২১ জুলাই ২০১৯

নবীনগরে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন : পদত্যাগ করলেও এখনো গ্রেফতার হননি দুই শিক্ষক 

-

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী যৌন নিপীড়ন ও দ্বায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে ৮ জুন মামলা দায়েরের পর ৯ জুন সহকারী প্রধান শিক্ষক ও ১০ জুন প্রধান শিক্ষক তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার ১১ দিন পার হলেও দুই শিক্ষককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার প্রধান আসামি ওই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রাইভেট পড়তে গিয়ে ওই বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রী তার হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হন। যৌন নিপীড়নের ঘটনা জানার পরও অবহেলার কারণে প্রধান শিক্ষক আজাহারুল ইসলামকে মামলায় ২ নং আসামি করা হয়।

এ ঘটনা নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গত ১৪ জুন স্কুল মিলনায়তনে স্থানীয় এলাকাবাসীদের নিয়ে এক পরামর্শ সভা আহ্বান করে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুল। সভাপতিত্ব করেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহেল। সংসদ সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের পদত্যাগের বিষয়টি সভায় তুলে ধরেন।

পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকারম হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি রেজুলেশন সহ সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের দুটো পদত্যাগপত্র জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট দিয়েছেন। এখন নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষার দোহাই দিয়ে ওই দুই শিক্ষককে বাঁচাতে ও মামলাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল অভিযুক্ত প্রদীপ দাস ও আজহারুল ইসলামের নিকট থেকে পদত্যাগপত্র নিয়েছেন।

একটি সূত্র জানায়, ১০ জুন প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলামের এক কন্যার বিয়ের দিন তারিখ ঠিক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কারণে মেয়ের বিয়ের দিন তারিখ আর হয়নি। সেই অপমানের যন্ত্রণা থেকে নিজের এবং পরিবারের সম্মান রক্ষা করতেই স্বেচ্ছায় প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন আজহারুল ইসলাম।

সূত্রটি আরো জানায়, প্রধান শিক্ষক কিংবা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির কাছে কোন শিক্ষার্থী কিংবা কোন অভিভাবক এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেছে বলে আমাদের জানা নেই। এমনকি সহকারী প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আলোচিত অডিও রেকডিংয়ে প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে কোন কথা নেই। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি।

আসামী গ্রেফতারের বিষয়ে থানার ওসি রনোজিত রায় বলেন, ওই দুই অভিযুক্ত আসামীকে গ্রেফতারের জন্য কয়েকটি টিম কাজ করছে, আশা করছি দ্রুত সময়ের মাঝে তাদের গ্রেফতার করা যাবে।

উল্লেখ্য-গত ৭ জুন যৌন নিপীড়নের শিকার ৩০/৩৫ জন ছাত্রী সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুলের বাড়ি গিয়ে ওই দুই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। এর পর দিন ৮ জুন যৌন হয়রানির শিকার এক ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে নবীনগর থানায় মামলা করেন। এর পর থেকে পলাতক রয়েছেন দুই শিক্ষক।

 


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi