২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মেয়েকে ছাড়া রমজান মাস আমার কাছে যেন কেয়ামত : নুসরাতের মা

মা ও ভাইয়ের সাথে মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি - সংগৃহীত

‘পবিত্র রমজান মাস যাচ্ছে। আমার কাছে যেন কেয়ামত যাচ্ছে। কারণ সেহেরি ও ইফতারের সময় আমার মেয়ে নুসরাত আমার সাথেই খেতে বসতো। গল্প করতো, পানি গরম করতো। আজকে আমার মেয়ে নেই। সবই আছে। রোজাও আছে।’ কথাগুলো বলছিলেন ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার।

নুসরাতকে ছাড়া কেমন আছে তার পরিবারটি; জানতে তার বাড়িতে গেলে নুসরাত জাহান রাফির মা এই প্রতিবেদককে এইসব কথা বলেন। নিজের কলিজার টুকরা মেয়েকে ছাড়া এবারই প্রথম পবিত্র রমজান মাস পার করছেন তারা।

নিহত মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মা শিরিন আক্তার আরো বলেন, আমার মেয়ে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়েছেন। নুসরাত শহীদ হয়ে গোটা বিশ্বের মানুষের মনে দাগ কেটেছে। সে কবরে চিরনিন্দ্রায় শায়িত আছে। নুসরাতের বাবা, দাদা, চাচা ও ভাই সবাই আলেম। দুনিয়াতে কিছু না পেলেও আখেরাতে আমার মেয়ে শহীদী মর্যাদা পাবে।

তিনি বলেন, আমরা ভাল আছি। আমরা জীবিত অবস্থায় নুসরাতের খুনিদের বিচার দেখে যেতে চাই।

উল্লেখ্য, নিহত নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন নুসরাত। পরে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন।

এরপর অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেয়া হয়। এরপর ৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। একপর্যায়ে গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে গত ৮ এপ্রিল ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ১০ এপ্রিল মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই ২২জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার জানিয়েছেন, আগামী ২৭ মে’র মধ্যে এই মামলার চার্জশিট প্রদান করা হবে। এই ঘটনার সাথে ১৬ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পিবিআই। নুসরাতের গায়ে অগ্নিসংযোগের পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন, এসআই ইকবাল আহম্মদ ও মোহাম্মদ ইউছুফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ফেনীর পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। মাদরাসা পরিচালনা কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও ইংরেজি প্রভাষক আবছার উদ্দিনের এমপিও স্থগিত করা হয়েছে।


আরো সংবাদ