১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
আজ ২৫ আগস্ট

প্রত্যাবাসন না হওয়ায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়ছে

মিয়ানমারে নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার অধিকার না পাওয়ায় ফিরে যাচ্ছেনা রোহিঙ্গারা - ছবি : এএফপি

রোহিঙ্গা সংকটের দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট মিয়ানমার থেকে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়। আগে থেকেই কক্সবাজারে আছে বেশ কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বত্রিশটি ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা। গত দুই বছরে দুইবার প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও একবারও কোন রোহিঙ্গা মিয়ানমার ফিরে যায়নি। মিয়ানমারে নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তার অধিকার না পাওয়ায় ফিরে যাচ্ছেনা রোহিঙ্গারা।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আসার সময় রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল স্থানীয়রা। কিন্তু প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয় স্থানীয় মানুষ। ফলে যেটুকু সহানুভূতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল স্থানীয়রা; সময়ের ব্যবধানে সেই সহানুভূতি কমতে থাকে। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর যখন প্রথম দফায় প্রত্যাবাসন ব্যর্থ হয়, তখন রোহিঙ্গাদের প্রতি অসহনশীল হয়ে উঠে স্থানীয়রা। কিন্তু ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় প্রত্যাবাসনের নির্ধারিত সময়ে রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর স্থানীয়দের মাঝে তৈরি হয় চরম অসন্তোষ। রোহিঙ্গাদের প্রতি স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব না দেয়া ও রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না করাসহ অধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিত না করে বারবার প্রত্যাবাসনের তারিখ দেয়ায় ভীতি ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে। রোহিঙ্গাদের দাবি, অধিকার ও নিরাপত্তা ছাড়া মিয়ানমারে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের জীবনে আগের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি নেমে আসতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অধিকারের বিষয়গুলো চূড়ান্ত না করে প্রত্যাবাসনের তারিখ দেয়ায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দায় এড়ানোর কৌশল কিংবা কক্সবাজারে স্থানীয়দের সাথে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিনষ্ট করতে প্রত্যাবাসন ফাঁদ পেতেছে মিয়ানমার।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করে এবং রোহিঙ্গাদের মতামত যাচাই পূর্বক পরবর্তীতে প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। অন্যথায় মিয়ানমারের প্রত্যাবাসন ফাঁদে তৃতীয়বার পা দিলে অশান্ত হয়ে উঠতে পারে কক্সবাজারের পরিবেশ। আর তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বাংলাদেশ।

আবারও ঝুলে গেল বহুল প্রত্যাশিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। সকল প্রস্তুতি থাকা সত্বেও রোহিংগাদের অনাগ্রহের কারণে রোহিংগা প্রত্যাবাসন না হওয়ায় রোহিংগা সমস্যাটি আবারও জটিলতার দিকে ধাবিত হলো। এ নিয়ে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় মানুষের মাঝে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়ছে। প্রত্যাশিত প্রত্যাবাসন না হওয়ায় স্থানীয়দের সাথে রোহিংগাদের নানা সংঘাত-দ্বন্দ বাড়ছে। রোহিংগাদের দু’বছরের পূর্তিতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আবারও জোরদার করার তাগিদ স্থানীয়দের।

রোহিংগা আগমনের দু’বছর পূর্তিকে সামনে রেখেই মিয়ানমার সরকার ১ হাজার ৩৭ পরিবারকে ফেরত নেয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু সরকারের সকল প্রস্তুতি থাকা সত্বেও রোহিংগারা নাগরিকত্ব সহ ৫ দফা শর্ত জুড়ে দেয়ায় গত ২২ আগস্ট প্রত্যাশিত রোহিংগাদের প্রত্যাবাসন হয়নি। একই ভাবে গত বছরের ১৫ নভেম্বরও প্রথম দফা প্রত্যাবাসনের আয়োজন ব্যর্থ হয়েছিল। রোহিংগাদের জাতিগত মর্যাদা, নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা সহ তাদের মৌলিক দাবী পূরণ না করে মিয়ানমার সরকার হঠাৎ করে তাদের ফিরিয়ে নেয়ার উদ্যোগকে একটি চল চাতুরী হিসেবেই দেখছে রোহিংগারা। কেননা গত ২৭ জুলাই মিয়ানমার সরকারের পররাষ্ট্রসচিব রোহিংগাদের কমিউনিটি নেতাদের সাথে দু’দফা বৈঠককালে তাদের দাবী-দাওয়া ও প্রত্যাবাসন নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

এদিকে রোহিংগা প্রত্যাবাসন আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। রোহিংগাদের সাথে স্থানীদের দ্বন্ধ-সংঘাতেরও সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে শংকিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। বিপুল সংখ্যক রোহিংগা অবস্থানের কারণে নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এইদিকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব না দেয়া ও রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না করাসহ অধিকারের বিষয়গুলো নিশ্চিত না করে বারবার প্রত্যাবাসনের তারিখ দেয়ায় ভীতি ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে। রোহিঙ্গাদের দাবি, অধিকার ও নিরাপত্তা ছাড়া মিয়ানমারে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের জীবনে আগের চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি নেমে আসতে পারে। সীমান্ত বিশ্লেষকরা বলছেন, অধিকারের বিষয়গুলো চূড়ান্ত না করে প্রত্যাবাসনের তারিখ দেয়ায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দায় এড়ানোর কৌশল কিংবা কক্সবাজারে স্থানীয়দের সাথে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বিনষ্ট করতে প্রত্যাবাসন ফাঁদ পেতেছে মিয়ানমার।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করে এবং রোহিঙ্গাদের মতামত যাচাই পূর্বক পরবর্তীতে প্রত্যাবাসনের তারিখ নির্ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। অন্যথায় মিয়ানমারের প্রত্যাবাসন ফাঁদে তৃতীয়বার পা দিলে অশান্ত হয়ে উঠতে পারে কক্সবাজারের পরিবেশ। আর তাতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি নিরাপত্তা চৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিক্রিয়ায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।পুরনোসহ উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি শিবিরে এখন ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।


আরো সংবাদ