১৬ নভেম্বর ২০১৮

সালমান পরিবারের ঋণের কথা স্বীকার করলেন শাহরুখ 

সালমান পরিবারের ঋণের কথা স্বীকার করলেন শাহরুখ  - সংগৃহীত

‘সালমান খান এবং তার বাবা সেলিম খান না থাকলে হয়তো আমি আজকের শাহরুখ খান হতাম না’। সম্প্রতি সালমান খানের ‘দশ কা দাম’ অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে এসে এ কথা বলেন বলিউডের বাদশাহ শাহরুখ খান।

শাহরুখ বলেন, ‘যখন আমি প্রথম মুম্বাইতে আসি তখনকার সময় আমার জন্য সহজ ছিলো না। তখন সেলিম খান আমাকে সাহায্য করেন, আমার খাবারের ব্যবস্থা করে দেন। আমি সালমান খান ও তার বাবার এই উপকার কোনদিন ভুলবো না। সালমানের অনুরোধেই আজ আমি এই অনুষ্ঠানে এসেছি।’

শাহরুখ এবং সালমানের বন্ধুত্ব বলিউডে অনেক জনপ্রিয়। মাঝখানে অবশ্য দীর্ঘদিন  এ দুই খানের শত্রুতা দেখেছে সবাই কিন্তু এরপর ২০১৪- এ সালমানের বোন অর্পিতার বিয়েতে আবার এক হয়ে যায় বলিউডের এই দুই স্তম্ভ।.

এর আগে সালমান-শাহরুখ এক সাথে কিছু সিনেমায় কাজ করেছেন। যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সিনেমাটি হলো ‘করন-অর্জুন’। এছাড়া, দুইজনকেই দুইজনের সিনেমায় অতিথি চরিত্রে দেখা গেছে বেশ কয়েকবার। সর্বশেষ এ দুজনকে একসাথে সালমান খান অভিনীত ‘টিউবলাইট’ সিনেমায় দেখা যায়। আর ভক্তদের জন্য সুখবর হলো আবারো এ দুই মহাতারকাকে এক সঙ্গে দেখা যাবে শাহরুখ খানের নতুন সিনেমা ‘জিরো’-তে।

আরো পড়ুন : রাজনীতিতে নামবেন শাহরুখ! কোন প্রতীক নিয়ে লড়বেন?
নয়া দিগন্ত অনলাইন (২৮ আগস্ট ২০১৮, ১৪:১১)
কিং অব রোমান্স অথবা বলিউডের কিং খান শাহরুখের গুণমুগ্ধ ভক্তের অভাব নেই। ভক্তকূলকে কীভাবে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখতে হয়, তা তার অজানা নয়। কিন্তু রুপালি পর্দা এক, রাজনীতি আরেক। সরল স্বীকারোক্তি শাহরুখ খানের। বলিউডের বাদশার কথায়, রাজনীতি আমার জন্য নয়। কিন্তু কেন? সোজাসাপ্টা জবাব কিং খানের, আমি পুরোপুরি ‘নিঃস্বার্থ’ হয়ে উঠতে পারিনি।

অভিনেতা থেকে নেতা হয়ে ওঠার নজির ভারতে বিরল নয়। সম্প্রতি রাজনীতিতে পা দিতে দেখা গেছে কমল হাসান ও রজনীকান্তের মতো দুই জনপ্রিয় অভিনেতাকে। কিন্তু তার যে আপাতত সেরকম কোনো পরিকল্পনা নেই, তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন শাহরুখ। 
৫২ বছরের এই অভিনেতা বলেন, বিনোদন জগতের মানুষ হিসেবে নিজের কাজের মাধ্যমে দেশের জন্য সব কিছু করতে ভালো লাগে। কিন্তু রাজনীতি যে একটি বিশেষ জগৎ, তা আপনাদের অজানা নয়। আর রাজনীতিতে অংশ নেয়ার মতো জ্ঞান আমার নেই। কিং খানের মূল্যায়ন, এই কাজটা আমার জন্য বেমানান।

শাহরুখের বক্তব্য, এজন্য বিশেষজ্ঞ হওয়া প্রয়োজন। আমার এটাও মনে হয়, রাজনীতি করার জন্য সম্পূর্ণভাবে নিঃস্বার্থ হওয়া প্রয়োজন। মানুষের জীবন আরো ভালো করে তোলার কাজে নিজেকে উৎসর্গ করা প্রয়োজন। তাই এই কাজ করার মতো পুরোপুরি নিঃস্বার্থ হতে পেরেছি কি না, আমার জানা নেই। আর তাই রাজনীতির অংশ হতে পারব কি না, তা নিয়ে আমার মনে সন্দেহ রয়েছে।

কিন্তু রাজনীতিতে যদি নামতেই হয়, তাহলে তার দলের প্রতীক কী হবে? এবার কিছুটা রসিকতা মেশানো জবাব কিং খানের।

শাহরুখ বলেন, ‘প্রসারিত দু’হাত’। সিলভার স্ক্রিনে যা তার দীর্ঘদিনের ‘ট্রেডমার্ক’। তবে রসিকতা সরিয়ে দ্রুত সিরিয়াস শাহরুখ। বলেন, আমি মনে করি না রাজনীতিক হয়ে উঠতে পারব। সত্যি বলতে আমি এখন যেরকম, তার থেকে অনেক বেশি দায়বদ্ধতা প্রয়োজন ওই কাজের জন্য।

কিন্তু রজনীকান্ত ও কমল হাসানের রাজনীতিতে প্রবেশ নিয়ে কী বলছেন বলিউডের বাদশা? তার বক্তব্য, রজনী ও কমল স্যারের এ বিষয়ে যে অন্তরের আবেগ রয়েছে, তা আমি জানি। তাদের সাথে আমার বহু বছরের যোগাযোগ। আমি সত্যি সত্যি মনে করি, রাজনীতি শুরু করার বহু আগে থেকে তারা দু’জনেই মানুষের জন্য সামাজিক কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে কাটিয়েছেন। তাই তাদের ক্ষেত্রে এটা স্বাভাবিক বলেই মনে হয় আমার। মানুষ তাদের ভালোবাসেন। কিছু করবেন বলে প্রত্যাশা রাখেন। তবে এটা বলছি না যে আমি মানুষের হয়ে কিছু করতে চাই না বা মানুষ আমাকে ভালোবাসে না।

এই ভালোবাসার জায়গা থেকেই কি কেরলের জন্য ২১ লাখ টাকার অর্থসাহায্য? শাহরুখ বলেন, এটা নিয়ে চর্চা হোক, তা আমি চাই না। আমি একদমই চাই না, এটা নিয়ে প্রচার চলুক। আপাতত ডিসেম্বরে মুক্তি পেতে চলা ‘জিরো’ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চাইছেন কিং খান।

 


আরো সংবাদ