১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন হৃতিক, বিচার দাবি কঙ্গনার

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন হৃতিক, বিচার দাবি কঙ্গনার - সংগৃহীত

‘মি টু’ ঝড় বইছে সামাজিক মাধ্যমে। তনুশ্রী দত্ত যৌন হেনস্তা নিয়ে মুখ খোলার পর একে একে বলিউডের অনেক অভিনেত্রী হেনস্তা নিয়ে কথা বলা শুরু করেছেন। যৌন হেনস্তা নিয়ে কথা বলেছেন সোনম কাপুর, স্বরা ভাস্কর, চিত্রাঙ্গদা সিংসহ অনেকেই। ‘হ্যাশ ট্যাগ মিটু’ ঝড়ে ইতিমধ্যেই নাম জড়িয়েছে বলিউডের জনপ্রিয় প্রযোজক থেকে শুরু করে পরিচালক অভিনেতাদের। শক্তিমান অভিনেতা নানা পাটেকার থেকে শুরু করে বিকাশ বহেল, গণেশ আচার্য কিংবা অলোক নাথ—বলিউডের একাধিক জনপ্রিয় মুখকে নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে সমালোচনা। এবার সেই তালিকায় জুড়ল হৃত্বিক রোশনের নাম। পরিচালক বিকাশ বহেলের পর এবার আবারও হৃত্বিকের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন ‘কুইন’ কঙ্গনা।

কঙ্গনা বলেন, ‘বিকাশ বহেলের মতো অনেকেই ইন্ড্রাস্ট্রির আশেপাশে রয়েছেন। তাদের খুঁজে বের করে মুখোশ ছিঁড়ে দিতে হবে। মহিলাদের জন্য রূপোলি জগতকে আরও নিরাপদ তৈরি করতে হবে। কোনও মহিলার সাথে যাতে কেউ অশালীন ব্যবহার না করেন সেদিকে নজর দিতে হবে আমাদের।’

তিনি আরও জানান, বলিউডে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যাঁরা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিংবা কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে অভিনেত্রীদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন। তাদের ব্যবহার করেন। এবার সেই সমস্ত মানুষদেরও টেনে বের করতে হবে বলে খোঁচা দেন কঙ্গনা। আর এরপরই হৃত্বিক রোশনের নাম নেন ‘মণিকর্ণিকা’-এর লক্ষ্মীবাই। হৃত্বিক তার সাথে যা করেছেন, তাতে তার শাস্তি পাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন কঙ্গনা।

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হৃত্বিক তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেছে, আগেও এই অভিযোগে সরব হয়েছিলেন কঙ্গনা রানাউত। তার নগ্ন ছবি ঋত্বিক প্রকাশ্যে আনেন বলেও অভিযোগ অভিনেত্রীর। এই অভিযোগ সামনে আসার পরই বলিউডে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে কঙ্গনার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন রাকেশ রোশন পুত্র। কঙ্গনা মিথ্যে অভিযোগ করেছেন বলে তোপও দাগেন তিনি। ‘কুইন’-কে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন হৃত্বিক। ‘মি টু’ ঝড়ের মাঝে কঙ্গনার এই অভিযোগে নতুন করে আবারও বলিউডে কানাঘুষো শুরু হয়েছে।

মুখ খুললেন ঐশ্বরিয়াও

মুখ খুললেন সাবেক বিশ্ব সুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। লরিয়েলের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ঐশ্বরিয়া রাই বলেন, ‘বর্তমানে নারীরা যেভাবে যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন, তাকে আমি স্বাগত জানাই। আপনি বিশ্বের যেখানেই থাকেন না কেন, যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ সংবাদমাধ্যম এখন গুরুত্ব দিয়ে শুনতে শুরু করেছে। সবার সামনেই এখন তা প্রকাশ হচ্ছে। এটি ভালো পদক্ষেপ।’

‘দেবদাস’, ‘জোধা আকবর’, ‘হাম দিল দে চুকে সমন’ তারকা রাই বলেন, নারীদের ওপর হেনস্তার ঘটনা নতুন নয়। বহুকাল ধরে এসব চলে আসছে। কিন্তু নারীরা যেভাবে এবার যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন, তা দেখে ভালো লাগছে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে বিশ্ব এখন ছোট হয়ে এসেছে। ছোট ছোট কথা এখন ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করেছে।

‘মোহাব্বাতেন’, ‘রেইনকোট’ ও ‘ধূম ২’ তারকা ঐশ্বরিয়া রাই সাংবাদিকদের বলেন, এটা কোনো একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করাটা ঠিক হবে না। তবে যাঁরা হেনস্তা নিয়ে কথা বলছেন, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

আরো পড়ুন : মিটু ঝড়ে টালমাটাল বলিউড : ধরা পড়ছে রাঘব-বোয়ালরা
নয়া দিগন্ত অনলাইন ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:৪৭

