২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

প্রেমিকের সহযোগিতায় শ্বাসরুদ্ধ করে স্বামীকে হত্যা!

-

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির উত্তর চেঙ্গুছড়া গ্রামে গত ২০ মে দিবাগত রাতে প্রেমিক নূর হোসেন নূরুর সহযোগিতায় স্বামী মো: রফিকুল ইসলামকে (৩৭) হত্যা করেছে স্ত্রী রোকসানা আক্তার। বুধবার দুপুরে খাগড়াছড়ি ম্যাজিট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বামী হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা (জবানবন্দী) দিয়েছেন স্ত্রী রোকসানা (৩০)।

পুলিশ সূত্রে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় রোকসানার দেয়া বর্ণনামতে জানা গেছে, উপজেলার তিনটহরী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড চেঙ্গছড়া গ্রামের মো: ওহাব মিয়া সওদাগরের ছেলে মো: রফিকুল ইসলাম ২০০২ সালে সামাজিকভাবে বিয়ে করেন একই গ্রামের রোকসানা আক্তারকে। তাদের সংসারে দুই কন্যা ও এক পুত্রসন্তান রয়েছে। সংসারে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকতে রফিক চট্টগ্রামে হোটেলবয়ের কাজ করতেন। আর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। স্বামী রফিক মাসে-দু’মাসে ২/৪ দিনের ছুটিতে বাড়ি আসতেন এবং নিয়মিত পারিবারিক ভরণপোষণ চালাতেন। এভাবে মোটামুটি সুখে-শান্তিতেই চলছিল রফিক-রোকসানার জীবন।

গত এক বছর আগে একই গ্রামের লম্পট যুবক দুই সন্তানের জনক নূর হোসেন ওরফে নূরুর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন রোকসানা। এক পর্যায়ে স্বামীকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পনা করে রোকসানা ও নূরু। পরিকল্পনা অনুযায়ী রোকসানার স্বামী মো: রফিকুল ইসলাম রমজানের ছুটিতে বাড়িতে এলে ঘটনার দিন ২০ মে রাত ১১টার পর রোকসানা ও রফিক একসাথে শুইতে যান। রফিক ঘুমিয়ে পড়লেও রোকসানা জেগে থাকেন এবং পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রফিককে মেরে ফেলার জন্য প্রেমিক নূর হোসেন নূরুর জন্য অপেক্ষা করেন। নূরু এসে উপস্থিত হলে প্রেমিক-প্রেমিকা (নূরু-রোকসানা) মিলে প্রথমে রফিককে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন। এরপর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে দা দিয়ে রফিকের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করেন এবং এক পর্যায়ে প্রেমিক নূরুকে সরিয়ে দিয়ে রোকসানা চিৎকার (কান্নাকাটি) করলে প্রতিবেশিরা টের পায় এবং রফিক খুন হয়েছে মর্মে পুলিশকে খবর দেয়।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং ঘটনার প্রাথমিক বর্ণনা শুনে নিহতের স্ত্রী রোকসানাকে সন্দেহ করে লাশের সাথে থানায় নিয়ে আসে। পরে নিহতের বাবা মো: ওহাব মিয়া সওদাগর পুত্র হত্যার বিচার দাবি করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এর পর পুলিশ রোকসানাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে অপকটে রোকসানা পরকীয়া ও হত্যার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে। পরে ২২ মে পুলিশ নিহতের স্ত্রী রোকসানাকে ২২ মে খাগড়াছড়ি ম্যাজিট্রেট আদালতে হাজির করলে বিজ্ঞ বিচারকের সামনে ১৬৪ ধারায় স্বামী হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি।

পুলিশ এ হত্যাকাণ্ডটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করায় হত্যাকাণ্ডের ক্লু দ্রুত সময়ে বের করা গেলেও প্রেমিক নূর হোসেন নূরুকে এখনো আটক করতে পারেনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: আবদুল কাদের এ প্রসঙ্গে বলেন, ঘটনার পর পর অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশীদসহ সঙ্গীয় ফোর্সরা ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখভাল করায় অল্প সময়ে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশীদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও সেনাবাহিনী উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে নির্জন জনপদে গিয়ে নিহতের লাশ ও সন্দেহভাজন রোকসানাকে থানায় নিয়ে এসে পরবর্তী কার্যক্রমে সফলতা এসেছে। এখন ঘটনার অপর ঘাতক নূর হোসেন নূরুকে ধরার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অপরাধীকে ধরতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