১৫ অক্টোবর ২০১৯

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা সংবিধান পরিপন্থী : জমির উদ্দিন সরকার

খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা সংবিধান পরিপন্থী : জমির উদ্দিন সরকার - নয়া দিগন্ত

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কোন সাজাই চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। এমতাবস্থায় জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে রাখা সম্পূর্ণরুপে সংবিধান ও মানবাধিকার পরিপন্থী। তিনি বলেন , বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা প্রদানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, প্রতিহিংসাপূরণ এবং শুধু মাত্র বেগম জিয়াকে হয়রানি ও বিপর্যস্ত করার জন্য। এখন দেশে-বিদেশে বিভিন্ন অধিকার গ্রুপ, মানবাধিকার সংস্থা এমনকি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সরকারগুলোর পক্ষ থেকেও বেগম জিয়ার মামলা কে সাক্ষ্য প্রমাণহীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলে অভিহিত করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি চেয়ারপারসনের সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিএনপির আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান,বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম,বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে এক শোচনীয় পরিনতির দিক ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, কারাগারে অবস্থানকালীন তাঁর কক্ষের বাথরুমে তিনি পড়ে গিয়ে প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছেন। নির্জন, নিঃসঙ্গ,নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে তার নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষন্নতাসহ মানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবণা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি তার আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী -এমপিদের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, সরকারের মন্ত্রী ও এমপিরা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছে, যা শুধু অমানবিকই নয় সরকারের নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনের বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এই বক্তব্য একজন বন্দীর মানবাধিকারকে অবজ্ঞা করার শামিল এবং এই বক্তব্য কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য। সরকার দলীয় মন্ত্রী ও নেতাদের নিষ্ঠুর রসিকতা একটি স্বৈরাচারী সরকারের ভয়াবহ রুপটিই ফুটে ওঠে।

জমির উদ্দিন সরকার বলেন, সরকারের লোকজন শুরু থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার যথাযথ সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করছে বলে দেশ ও বিশ্ববাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে আসছেন, কিন্তু কারাগারে থাকার সময় বন্দী দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার উদ্যোগ নেয়ার কোন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ আজও দেশ ও বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং সাম্প্রতিককালে সরকার নিয়োজিত চিকিৎসকদল তার স্বাস্থ্য বিষয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তাতে এক বছর পূর্বে ব্যক্ত সকল অনুমান ও শংকা অক্ষরে অক্ষরে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ফলে সরকারের সুচিকিৎসার দাবীকে সাম্প্রতিক মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট বিন্দুমাত্র সমর্থন করছে না। এই মেডিকেল বোর্ডের লিখিত প্রতিবেদনে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে শংকা ও পূর্বানুমিত ক্রমাবনতির ধারণা এখন প্রতিনিয়ত মারাত্মক অবনতির চিত্রই ক্রমাগত ফুটে উঠছে।


আরো সংবাদ




astropay bozdurmak istiyorum