১৬ ডিসেম্বর ২০১৯

পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় শ্যালক খুন : প্রেমিকযুগলের বিরুদ্ধে মামলা

আটককৃত পরকীয়া প্রেমিকা চুমকি ও প্রেমিক মিজানুর। (ডানে) নিহত শ্যালক সুমন - নয়া দিগন্ত

স্ত্রীর সম্পর্কীয় ভাগ্নির সাথে পরকীয়া ও তাতে বাধা দেয়ার জেরে নিজের শ্যালককে জেরে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে পরকীয়া প্রেমিক ও ঘাতক দুলাভাই মোঃ মিজানুর রহমান (৩৪) ও তার প্রেমিকা সুমি আক্তার চুমকিকে (১৮) আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার লাকসাম থানায় নিহতের পিতা মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের দুলাল মিয়া বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। এদিকে আটকের পর পরকীয়া প্রেমিকযুগলকে আদালতে পাঠিয়েছে লাকসাম থানা পুলিশ।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত ঘাতক ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান তার স্ত্রীর সম্পর্কীয় ভাগ্নি চুমকির সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিল। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার এলাকায় সালিশ দরবারও হয়। এরপরেও তারা পরকীয়া প্রেমের পথ থেকে ফিরে আসেনি। সোমবার সকালে ওই পরকীয়া প্রেমিকযুগল পালিয়ে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

একপর্যায়ে মিজানুর রহমান ও তার প্রেমিকা চুমকি সোমবার সিলেট থেকে লাকসাম রেলওয়ে জংশনে এসে নামে। এ সময় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ট্রেনের জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করার সময় পরকীয়া প্রেমিক মিজানুরের শ্যালক নিহত নির্মাণ শ্রমিক শামীম হোসেন সুমন, তার বন্ধু ইমরান হোসেন ও নাজমুস শাহাদাত নাঈম তাদেরকে দেখে ফেলে।

ওই সময় মিজানুর ও চুমকিকে বুঝিয়ে কৌশলে একই সিএনজি অটোরিক্সা যোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। পথিমধ্যে উপজেলার পৌলাইয়া নামকস্থানে এসে পৌছলে হঠাৎ ঘাতক মিজানুর রহমান ও প্রেমিকা চুমকি তাদের সাথে থাকা ছোরা বের করে সকলকে জিম্মি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে পরকীয়া প্রেমিকযুগলকে জাপটে ধরতে গেলে মিজানুরের এলোপাথাড়ী ছুরিকাঘাতে সুমন ও ইমরান হোসেন গুরুতরভাবে আহত হয়। আহতদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে গুরুতর আহতাবস্থায় সুমন ও ইমরানকে স্থানীয় হাসপাতালে পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে শ্যালক সুমন মারা যায়।

এদিকে নিহত শ্যালক সুমনের বন্ধু ইমরান বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়। এদিকে স্থানীয় লোকজন ঘাতক মিজানুর ও তার পরকীয়া প্রেমিকা চুমকিকে আটক করে লাকসাম থানা পুলিশকে খবর দেয়।

জানা যায়, লাকসাম সদরের গাজীমুড়া গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে সিএনজি অটোরিক্সা চালক মিজানুর রহমান পার্শ্ববর্তী মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের কলিম উল্লার মেয়ে নুরজাহানকে বিয়ে করে। তাদের সংসারে ১২ বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। এদিকে মিজানুরের পরকীয়া প্রেমিকা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার শাপলাবাগ গ্রামের চিতার মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তার চুমকি ওই গ্রামে নিজের নানাবাড়িতে বসবাস করতো।

এদিকে মিজান নিজের শ্বশুরবাড়ি আসা যাওয়ার সুবাদে চুমকির সাথে পরিচয় ও পরবর্তীতে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে ওই গ্রামে বেশ কয়েকবার সালিস দরবারও হয়েছিল। একপর্যায়ে ঘটনার কয়েকদিন আগে তারা উভয়ে পালিয়ে সিলেটে চুমকীর বাড়িতে চলে যায়।

ঘাতক দুলাভাই মিজানুরের ছুরিকাঘাতে নিহত শ্যালক সুমনকে সোমবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে মনোহরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেন নিহতের বাড়িতে যান।

এ বিষয়ে লাকসাম থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে লাকসাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামী মিজান ও চুমকিকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।


আরো সংবাদ




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik