধা অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিল্পবান্ধব শুল্ক ও নীতি সহায়তায় আকৃষ্ট হয়েই দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তারা এখানে বিনিয়োগ করেছেন। পূর্ণাঙ্গ বিকাশের লক্ষ্যে নতুন প্রোডাকশন লাইন স্থাপন, লেটেস্ট প্রযুক্তি সংযোজন, পণ্য গবেষণা ও উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণসহ এ শিল্পের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ আরো বাড়ানো প্রয়োজন। কিন্তু বিদ্যমান শুল্কসহায়তা অব্যাহত না থাকলে এক্ষেত্রে বিনিয়োগ আসবে না।
এতে বলা হয়, স্থানীয়পর্যায়ে গড়ে ওঠা ফ্রিজ ও এসি উৎপাদন শিল্পে আগামী জুন পর্যন্ত ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা রয়েছে। উদ্যোক্তারা চাইছেন, সরকার এ শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ঘোষণা করুক। তাহলে বিনিয়োগ বাড়বে, রফতানি বাজার বাড়বে।
দেশের কম্প্রেসর উৎপাদকরা কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছেন জানিয়ে এতে বলা হয়, বিদেশ থেকে সম্পূর্ণ তৈরি কম্প্রেসর আমদানিতে সর্বসাকুল্যে ৫ শতাংশ শুল্ক এবং অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি রয়েছে। অথচ দেশে যারা কম্প্রেসর উৎপাদন করছে তাদের দিতে হচ্ছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। আবার কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক দিতে হচ্ছে ৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। তার মানে, সম্পূর্ণ তৈরি কম্প্রেসর আমদানি শুল্কের চেয়ে দেশীয় উৎপাদিত কম্প্রেসরে শুল্কের পরিমাণ বেশি। অর্থাৎ উৎপাদনের চেয়ে আমদানি লাভজনক। এই অসম ভ্যাট ও শুল্ক কাঠামোকে স্থানীয় কম্প্রেসার উৎপাদন শিল্প বিকাশের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাজেই স্থানীয় উৎপাদনে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হোক এবং ভারসাম্যমূলক শুল্ক আরোপ করা হোক।

 


আরো সংবাদ