২৩ জানুয়ারি ২০২০

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি, নিহত ১

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি, নিহত ১ - ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুটি গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে অন্তত একজন নিহত এবং আরো একজন আহত হয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ জানিয়েছে শনিবার রাতে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, টেকনাফের নয়াপাড়া এলাকায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে দুটি গ্রুপ সেখানে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। গ্রুপ দুটির সদস্যরা পুরাতন রোহিঙ্গা হিসেবে পরিচিত, যারা ১৯৯২ সালের পরে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী এ গ্রুপ দুটির মধ্যে একটি 'ছলিম গ্রুপ' এবং অপরটি 'জাকির গ্রুপ'। এরা ক্যাম্পে বসবাস করে না এবং পাহাড়ে লুকিয়ে থাকে বলে পুলিশ দাবি করছে। মাঝে মধ্যেই তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেবার চেষ্টা করে।

উভয় গ্রুপ চেষ্টা করছে নতুন রোহিঙ্গাদের মাঝে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে। এ দুটি গ্রুপ ছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় আছে কর্মকর্তারা বলছেন।

নবাগত রোহিঙ্গাদের নিজেদের আয়ত্তে রাখার জন্য উভয় গ্রুপ এখন তৎপরতা চালাচ্ছে বলে পুলিশ বলছে।

পুলিশের ভাষ্য মতে রোহিঙ্গাদের এই গ্রুপ দুটি ইয়াবা চোরাচালান, মানব পাচার এবং ডাকাতিসহ নানা অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত।

শনিবার রাতে নয়াপাড়া ক্যাম্পে ছলিম গ্রুপের অনুসারীরা সামশুল নামে এক রোহিঙ্গাকে গুলি করে। এ খবর পেয়ে জকির গ্রুপের অনুসারীরা অস্ত্র নিয়ে সেখানে হাজির হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে এক রোহিঙ্গা মারা যায় এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে যখন আশ্রয় নিয়েছিল তখন তাদের প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা এবং সরকার উদার মনোভাব দেখিয়েছে।

কিন্তু বছর না ঘুরতেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। সে সহানুভূতির ছিটেফোঁটাও এখন অবশিষ্ট নেই।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের একটি অংশ নানা ধরণের অপরাধের সাথে জড়িয়েছে।

গত দুই বছরে ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গাদের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে অন্তত ৪৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া রোহিঙ্গাদের হামলায় স্থানীয় বাংলাদেশীও নিহত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে গত দুই বছরে অন্তত ৫০ জন রোহিঙ্গা পুলিশ কিংবা র‍্যাব এ গুলিতে নিহত হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এসব রোহিঙ্গা 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছে। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করে 'বন্দুকযুদ্ধ' নয় বরং এসব রোহিঙ্গাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ এবং র‍্যাব-এর ভাষ্য অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের গ্রুপগুলো ক্যাম্পের ভেতরে নানা অপরাধ করে গহীন পাহাড়ে লুকিয়ে যায়। দুদিন আগে র‍্যাব হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সেসব পাহাড়ের উপর টহল দিয়ে রোহিঙ্গা গ্রুপগুলোর অবস্থান সম্পর্কে ধারণা নেবার চেষ্টা করেছে।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, এখন সেসব পাহাড়ে অভিযান চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ সন্ধ্যার পর ক্যাম্পগুলোতে তৎপর হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযান আরো জোরালো করা হবে বলে কর্মকর্তারা বলছেন।
সূত্র : বিবিসি

 


আরো সংবাদ

ঢাবিতে ৪ শিক্ষার্থী‌কে রাতভর নির্যাতন ছাত্রলীগের (১১৬০৭)তাবিথের আজকের প্রচারণায় জনতার ঢল (৭৪৩২)ইরানি হামলায় আহত মার্কিন সেনারা গোপনে যেখানে চিকিৎসা নিয়েছে (৬৫৯২)খুলে দেয়া হলো দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বন্ধ থাকা খদ্দের গেট (৫৩০৪)'বলির পাঁঠা' বানানো হয়েছিল আফজাল গুরুকে : বিস্ফোরক অভিনেত্রী (৫১৭৩)সোলাইমানি হত্যায় ট্রাম্পের যে দাবিতে চমকে যান তার উপদেষ্টারাও (৪৯৭১)আযাদ কাশ্মিরকে সব ধরনের সামরিক সমর্থন দেবে পাকিস্তানি সেনারা (৪৮২৬)‘মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নিলে অবশ্যই আ’লীগ করতে হবে’ (৪৪৫৪)সূর্যগ্রহণ দেখে দৃষ্টিশক্তি হারালো ১৫ জন (৪২৫৫)লাহোরে বাংলাদেশ খেলবে দিনে, দেখে নিন টি-টোয়েন্টির সূচী (৪২১৯)



unblocked barbie games play