২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শিক্ষার্থীদের সাথে রাস্তায় দাড়াতে চেয়েছিলেন শাকিব

শিক্ষার্থীদের সাথে রাস্তায় দাড়াতে চেয়েছিলেন শাকিব - সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের সাথে রাস্তায় নেমে  আন্দোলনে শরিক হতে চেয়ে ছিলেন অভিনেতা শাকিব খান। কিন্তু পরনে শুটিংয়ের কস্টিউম থাকায় সে ইচ্ছে আর পূরণ হয়নি। তবে বেশ কিছুক্ষণ তিনি গাড়িতে বসেই ছাত্রদের সাথে কথা বলে আন্দোলন চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন।  এ সম্পর্কে শাকিব খান বলেন, ‘পরনে শুটিংয়ের কস্টিউম না থাকলে শিক্ষার্থীদের সাথে রাস্তায় নেমে যেতাম। এত সুশৃঙ্খল ও সুন্দর আন্দোলন দেখে বারবার তেমনটাই মনে হচ্ছিল।’

বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকায় ‘ক্যাপ্টেন খান’ ছবির শুটিংয়ের যাওয়ার পথে মতিঝিল শাপলা চত্বরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা হয় শাকিব খানের। অভিনেতা নিজেই খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি শাকিব খান শুরু থেকে অবগত ছিলেন। আন্দোলনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়ার প্রতি তার সমর্থনও ছিল। আজ শুটিংয়ের যাওয়ার ফাঁকে সেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার দেখাও হয়েছে, কথাও হয়েছে। শাকিব খান বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে মতিঝিল শাপলা চত্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দেখে গাড়ি থামাই। গাড়ির সামনের আসনে বসা ছিলাম আমি। এরপর শিক্ষার্থীরা আমাকে দেখে ছুটে আসে৷ গাড়ির জানালা খুলে দিই। শিক্ষার্থীরা ছুটে এসে আমাকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানায়। কিন্তু রাস্তায় নামতে না পারলেও তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও যৌক্তিক আন্দোলনে আমার সমর্থনের কথা জানিয়ে দিই।’

শুটিংয়ের পোশাক পরে শাকিব আজ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। তাই গাড়ি থেকে নামতে পারেননি। বললেন, ‘বেশ কিছুক্ষণ ধরে গাড়িতে বসেই শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলি। তখন বৃষ্টি হচ্ছিল, এই বৃষ্টির মধ্যেও শিক্ষার্থীরা সরে যায়নি। বৃষ্টির মধ্যে ভিজে তারা শান্তিপূর্ণভাবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, যেটা বড়দের করার কথা ছিল। ওরা দেখিয়ে দিয়েছে, কীভাবে আন্দোলন করতে হয়। নতুন সংজ্ঞা শিখলাম। সবাইকে যেভাবে সচেতন করার চেষ্টা করছে, এটা আমি সমর্থন না করে পারিনি।’

বাংলাদেশের পরিবহন খাতের অরাজকতার কারণে রাজধানীবাসী কেউ নিরাপদ না। শাকিবের কথায়, ‘আজকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে রাস্তায় আন্দোলন করছে। সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠানের ফিটনেসবিহীন গাড়ি দেখার কথা ছিল, তারা এত দিন কিছুই করেনি। আমি এই আন্দোলনের সাথে আছি। যদি প্রয়োজন হয়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রাস্তায়ও নামব। এই আন্দোলন কিন্তু সরকারের বিরুদ্ধে না, অনিয়মের বিরুদ্ধে। আমার মতে, প্রতিটি মানুষেরই নিয়ম মেনে চলতে চায়, রাস্তায় অকালমৃত্যুর সমাধান চাই, নিরাপদে বাড়ি ফিরতে চাই। এই আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন মানুষের।’

ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে গত রোববার জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। ওই দিন থেকে বেপরোয়া গাড়ির চালকের ফাঁসির দাবি এবং এ শাস্তি সংবিধানে সংযোজন করা, সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি না চলা, নিরাপদ সড়কের দাবি, সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ব্যবস্থা করা, নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের ক্ষমা চাওয়াসহ কয়েক দফা দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধরে ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ করছে। রাজধানীর শিক্ষার্থীদের এ দাবি পরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

সঙ্গীত শিল্পীদের একাত্মতা ঘোষণা

‘নিরাপদ সড়কের দাবি’তে শাহবাগে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ। তাদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে সেখানে গিয়ে হাজির হন তারকারা। তাদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে বক্তব্যের পাশাপাশি গান করেন এ শিল্পীরা।

 বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘নিরাপদ সড়কের দাবি’তে যোগ দেন সংগীতশিল্পী তানভীর আলম সজীব, সায়ান, কোনাল, পারভেজ, নওরীন, লুৎফর হাসান, সাব্বির, সুজন আরিফ, পুলক, আর জে টুটুল, নৃত্যশিল্পী ডলি ইকবাল, স্বর্ণকিশোরী ফাউন্ডেশন নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান ও উপস্থাপিকা ফারজানা ব্রাউনিয়া, নির্মাতা আয়শা মনিকা, গীতিকার জাহিদ আকবর, নাট্যকার খায়রুল বাশার নির্ঝরসহ অনেকে।

ফারজানা ব্রাউনিয়া বলেন, ‘কোনো গাড়ি যেন আর আমার সন্তানকে চাপা না দেয়। আমি ঘুমাতে পারি না। সোনামণি ভাইবোনেরা আমার, তোমরা দেখিয়েছ, কীভাবে সুশৃঙ্খল আন্দোলন করতে হয়, সাধুবাদ জানাই তোমাদের। আমরাও নিরাপত্তা চাই, চাই নিরাপদ সড়ক। শান্তিপূর্ণভাবে প্রাপ্য চাই, বহুদিন আগে আমাদের পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পাইনি। এটা আমরা আদায় করব।’

কণ্ঠশিল্পী কোনাল বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি শিল্পী সমাজের পক্ষ থেকে তোমাদের সাধুবাদ জানাতে। এখানে আমাদের শিল্পী বন্ধুদের অনেকে এসেছেন। তোমাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছি আমরা। তোমাদের সঙ্গে চলতে চাই, সামনে এগিয়ে যেতে চাই। কারণ, যা আমরা করতে পারিনি, তোমরা তা করে দেখিয়েছ। তোমাদের সাথে আমরা আছি, থাকব। আমাদের একটাই কাজ করার আছে। যদি কিছু করতে হয় আমরা গান গাইব। একটা কবিতায় যদি কিছু হয়, তাহলে কবিতা আবৃত্তি করব।’

পারভেজ বলেন, ‘একজন শিল্পী হিসেবে এই সমাজের প্রতি আমাদেরও আছে কিছু দায়িত্ব। কিন্তু আমরা অনেক কিছুই করতে পারিনি। ঢাকার রাজপথে আমাদের কোমলমতি বাচ্চারা, ভাইয়েরা, বন্ধুরা যা করে দেখিয়েছে, তা রীতিমতো বিস্ময়। নিরাপত্তা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ওরা যে এত সুন্দর একটা আন্দোলন করছে, সেটার প্রতি আমাদেরও রয়েছে সমর্থন। একজন বাবা হিসেবে, এই শিক্ষার্থীদের বড় ভাই, অভিভাবক হিসেবে ওদের সঙ্গে থাকতে পারাটা গৌরবের।’

শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নৃত্যশিল্পী ডলি ইকবাল, সুজন আরিফ, ফারজানা ব্রাউনিয়া, পারভেজ ও কোনাল। ছবি: প্রথম আলোনতুন প্রজন্মের আরেক কণ্ঠশিল্পী সাব্বির জামানও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে এসেছিলেন শাহবাগে। তিনি বলেন, ‘এই খুদে বাচ্চারা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে, কীভাবে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে হয়। আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে, আমাদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে যাঁরা আছেন, তাঁদেরও দ্রুত ভাবা উচিত। সবশেষে বলতে চাই, ছোট্ট বন্ধুরা তোমাদের সঙ্গে আমরাও আছি রাস্তায়।’

বক্তব্য শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ‌রণসংগীত ‘চল চল চল’ গেয়ে শোনান সায়ান, কোনাল, পারভেজ, নওরীন, লুৎফর হাসান।


আরো সংবাদ

থাইল্যান্ডে বৌদ্ধমন্দির ধসে নিহত ১, আহত ১১ মুসলিম ছাত্রের সাথে কেন সম্পর্ক! ছাত্রীকে পুলিশের মারের ভিডিও ভাইরাল মোহাম্মদ নবীর মুখে আফগান ক্রিকেটের সংগ্রামী গল্প রায়ের তারিখ ধার্যের আবেদন : আদেশ ৩০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ : 'সাকিব নিচ্ছেন ইঞ্জেকশন, মাশরাফি ওষুধ' দেবিদ্বারে উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যানসহ জামায়াত-শিবিরের ১২ নেতাকর্মী আটক মুন্সীগঞ্জে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগের পরই শতরান! ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন : প্রফেসর আসিফ নজরুলের বিশ্লেষণ আফগানিস্তান নিয়ে যা বললেন ধোনি কিশোরগঞ্জের মালা-রুমা বেগমদের স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প

সকল