২০ নভেম্বর ২০১৮

জয়া হয়ে গেলেন মিস.সেন

জয়া আহসান - সংগৃহীত

টেলিভিশন থেকে বড় পর্দায় কাজ করে খুব একটা সুবিধা করতে পারেন না অভিনেত্রীরা ! দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা এই ধারণা ভুল প্রমান করেছেন জয়া আহসান। টেলিভিশনের এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী এখন বড় পর্দার জন্যই আলোচিত। তারচেয়ে বড় কথা এই অভিনেত্রী বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিম বাংলার মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে। যেহেতু সিনেমার বাজার বাংলাদেশের চেয়ে ওখানে রমরমা। তাই জয়া খুব জরুরী না হলে ইদানিং ঢাকায় খুব একটা আসেন না। কাজ করেন টালিগঞ্জের সিনেমায়, সেখানেই বসবাস। ভবিষ্যতের পরিকল্পনাও হয়তো এই পরবাসী সময়কে ঘিরেই সাজাচ্ছেন চিরসবুজ এই অভিনেত্রী। তবে ভিনদেশী সিনেমায় নিজের জায়গা পোক্ত করলেও নিজেকে একটুও বদলাননি জয়া, রয়েছেন আগের মতোই উচ্ছ্বল ও প্রানবন্ত।

সম্প্রতি ক্ষুদে বক্তব্যের সাইট টুইটারে ছোট্ট একটি পরিবর্তন এনছেন জয়া। সেখানের নিজের আইডির নাম পরিবর্তন করেছেন ‘গেরিলা’ খ্যাত এই অভিনেত্রী। টুইটারে যে আইডিটি জয়া ব্যবহার করেন সেটির নাম এখন ‘মিস. সেন’। ক্রিসক্রস ছবির প্রচারের জন্যই মূলত এটি করেছেন জয়া। ছবিটি পরিচালনা করেছেন বিরসা দাশগুপ্ত।

জয়ার দেখাদেখি নিজের নাম বদলে ফেলেছেন নুসরাতও। পরে নাম পরিবর্তনের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন মিমি চক্রবর্তী ও প্রিয়াঙ্কা সরকার। আর তাদেরকে নাম বদলের জন্য উস্কানী দিয়েছেন বিরসা দাশগুপ্ত। পাঁচ নারীর গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে ‘ক্রিসক্রস’। মুক্তি পাবে ১০ আগস্ট। সেই ছবির খাতিরেই নায়িকারা পাল্টে ফেলেছেন নিজেদের নাম।

এদিকে, চলতি বছরের এই শেষ কয়েকটি মাস কলকাতার পর্দাজুড়ে থাকবেন জয়া। এ সময়ে তার অভিনীত অন্তত চারটি সিনেমা মুক্তি পাবে ভারতে। ক্রিসক্রস ছাড়াও এই সময়ে একে একে মুক্তি পাবে জয়া অভিনীত ‘এক যে ছিল রাজা’, ‘ঝরা পালক’ ও ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’ ছবিগুলো।

সারাক্ষণ যেখানে কাজের মধ্যে থাকতে হয় সেখানে প্রায়ই ‘বয়স কত?’ এই প্রশ্ন নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাকে। ২০১৬ সালের ১ জুলাই জয়ার জন্মদিনে দেয়া এক সাক্ষাতকারের সময় বয়স নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বেশ বিস্মিত হয়েছিরেন এই অভিনেত্রী। তখন উইকিপিডিয়ার তার বয়স লেখা ছিল ৪৩ বছর। সত্যিটা জানতে চাইলে জয়া বলেছিলেন, ‘তাই নাকি? ৪৩! কে যে নিজের দায়িত্বে আমার সম্বন্ধে এ সব লিখেছে আমি জানি না। ৪৩-এর ধারেকাছেও না। শুনে অবাক হলাম।’

দু’বছর পরেও তাকে নিয়ে বয়স সংক্রান্ত ভুল ধারণা রয়েছে ইন্ডাস্ট্রির। শুধু বয়স নয়, তার ব্যক্তিজীবন সম্পর্কে আরও অনেক ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রিরই কেউ কেউ। সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে সাম্প্রতিক পোস্টে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জয়া।

অভিনয় তার পেশা। নেশাও বটে।  ভারত এবং বাংলাদেশ, দু’জায়গাতেই সমান তালে কাজ করছেন। জয়াকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিচ্ছেন দর্শক। যাঁরা ব্যক্তি জয়াকে চেনেন, তারা হয়তো জানেন, এককথায় মাটির মানুষ। ভাল ব্যবহার যাঁর রক্তে। এত দিনের কেরিয়ারে কখনও জয়া রেগে গিয়েছেন বা খারাপ ব্যবহার করেছেন— এ ঘটনা মনে করা মুশকিল। কিন্তু কী এমন হল, যাতে এতটা রেগে গেলেন?

