২০ জানুয়ারি ২০২০

ফরিদগঞ্জে আ’লীগের সংঘর্ষে পণ্ড উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় সভা

আহত অর্ধশতাধিক
ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ - ছবি : নয়া দিগন্ত

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় ও আইনশৃংখলা সভা প- হয়ে গেছে। উভয় পক্ষের হামলা পাল্টা হামলায় পুলিশসহ অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে ঘন্টাব্যাপী এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমানসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিষদের অফিস কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।

জানা গেছে, আজ ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভা ও আইনশৃৃংখলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য সভায় উপস্থিত হওয়ার আগে এমপি’র অনুসারী ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পক্ষের সমর্থকরা জড়ো হতে শুরু করে। এমপি উপজেলা পরিষদের উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা পাল্টা হামলা শুরু হয়।

আধাঘন্টা সংর্ঘষের পর পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর উপজেলা পরিষদের আইনশৃংখলা সভা শুরু হলে উভয় গ্রুপের মধ্যে আবারো সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে পুলিশের এসআই নাজমুল হোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান অনুসারী জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল ইসলাম রিপন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আকবর হোসেন মনির, ছাত্রলীগ নেতা জয়, হাবিব, কাশেম, রিয়াদ, হাসান, সাহেদ সুজন, নাছির কাইয়ুম এবং এমপির অনুসারী পুতুল সরকার, আলাউদ্দিন, আলআমিন, রায়হান, মোহন মিজি, সৈকত, মিঠুন, নুর আল আমিন, সাগরসহ অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্র্রণে আনতে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইউএনও সভা স্থগিত করে দেন।

সংঘর্ষের বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রকিব জানান, উভয় পক্ষকে শান্ত করতে পুুলিশ প্রথম থেকেই চেষ্টা করেছে। এক পর্যায়ে পুলিশ ৬ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। সংবাদ পেয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও ডিবি পুলিশ এসে পুরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি জানান, সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির কারণে মাসিক সমন্বয় ও আইনশৃংখলা সভা স্থগিত করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেন, মাসিক সমন্বয় সভা ও আইনশৃংখলা কমিটির সদস্য না এমন লোক এবং মাদক কারবারি পরিষদে উপস্থিত হওয়ায় এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।

অন্যদিকে সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান জানান, আমি আইনশৃংখলা ও সমন্বয় সভার নিমন্ত্রণ পেয়ে উপস্থিত হওয়ার পর উদ্দেশ্যমূলকভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। ইউএনওর কার্যালয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকজন ঢুকে তান্ডব চালিয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আমার সাথে রূঢ় আচরণ করেছে। তার অনুমতি নিয়ে উপজেলা পরিষদে আসার জন্য বলেছে সে।


আরো সংবাদ




krunker gebze evden eve nakliyat