১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে প্রাণ হারাল পলাশ

কামরুল ইসলাম পলাশ
কামরুল ইসলাম পলাশ - ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে এলাকার মানুষের পিটুনিতে প্রাণ হারায় গার্মেন্টস কর্মী কামরুল ইসলাম পলাশ (২৪) । সোমবার বিকালে পটিয়া থানায় নিহতের প্রেমিকা শিখা রানী দে’র দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পলাশ হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুল এবং পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. বোরহান উদ্দিন।

ঘটনার তিনদিন পর সোমবার সন্ধায় নিহতের বাবা জহিরুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে আসামী করে পটিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ৭ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার কালারপোল পূর্ব চাপড়া গ্রামে শীলপাড়ার পাশে সড়ক থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় কামরুল আসলাম পলাশের লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

পুলিশ কর্মকতাগণ জানান, নিহত পলাশের বাড়ি নোয়াখালী জেলার মাইজদী থানার নলপুর গ্রামে। তিনি গত ১ বছর পূর্বে পটিয়া উপজেলার কালারপোল এলাকায় যমুনা ডায়িং ইন্ড্রাস্ট্রিজে চাকুরীতে যোগদান করেন। সেই সুবাধে চাপড়া গ্রামের কানু দে’র মেয়ে শিখা দের সাথে ভালবাসার সম্পর্ক হয় সেই সুবাদে পলাশ প্রায় সময় তার প্রেমিকের সাথে দেখা করার জন্য আসতো।

লাশ উদ্ধারের আগে ৬ সেপ্টেম্বর প্রেমিক শিখার মা ও বাবা কাপ্তাই এলাকায় একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে থাকার সুবাদে প্রেমিক পলাশকে আসতে বললে, তিনি শিখাদের বাড়ি যান। বিষয়টি এলাকার মানুষ জানতে পেরে তাকে বাড়ি থেকে বের করে বেদমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে সড়কের পাশে ফেলে যায়। পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সকালে খবর পেয়ে পুলিশ নিহত পলাশের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

নিহতের বাবা জহিরুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, তিনি প্যারালাইজ রোগে ঢাকায় একটি হাসপালে চিকিৎসার নিচ্ছিলেন। ছেলের লাশ উদ্ধর হওয়ার দিন দুপুরেই তার ছেলেকে হত্যা করার বিষয়টি জানতে পারেন।

তিনি জানান, শান্ত স্বভাবের পলাশ ছিল বাড়ির সকলের প্রাণ। এই ঘটনার পর থেকে নিহত পলাশের মা প্রায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছেন বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, তার দুই ছেলের মধ্যে পলাশ ছিল বড়।

আসামী গ্রেফতারের বিষয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল ও পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. বোরহান উদ্দীন বলেন, পুলিশ আন্তরিকভাবেই ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেছেছে।


আরো সংবাদ