অভিনেতা নানা পাটেকর, পরিচালক বিকাশ বহেল-এর পরে ‘সংস্কারী বাপুজি’ অলোক নাথ। #মিটু-র প্যান্ডোরার বাক্স খুলে গিয়ে এই পর্বে সংবাদমাধ্যম এবং বিনোদন জগতে যতগুলো নিগ্রহের অভিযোগ উঠছে, তার মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগ অলোকের বিরুদ্ধেই। একাধিক বার ধর্ষণের অভিযোগ উঠছে তার নামে।

নব্বই দশকের জনপ্রিয় টিভি সিরিজের লেখক-প্রযোজক বিনতা নন্দা আগের দিন তার ফেসবুক পোস্টে দু’দশক আগে তার উপরে যে নির্যাতন হয়েছিল, তা সবিস্তার লিখেছেন। অলোক নাথের নাম না করে সেখানে শুধু ‘সংস্কারী’ অভিনেতা বলা ছিল। পোস্টটি ভাইরাল হতে দেরি হয়নি। এ দিন সংবাদ সম্মেলনে অলোকের নামও নেন বিনতা।


প্রবীণ অভিনেতাটি পরে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘‘বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার, কিছুই করছি না! ধর্ষণ নিশ্চয়ই হয়েছে। কিন্তু অন্য কেউ তার জন্য দায়ী।’’ 

বিনতার পোস্ট বলছে, বিনতারই লেখা টিভি সিরিজ ‘তারা’য় সহ-অভিনেত্রীকে লাগাতার নিগ্রহ করছিলেন অলোক। বিনতা তখন অলোককে ওই সিরিজ থেকে বাদ দেন। তার পর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোরালো হয়। প্রথমত অলোককে ফেরাতে চাপ আসতে থাকে, দ্বিতীয়ত বিনতার কাজের সুযোগ কমতে থাকে।

বিনতা লিখেছেন, কাজের স্বার্থে তাকে অলোকের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হচ্ছিল। অলোকের বাড়ির এক পার্টিতে সম্ভবত তার পানীয়ের মধ্যে কিছু মিশিয়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ। অস্বস্তি বোধ করায় পার্টি থেকে বেরিয়ে বিনতা একাই বাড়ি ফিরছিলেন। ‘‘মাঝপথে অলোক গাড়ি নিয়ে হাজির। বললেন, বাড়িতে নামিয়ে দেবেন। এর পর শুধু মনে আছে, আমার মুখে মদ ঢালা হচ্ছে আর উপর্যুপরি ধর্ষণ করা হচ্ছে। ঘুম ভাঙল পর দিন বিকেলে। যন্ত্রণায় বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছিলাম না।’’

রুজির টানে অলোকের আরো একটি সিরিজ লেখার কাজ করেন। তখনও অলোক তাকে ফের ধর্ষণ করেন বলে দাবি বিনতার। তার অভিযোগ আজ আরো পোক্ত হয়ে গেছে ‘তারা’ সিরিজের অভিনেত্রী নবনীত নিশান মুখ খোলায়। অলোকের নাম তিনি নেননি, কিন্তু বিনতাকে সমর্থন করে বলেছেন, টিভি সিরিজের শুটিংয়ে চার বছর ধরে হেনস্থা সহ্য করেছিলেন তিনি নিজে। তার পরে সহ-অভিনেতাকে চড় মেরে বিষয়টিতে ইতি টানেন।

‘সিনে অ্যান্ড টিভি আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (সিন্টা) অলোককে নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিনতা খুশি যে, বছর কয়েক আগেও যখন তিনি মুখ খুলেছিলেন, তখন কেউ নড়ে বসেনি। আজ পরিস্থিতি বদলেছে, এটাই লাভ। নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে অভিযোগেও অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের বিবৃতি রেকর্ড করা হবে বলে জানিয়েছে মুম্বই পুলিশ। মহারাষ্ট্র মহিলা কমিশন নানা, নৃত্যপরিচালক গণেশ আচার্য, প্রযোজক সামি সিদ্দিকি, পরিচালক রাকেশ সারংকে নোটিশ পাঠাচ্ছে। এ দিনই ‘স্ত্রী’ ছবির অভিনেত্রী ফ্লোরা সাইনি শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ এনেছেন প্রযোজক গৌরাঙ্গ দোশির বিরুদ্ধে। ফ্লোরার দাবি, ‘‘এক বছর নিগ্রহ সহ্য করে ভাঙা চোয়াল আর ক্ষতবিক্ষত মন নিয়ে ফিরেছি।’’ আঘাতের ছবিও দিয়েছেন ফেসবুকে।

প্যান্ডোরার বাক্সটা সম্ভবত খুলে দিয়েছেন তনুশ্রী দত্ত। নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পরই বলিউডে অভিনেত্রী, মহিলা প্রযোজক-পরিচালক থেকে কলাকুশলীরা ধর্ষণ-শ্লীলতাহানির অভিযোগ সামনে আনছেন। ‘#মি টু’ বিতর্কের তালিকার শেষ সংযোজন ‘সংস্কারি’ অভিনেতা অলোক নাথ। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন প্রযোজক-চিত্রনাট্যকার বিনতা নন্দ। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে সোমবার রাতে ফেসবুকে পোস্ট করতেই অলোক নাথের বিরুদ্ধে ক্ষোভ-ঘৃণা আছড়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

