২৪ মে ২০১৯

কক্সবাজার ও উখিয়ায় ৫২ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশু উদ্ধার

-

সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা কক্সবাজার ও উখিয়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫২ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার শহরতলীর শুকনাছড়ি ও দরিয়ানগর সমুদ্র ঘাটে রাতের আঁধারে জড়ো করা ২৮ নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করে করে থানায় আনা হয়। আটক মালয়েশিয়াগামীদের মধ্যে ১৩ জন নারী, ৯ জন পুরুষ ও ৬টি শিশু রয়েছে। এসময় পাচারকাজে জড়িত একটি নৌকাও জব্দ করা হয়।

উখিয়া থানার পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উখিয়া উপকূল ইউনিয়নের জালিয়াপালং ইউনিয়নের লম্বরী পাড়াস্থ তাবাইয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৪ জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার সকালে উখিয়া থানায় গিয়ে দেখা যায়, উদ্ধার করা রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ গেস্ট রুমে জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। এদের আত্মীয় পরিচয়দানকারী কুতুপালং ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা যুবক মিজানুর রহমান (২৫) জানায়, পাঁচদিন আগে টেকনাফের হ্নীলা জাদিমোরা ঘাট দিয়ে এপাড়ে এসেছেন তার খালাম্মা গুলমেহের (৬০), খালাত ভাই আব্দুল সালাম (২০), খালাতো বোন রফিকা বেগম (১৮), আমিনা খাতুন (১৫), সিরাজুল ইসলাম (১২)সহ পাঁচ সদস্যের এক পরিবার। তাদের বাড়ি মিয়ানমারের বুচিডং পুইমালি গ্রামে।

গুলমেহের জানান, তার স্বামী মোহাম্মদ কাশেমকে রাখাইন সন্ত্রাসীরা মেরে ফেলেছে। বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে। প্রাণ বাচাঁতে ১০ মে রাতে হ্নীলা জাদিমোরা ঘাট দিয়ে এপাড়ে এলে তাবাইয়া নামের এক ব্যক্তি তাদের মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে লম্বরীপাড়াস্থ তার বাড়িতে পাঁচ দিন রাখে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের জানান, উদ্ধার করা রোহিঙ্গাদের মাঝে ১১ জন মহিলা, মেয়েশিশু দুই জন, ছেলেশিশু তিনজন ও আটজন পুরুষ।

রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলার সময় অফিসার ইনচার্জকে একাধিক রোহিঙ্গা তাবাইয়ার কথা বলতে শোনা গেছে।

অপরদিকে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারকারী একটি চক্র মঙ্গলবার রাতের আঁধারে দরিয়ানগর ও শুকনাছড়ি ঘাটে জড়ো করে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকার শতাধিক মানুষ রাত সাড়ে ৯টার দিকে জড়ো হয়ে সমুদ্র সৈকত ও সৈকতে মানব পাচারকারীদের একটি বাড়ি ঘেরাও করে মোট ২৮ জনকে আটকে রাখে। পুলিশে খবর দেয়া হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ২৮ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটক মালয়েশিয়াগামীদের মধ্যে ১৩ জন নারী, নয়জন পুরুষ ও ছয়টি শিশু।

স্থানীয় যুবনেতা ইমাম হোসেন ও পারভেজ মোশাররফ জানান, মালয়েশিয়ায় আদম পাচারকারী একটি চক্রের সদস্যরা দরিয়ানগর ও শুকনাছড়ি ঘাটকে আবারো মানব পাচারের রুট হিসাবে ব্যবহার শুরু করার খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে একটি বাড়িতে ২৪ জন ও সমুদ্র সৈকত থেকে বাকি চারজনকে আটকে রাখে। এসময় রাতের আঁধারে আরো কিছু মালয়েশিয়াগামীসহ মানবপাচারকারী দালাল সটকে পড়ে।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি ফরিদউদ্দিন খন্দকার জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত সকলেই রোহিঙ্গা বলে স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দালালদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় পাচারকাজে জড়িত একটি নৌকাও জব্দ করা হয় বলে জানান তিনি।

এর আগে ১২ মে রাতে টেকনাফের বাহারছড়া থেকে আটজন, মহেশখালীর কালারমারছড়া থেকে ১৪ জন ও ১১ মে মহেশখালীর পানিরছড়া থেকে ১২ জন মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গাকে আটক করে পুলিশ।


আরো সংবাদ

Instagram Web Viewer
agario agario - agario