১৪ নভেম্বর ২০১৯

সরাইলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিওধারণ: আড়াই মাসেও গ্রেফতার হয়নি ধর্ষক সজল

অভিযুক্ত মূল আসামী ধর্ষক সজল মিয়া - নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মূল আসামী সজলকে আড়াই মাসেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ওই স্কুলছাত্রী ও তার পরিবারের দিন কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়।

জানা যায়, গত ১ আগস্ট সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নে বিশুতারা গ্রামের আওয়াল মিয়ার ছেলে সজল মিয়া (২৫) এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে এর ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। সজল সম্পর্কে ওই স্কুল ছাত্রীর চাচা হয়। উক্ত ঘটনায় গত ৯ আগস্ট ওই ছাত্রী নিজে বাদী হয়ে সজল ও তার সহযোগী সামছুল হকের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু থানায় মামলা রুজু হবার আড়াই মাসেও পুলিশ মূল আসামী সজলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি। ফলে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তার পরিবারের।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বখাটে সজলের উত্যক্তের কারণে নবম শ্রেণীর ওই ছাত্রীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। গত ১ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে বখাটে সজল ও তার সহযোগী একই গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে সামছুল হককে (২৪) নিয়ে বিশুতারা গ্রামে ওই স্কুলছাত্রীর বাড়িতে যান। ঘরে ঢুকেই সজল ওই ছাত্রীকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এই সময় সামছুল তার মোবাইল ফোনে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। একপর্যায়ে সজল ও সামছুলের সঙ্গে ওই ছাত্রীর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে সামছুল পালিয়ে যায়। তবে ওই ছাত্রী ও তার মা ধর্ষক সজলকে আটক করে। এই ঘটনার খবর পেয়ে সজলের বাবা আওয়াল মিয়া ও মা রেজিয়া বেগম ঘটনাস্থলে এসে ওই ছাত্রীর সঙ্গে সজলের বিয়ে দেয়ার কথা বলে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে বিয়ের ব্যবস্থা না করে ‘এক সময় ছেলেরা এমন কাজ করেই থাকে, এটা কোনো বিষয় না’ বলে জানিয়ে দেয় তারা। এরপর ওই ছাত্রীর ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয় বলে মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা। আসামি সজল এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন তারা। দ্রুত সজলকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ওই ছাত্রী।

ওই ছাত্রীর এক চাচা জানান, আমরা শুনেছি সজল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে তার খালার বাড়িতে থাকে। পুলিশকে তথ্য দিলেও তারা সজলকে গ্রেফতার করছে না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

তবে সরাইল থানার ওসি শাহাদাত হোসেন বলেন, ওই ধর্ষককে আটক করার পর বিয়ের আশ্বাস পেয়ে তাকে না ছেড়ে যদি পুলিশের কাছে সোপর্দ করত তাহলে এই সমস্যাটা হতো না। ওই ছেলের কোনো ফোন নাম্বারও নেই যে ট্র্যাকিং করে তার অবস্থান সম্পর্কে জানা যাবে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি তাকে গ্রেফতার করার জন্য।

এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান আসামীকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য সরাইল থানার ওসিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