১৯ বছর আগের ওই ঘটনায় বিনতা নন্দা অবশ্য কারো নাম না করেননি। তবে পোস্টের শেষের দিকে ধর্ষক হিসাবে বলিউডের ‘সংস্কারি’ অভিনেতা বলে উল্লেখ করেছেন। তাতেই অলোক নাথের নাম স্পষ্ট হয়। বর্ষীয়ান অভিনেতা সেই সুযোগ নিয়ে নিজের নাম ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছএন। তিনি বলেন, ‘‘আমি অস্বীকার বা স্বীকার কোনওটাই করছি না। ঘটনা অবশ্যই ঘটেছে, তবে অন্য কেউ সেটা করতে পারে। তবে এই বিষয় নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। কারণ কথা বললেই আরও বিতর্ক বাড়বে।’’

সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে তুমুল শোরগোল শুরু হতেই তড়িঘড়ি আসরে নেমেছে সিনে টিভি আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিনটা)। সংস্থার অন্যতম সদস্য সুশান্ত সিংহ টুইট করে জানিয়েছেন, অলোক নাথকে শো-কজ নোটিশ পাঠানো হবে। পাশাপাশি বিনতাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে লিখিত অভিযোগ জানানোর আর্জি জানিয়েছেন সুশান্ত।

বিনতা নন্দা ওই ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সেই সময় তিনি ‘তারা’ ধারাবাহিকের প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার ছিলেন। শুটিংয়ের ফ্লোরে নিয়মিত মদ্যপান করতেন অলোক নাথ। তিনি ছিলেন মাদকাসক্ত। ওই অবস্থাতেই শুটিংয়ের সময় এক দিন ওই ধারাবাহিকের মূল অভিনেত্রীর সঙ্গে অলোকনাথ অভব্য আচরণ করেন। তার জেরে অভিনেত্রী তাকে চড় মারেন। এর পরই অলোক নাথকে ওই ধারাবাহিক থেকে বাদ দিয়ে দেন বিনতা।


বিনতার দাবি, এর পরই শুরু হয় ‘অগ্নিপরীক্ষা’। এক দিন আচমকাই চ্যানেলের নতুন সিইও তাদের ডেকে পাঠান। তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দেন কোনো কারণ ছাড়াই। তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে অফিস থেকে বের করে দেয়া হয়।

মূল ধর্ষণের ঘটনা জানিয়ে বিনতা লিখেছেন, এর পর একদিন অলোক নাথের বাড়িতে একটি পার্টিতে যান তিনি। অলোক নাথের স্ত্রীর সঙ্গে যে হেতু তাঁর সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল এবং মাঝেমধ্যেই থিয়েটারের লোকজন একসঙ্গে পার্টি করতেন, তাই পার্টিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনও অস্বস্তি হয়নি।

তার অভিযোগ, ওই দিন পার্টিতে তার মদের সঙ্গে অন্য কিছু মিশিয়ে দেওয়া হয়। তাতে তিনি কিছুটা বেসামাল হয়ে পড়েন। কিন্তু আশ্চর্ষের বিষয়, অন্য দিনের মতো তাঁকে কেউ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেননি। তিনি হেঁটেই বাড়ির পথে রওনা দেন। কিছু দূরে যাওয়ার পরই অলোক নাথ গাড়িতে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান। বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। ওই অবস্থায় কোনও কিছু না ভেবে অলোক নাথকে বিশ্বাস করে তিনি গাড়িতে উঠে পড়েন।

বিনতা লিখেছেন, ‘‘গাড়িতে উঠেই আমি বেহুঁশ হয়ে পড়ি। শুধু মনে আছে, গাড়িতে জোর করে আমার মুখে মদ ঢেলে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে বিছানায় জ্ঞান ফিরলে প্রচণ্ড যন্ত্রণা অনুভব করি। সেই রাতে আমাকে শুধু ধর্ষণই করা হয়নি, প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতনও করা হয়। আমি বিছানা থেকে উঠতে পারছিলাম না।’’

কিন্তু এত দিন পর অভিযোগ কেন? বিনতা লিখেছেন, ‘‘সেই সময় বন্ধু বান্ধবীদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু সবাই আমাকে মুখ খুলতে বারণ করেন। এর পরও যতদিন না আমার মনোবল ভেঙে গিয়েছে, ততদিন ধারাবাহিক ভাবে শুটিংয়ের সেটে আমাকে ক্রমাগত অপদস্ত করেছেন ওই অভিনেতা।’’

ফেসবুকে এই পোস্ট করার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। প্রায় ৩০০০ ইউজার ওই পোস্ট শেয়ার করেছেন। কমেন্ট পড়েছে প্রায় দেড় হাজার। রিঅ্যাকশন পাঁচ হাজারের কাছাকাছি। এ ছাড়াও টুইটারে এই নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে। অলোক নাথকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন অধিকাংশই। তবে বর্ষীয়ান অভিনেতার তরফে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

 


আরো সংবাদ