১৮ নভেম্বর ২০১৯

মৌসুমীকে কাঁদিয়ে মিশা-জায়েদ প্যানেলের বিজয়

মৌসুমীকে কাঁদিয়ে মিশা-জায়েদ প্যানেলের বিজয় -

শুক্রবার দিনব্যাপী ভোট গ্রহণের ঘন্টাখানেক পরেই বিএফডিসিতে গুণজন উঠে সভাপতি পদে বিজয়ী হচ্ছেন অভিনেত্রী মৌসুমী। কিন্তু এদিন দিবাগত রাত ২টায় এই রিপোর্ট লেখার সময় জানা যায় পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়েছেন মিশা সওদাগর ও জায়েদ খানের প্যানেল। আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা না হওয়ায় ভোটের ব্যবধান জানা যায়নি। পরাজয়ের ইঙ্গিত পেয়ে রাত দেড়টার দিকে বিএফডিসি প্রাঙ্গন ত্যাগ করেন স্বতন্ত্র ভাবে সভাপতি পদে নির্বাচন করা মৌসুমী। এর কিছুক্ষন পর ওমর সানী তার ফেসবুকে লিখেন, ‘আসলেই চলচ্চিত্র মরে গেছে, না মরলে এগুলি হওয়ার কথা না’।

এর আগে এফডিসিতে নায়ক মান্না ডিজিটাল কমপ্লেক্সের সামনে বসানো হয় মনিটর। যে কক্ষে ভোটগণনা চলছে, সবাই তার যাবতীয় প্রত্যক্ষ করেন স্ক্রিনে।

তখন নায়ক মান্না ডিজিটাল কমপ্লেক্সের সামনে মনিটরের সামনে বসেছিলেন সভাপতি প্রার্থী মৌসুমী। তার পাশে বসেছিলেন আরেক অভিনত্রী পপি। সাথে ছিল তার সমর্থকেরা। রাত দেড়টার দিকে ওই স্থান ত্যাগ করেন মৌসুমী। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, এবারও পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে জয়ী হতে চলেছেন মিশা-জায়েদ। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। এরই মধ্যে মিশা-জায়েদের কর্মী-সমর্থকেরা বিজয় মিছিল শুরু করেছেন এফডিসি প্রাঙ্গণে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবার ৪৪৯ ভোটের মধ্যে কাস্টিং হয়েছে ৩৮৬ ভোট। ১৮ পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ২৭ জন। এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ, চলে বিকেল ৫টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। সারাদিন এফডিসিতে বসে তারকার হাট। ভোটগণনা শুরু হয় সন্ধ্যা ৬টায়।

এবার সমিতির ২১টি পদের মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে ১৮টি পদের। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বাকি তিন পদের প্রার্থীকে সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁরা হলেন—সুব্রত (সাংগঠনিক সম্পাদক), জ্যাকি আলমগীর (দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক) ও ফরহাদ (কোষাধ্যক্ষ)।

এবারের নির্বাচনে মিশা-জায়েদ প্যানেল করে নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী স্বতন্ত্র হিসেবে সভাপতি পদে লড়ছেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী খলনায়ক মিশা সওদাগর। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াস কোবরা, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী চিত্রনায়ক জায়েদ খান। নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মিশা-মৌসুমীর।

এদিকে, এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও বিভিন্ন সূত্রের খবর, কার্যকরী পরিষদ সদস্যের ১১টি পদেই এগিয়ে আছেন মিশা-জায়েদ প্যানেলের সদস্যরা। ১১টি পদের জন্য প্রার্থী ১৪ জন। এঁদের মধ্যে মিশা-জায়েদ প্যানেলের প্রার্থী অঞ্জনা সুলতানা, রোজিনা, অরুণা বিশ্বাস, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, বাপ্পারাজ, আসিফ ইকবাল, আলেকজান্ডার বো, জেসমিন, জয় চৌধুরী ও মারুফ আকিব। বাকি তিনজন রঞ্জিতা, নাসরিন ও শামীম খান (চিকন আলী) স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছেন।

গত ৫ অক্টোবর ২০১৯-২১ মেয়াদের শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। সভাপতি পদে লড়াই করছেন মৌসুমী ও মিশা সওদাগর। সহসভাপতির দুটি পদে চিত্রনায়ক রুবেল ছাড়াও প্রার্থী হয়েছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও নানা শাহ। সহসাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন আরমান ও সাংকো পাঞ্জা। আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে লড়ছেন নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ ও চিত্রনায়ক ইমন। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে লড়ছেন জাকির হোসেন ও ডন। এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।


আরো সংবাদ