২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আমি অনিচ্ছাকৃত ভুল করেছি : ফেরদৌস

আমি অনিচ্ছাকৃত ভুল করেছি : ফেরদৌস - সংগৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন অভিনেতা ফেরেদৌস। এই ধারাবাহিকতা তিনি ভারতে গিয়েও ধরে রেখেছিলেন। যার জন্য তিনি ভারতে কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন। 

এ সম্পর্কে ফেরদৌস বলেন ‘আমি স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অন্য একটি দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ কোনোভাবেই উচিত হয়নি। আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট সকলে আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’ 

ভারতের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়াটাকে ভুল মনে করছেন এই নায়ক। তিনি ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী বলেও জানান তিনি।

শর্ত ভঙ্গের কারণে ভারত সরকার ভিসা বাতিল করেছে এই অভিনেতার। দেশের বেশ কয়েকবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নায়ক শুটিং করতে ১২ এপ্রিল কলকাতায় যান। সেখানে শুটিংয়ের ফাঁকে তৃণমূলের পক্ষে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেন। এই প্রচারণায় অংশ নিয়েই বিপাকে পড়েন তিনি। ভারত সরকার ভিসা বাতিলের পাশাপাশি কালো তালিকাভুক্ত করে তাঁকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেয়। মঙ্গলবার রাতের ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় ফেরেন।

ফেরদৌস বলেন, ‘অভিনয়শিল্প আমার একমাত্র নেশা ও পেশা। অভিনয়শিল্পের মাধ্যমে বাংলা ভাষাভাষী সকলের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরিতে সর্বদা কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার ভাবতে ভালো লাগে, দুই বাংলায় মানুষ আমাকে সমানভাবে ভালোবাসেন। দুই বাংলার মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনাচারে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। আবার ভারত বহু কৃষ্টি-কালচারের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ একটি দেশ। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের অবদান আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। পাশাপাশি ভারতের জনগণের ত্যাগ-তিতিক্ষা আমাদের চিরঋণী করে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহুদিনের। এখানের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক শিল্পী, সাহিত্যিক আমার বন্ধু। যাদের সঙ্গে আমি সব সময়ে হৃদ্যতা অনুভব করি। এ জন্য বিভিন্ন সময় কারণে অকারণে আমি এখানে চলে আসি।’

ফেরদৌস এও বলেন, ‘ভারতে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের এই নির্বাচন পূর্বের মতো সাড়া বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। এই সময়টায় আমি ভারতে অবস্থান করছিলাম। সকলের মতো আমারও আগ্রহের জায়গায় ছিল এই নির্বাচন। ফলে ভাবাবেগে তাড়িত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের একটি নির্বাচনী প্রচারণায় আমি আমার সহকর্মীদের সাথে অংশগ্রহণ করি। এটা পূর্বপরিকল্পনার কোনো অংশ ছিল না। শুধুমাত্র আবেগের বশবর্তী হয়ে আমি অংশগ্রহণ করেছি। কারও প্রতি বিশেষ আনুগত্য প্রদর্শন বা কোনো বিশেষ দলের প্রচারণার লক্ষ্যে নয়, আবার কারও প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। ভারতের সকল রাজনৈতিক দল এবং নেতার প্রতি আমার সম্মান রয়েছে। আমি ভারতের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।’

গত রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কানহাইয়ালাল আগরওয়ালের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন ফেরদৌস। ফেরদৌস রায়গঞ্জ আসনের করণদিঘি থেকে ইসলামপুর পর্যন্ত তৃণমূলের প্রচার মিছিলে অংশ নেন। এলাকাটি বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে। নির্বাচনী ওই প্রচারে ফেরদৌসের সঙ্গে ছিলেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার দুই তারকা অঙ্কুশ হাজরা ও পায়েল।

ফেরদৌসের অংশগ্রহণের পর তীব্র প্রতিবাদ করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, ‘তৃণমূল তো বিদেশি তারকা এনে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে।’ তার এ অংশগ্রহণের বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ করে বিজেপি। এরপর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে প্রতিবেদন চায়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপরই মঙ্গলবার রাতে বিমানে ঢাকায় ফেরেন ফেরদৌস। এদিন রাত সাড়ে আটটায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে ঢাকায় রওনা হন তিনি।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat Paykasa buy Instagram likes Paykwik Hesaplı Krediler Hızlı Krediler paykwik bozdurma tubidy