১৯ নভেম্বর ২০১৯

আমি আকাশ থেকে পড়েছি : মোশাররফ

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন - সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মীযানুর রহমানের যুবলীগ সভাপতি হতে চাওয়ার খবরে আকাশ থেকে পড়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এটাকে তিনি ‘সমাজ পচনের’ অনত্যম উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জিয়া মুক্তি পরিষদ’ আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোশাররফ বলেন, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছাত্রলীগ নেতাদের এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ঈদ বকশিস দিয়েছেন, তার কাছে কি টাকা তৈরির মেশিন আছে, নাকি গাছ আছে?’

তিনি বলেন, ‘আরো দুর্ভাগ্যজনক। আমি আকাশ থেকে পড়েছি। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, ছাত্র নেতা ছিলাম, হলের ভিপি ছিলাম, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার হয়েছি, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান হয়েছি। আমার ছাত্র জীবন থেকে শিক্ষক জীবন পর্যন্ত অনেক ভাইস চ্যান্সেলর দেখেছি। কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর এমন কথা বলতে পারে? যে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের সভাপতির পদ যদি তাকে দেয়া হয়, তবে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের পদ ছেড়ে দেবেন। চিন্তা করেন!’

মোশাররফ বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মীযানুর রহমান ঘোষণা করেছেন, যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব যদি তাকে দেয়া হয় তিনি ভিসি'র পদ ছেড়ে দেবেন। কি লজ্জা! সমাজের পচন কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। যে ভিসি ওই ধরণের সংগঠন ছাত্রলীগ যুবলীগ শাসন করবেন, তার চোখ রাঙানিতে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত থাকবে, সে যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব নিতে চায়। ভিসি যুবলীগের সভাপতির পদ নিতে চায় কারণ, সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা পাবেন।’

ভারতের সাথে চুক্তির সমালোচনা করে বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরামের এই নেতা বলেন, ‘দেশে জনগণের সরকার থাকলে ভারতের সাথে এভাবে চুক্তি করতে পারতো না। দুর্বল সরকার বলে তারা চুক্তি করেছে। ভারতের সাথে আমরা সুসম্পর্ক চাই, প্রতিবেশী, ভাই-ভাই হিসেবে পাশপাশি থাকতে চাই, সমতার সম্পর্ক চাই, এটাই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি। কিন্তু যে চুক্তি করা হয়েছে তাতে দেয়া হয়েছে, নেয়ার কথা হয়নি। তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো সমাধান নেই, অভিন্ন ৫৪টি নদীতে ভারত বাঁধ দিয়েছে সে নিয়ে কথা হয়নি, ফেনী আমদের নদী সেটার পানি মানবিক কারণে ভারতকে দেয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। অথচ এই চুক্তির আগেই ভারত ফেনী নদীতে ৩৫টি পাম্পের মাধ্যমে অবৈধভাবে পানি নিচ্ছে।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি ধ্বংস গেছে। ৯/১০ ব্যাংক দেউলিয়া করা হয়েছে। সরকারের লুটের ব্যবসায়ীরা ঋণ দিয়ে তা দিচ্ছে না। তাদেরকে আরো সুযোগ দেয়া হচ্ছে। প্রশাসনে যারা আছেন তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।’

প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকার জন্য সাজানো মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছেন দাবি করে মোশাররফ বলেন, ‘জামিন তার প্রাপ্য অধিকার তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। আমাদের অনেকে বলেছেন, আইনজীবীরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারছেন না। কিন্তু সুপ্রীম কোর্ট সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মূলকভাবে তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না।’

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের যারা লালন পালন করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত মন্তব্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, এই দুর্নীতি বিরোধী অভিযান হলো, এটা লোক দেখানো প্রতারণা। যারা ক্যাসিনো পরিচালনা করেছে তাদের আটক করা হয়েছে। কিন্তু যেসব মন্ত্রী এমপিদের প্রশ্রয়ে এসব হয়েছে সেসব গডফাদারদের গ্রেফতার করা হয়নি।’

সবাইকে আন্দোলন সংগ্রামের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়ে মোশাররফ বলেন, ‘ঘরের ভেতর বসে বক্তব্য দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না, গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার হবে না। সকলকে আন্দোলন সংগ্রামের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’


আরো সংবাদ