২৩ আগস্ট ২০১৯

ভারতে নির্বাচন : ফেরদৌসের পর বিতর্কে আরেক বাংলাদেশী অভিনেতা

গাজি আব্দুন নুর - ছবি : সংগৃহীত

ভারতের নির্বাচনের প্রচারণায় নেমে সমালোচিত হয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিতের এক সময়ের শীর্ষ নায়ক ফেরদৌস। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরত যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরই প্রকাশ্যে আসে, একই ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর হয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন আরেক বাংলাদেশী অভিনেতা। তার নাম অভিনেতা গাজি আব্দুন নুর।

নুর বাংলাদেশে অভিনেতা হিসেবে খুব একটা পরিচিত না হলেও কলকাতার কয়েকটি জনপ্রিয় বাংলা টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করার সূত্রে সেখানে পরিচিত মুখ।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলেই বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার এবং শিশির বাজোরিয়া পশ্চিমবঙ্গের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা আরিজ আফতাবের সঙ্গে দেখা করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, তারা একটি ভিডিও জমা দিয়েছেন কমিশনকে। সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দমদমের তৃণমূল প্রার্থী সৌগত রায়ের রোড শোতে একটি প্রচার গাড়ি থেকে গাজি নুর জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ছেন। তার পাশে তৃণমূল নেতা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র।

নির্বাচন কমিশন যদিও বিজেপির করা ওই অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোন মন্তব্য করেনি। তবে কমিশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচনী বিধিতে অন্য দেশের কোনও নাগরিককে দিয়ে নির্বাচনী প্রচার করানো যাবে না, এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট নির্দেশ নেই। তাই গোটা বিষয়টি আমরা দিল্লিতে প্রধান নির্বাচনী দফতরে জানাচ্ছি। তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এর আগে রায়গঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী কানহাইয়ালাল আগরওয়ালের হয়ে প্রচার করে শোরগোল ফেলে দেন ফেরদৌস। সেক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানায় বিজেপি ও সিপিএম। অবশ্য তার আগেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা জরুরি ভিত্তিতে ফেরদৌসকে নিয়ে একটি রিপোর্ট পাঠান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। সেই রিপোর্ট দেখেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট চায়। সেই রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে ফেরদৌস তার ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। তার পরই তার ভিসা বাতিল করে কালো তালিকাভুক্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জানানো হয় বাংলাদেশ দূতাবাসকেও। মঙ্গলবারই ঢাকায় ফিরতে বাধ্য করা হয় ফেরদৌসকে।

নুরের বিরুদ্ধেও একই রকম কড়া ব্যবস্থা নিতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই কলকাতার এফআরআরও দফতরকে নুরের ভিসা সম্পর্কিত বিশদ তথ্য পাঠাতে বলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই দফতর কলকাতা পুলিশের আওতাধীন। সেই রিপোর্ট পেলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জানা গেছে মন্ত্রণালয় সূত্রে।

প্রসঙ্গত বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট উপজেলায় অভিনেতা নুরের বাড়ি । কলকাতায় যান ২০১১ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিনয়ের উপর পড়াশোনা করতে।


আরো সংবাদ




mp3 indir bedava internet