বেটা ভার্সন
বরিশাল বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন

অর্থ ব্যয় হয়নি : তবুও ৩৯৪ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব

-

প্রকল্পের টাকা ব্যয় হয়নি। ওই অবশিষ্ট অর্থের কার্যক্রম সম্পন্ন না করেই পুনরায় ৩৯৪ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে। আর এই ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে। দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মতোই এই প্রকল্পের অবস্থা। নির্ধারিত মেয়াদে প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি মাত্র ৬৫ শতাংশ। অথচ হাতে টাকা, কাজও বাকি। মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগে এসে সময় আরো দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বেশ কয়েকটি প্রকল্প চলমান আছে। তারপরও ২০১৩ সালের জুনে পুরো বিভাগের জন্য আবার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। ৬৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৪৩২ কোটি ৯০ লাখ টাকা আর কাজের বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৬৫ শতাংশ। প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রম হলোÑ ১০টি গ্রোথ সেন্টার নির্মাণ, ঘাট নির্মাণ ২০টি, মাটির কাজ, সড়ক নির্মাণ এক হাজার ১০৯.৬৫ কিলোমিটার, ব্রিজ ৫ হাজার ৫৫৬.৯৩ মিটার ও বৃক্ষরোপণ ৩২২.০১ কিলোমিটার। এইসব কাজের অনেক এখনো শুরুই হয়নি। অথচ ব্যয় ৩৯৪ কোটি টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৭০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে স্থানীয় সরকার বিভাগের বক্তব্য হলো, পটুয়াখালী ও বরগুনায় দু’টি উপজেলা সৃষ্টি হওয়ায় নতুন কিছু সড়ক উন্নয়ন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত স্কিম অন্তর্ভুক্তি, রেট পরিবর্তন, নতুন করে কালর্ভাট, ইউড্রেন যুক্ত করায় ব্যয় বাড়ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের চাহিদা, বরিশালে শেখ হাসিনা ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন, পায়রা সমুদ্রবন্দর স্থাপনের কারণে যোগাযোগের কিছু অঙ্গ যুক্ত হয়েছে। আবার ঘাট নির্মাণ, গ্রোথ সেন্টার ও গ্রামীণ বাজার এবং বৃক্ষরোপণ করেছে। প্রকল্পের ব্যয় এলজিইডির ২০০৯-২০১০ অর্থবছরের রেট শিডিউল ধরে প্রাক্কলন করা হয়। এখন নতুন করে রেট শিডিউল ২০১৭-১৮ অনুযায়ী ব্যয় প্রাক্কলন করা হচ্ছে। বাস্তবায়নকাল আরো দুই বছর বৃদ্ধির কারণে রাজস্ব ব্যয় বাড়বে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা) চলমান আছে। যা ২০২২ সালের জুনে শেষ হবে। ৪৫৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (ভোলা জেলা) চলমান আছে। এটাও ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। এ ছাড়া ৪৯২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বৃহত্তর পটুয়াখালীর গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা) চলমান আছে। এটিও ২০২০ সালের জুনে শেষ হবে। বরিশাল বিভাগের এই প্রকল্পটিতেও একই জেলা ও উপজেলা রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্র বলছে, পরিপত্র অনুযায়ী বিশেষ প্রকল্প ছাড়া সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ তিন বছর করার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। তারপরও প্রকল্পটি পাঁচ বছর মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন আছে। আবারো দুই বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ওই পরিপত্রের পরিপন্থী। প্রকল্পটির মেয়াদ না বাড়িয়ে যদি একান্তই প্রয়োজন হয় তবে, নতুন প্রকল্প আকারে বা চলমান প্রকল্পের সংশোধনের সময় তা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। প্রকল্পের বেশ কিছু অঙ্গের ব্যাপারে ডিপিপিতে কোনো ব্যাখ্যা পরিষ্কার করা হয়নি। সড়ক নির্মাণ শিরোনামে একক ব্যয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম সড়কের ব্যয় আলাদা হবে। এখানে গড়ে ৬০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে প্রতি কিলোমিটারে সড়ক উন্নয়ন।


আরো সংবাদ