ফেসবুকে জয়া লিখেছেন, ‘ইদানীং ২/১টি বিষয় আমাকে কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ইদানীং বেশ কয়েক জন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা/উইকিপিডিয়ার তথ্যসূত্র টেনে আমার বয়স নিয়েও বেশ চর্চা করছেন। বলা হচ্ছে, আমার বয়স নাকি ৪৬! গুজব-গুঞ্জন আমি বরাবরই খাবারের লবণের মতো উপভোগ করে গিয়েছি। দু-এক জন সমবয়সী কিংবা আমার চেয়ে বয়সে বড় শ্রদ্ধাভাজন সহকর্মী (বিশেষ করে বেশ কয়েক জন অভিনেত্রী) গণমাধ্যমে নিজেদের অধিকার মনে করে আমার বয়স (ভুল তথ্য) নিয়ে চর্চা করেছে-বিষয়টি মজার। তাই এতদিন উপভোগ করেই গিয়েছি। তবে খুব সম্ভবত আমার চুপ থাকাটাকে অনেকে ‘মৌনতা সম্মতির লক্ষণ’ হিসেবে ধরে নিয়েছেন। নিন্দুকেরাও ‘অস্ত্র’ হিসেবে আমার বয়সের ভুল তথ্য প্রচার করে আনন্দ পাচ্ছেন।’

জয়া মনে করেন, অভিনেতাদের ক্ষেত্রে বয়স নিয়ে চর্চা হয় না। কিন্তু অভিনেত্রী মাত্রেই বয়সের প্রশ্নটা এখনও যেন স্বাভাবিক! 

জয়া মনে করেন, শিল্পীর পরিচয় হওয়া উচিত তার কাজে। আর বয়স বেশি হলে অল্পবয়সীর চরিত্রে অভিনয় করতে পারবেন না কোনও শিল্পী— এমন ধারণা কোনও ইন্ডাস্ট্রিতেই নেই। ফলে ব্যক্তি জয়ার বয়স নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। বরং তার সম্বন্ধে ভুল তথ্য প্রচার করে কেউ কেউ তাকে ছোট করার চেষ্টা করছেন। তাতে স্পষ্ট আপত্তি আছে তার। জয়ার অভিযোগ, এই ভুল তথ্য দিচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র কিছু অভিনেত্রী। যদিও স্পষ্ট করে কারও নাম তিনি উল্লেখ করেননি। শুধু তা-ই নয়, বাবার নাম বা তারা ক’জন ভাই-বোন তা নিয়েও নাকি ক্রমাগত ভুল তথ্য প্রচার হচ্ছে।

জয়ার দাবি, ‘৪৬ বছর আগে আমার বাবা-মা’র বিয়ে তো দূরের কথা, দেখাও হয়নি। এতদিন বিষয়টি হেসেই উড়িয়ে দিয়েছি। তবে ইদানীং বিষয়টি মাত্রাতিরিক্ত আকার ধারণ করায় পরিবার ও কাছের বন্ধুদের অনুরোধে লিখতে বাধ্য হয়েছি। সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, একজন শিল্পীর জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরবার আগে ন্যূনতম একবার তার সাথে কথা বলা উচিত।’

সব শেষে জয়ার প্রশ্ন, ‘এক জন অভিনেতার কাজ নিয়ে লিখবার সময় যদি তার বয়সের বিষয়টি না আসে, একজন অভিনেত্রীর ক্ষেত্রেও সে বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিকভাবে আসাটা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে কিন্তু আমাদের ভেবে দেখবার অবকাশ রয়েছে।’

অর্থাৎ জয়া মনে করেন, অভিনেতাদের ক্ষেত্রে বয়স নিয়ে চর্চা হয় না। কিন্তু অভিনেত্রী মাত্রেই বয়সের প্রশ্নটা এখনও যেন স্বাভাবিক! এই পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার মূলে আঘাত করতে চেয়েছেন জয়া। প্রতিবাদ করেছেন নিজস্ব পরিসরে।

 


আরো সংবাদ