২৭ মে ২০১৯

সাড়ে ৭ লাখ টাকা হজম করতে পারলেন না এই সরকারি কর্মকর্তা

বান্দরবানে দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানি - নয়া দিগন্ত

বান্দরবানে দুর্নীতি দমন কমিশনের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে এই গণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম।

এদিকে গণশুনানিতে দুর্নীতির দায়ে ফেঁসে গিয়েছেন সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্য চাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বান্দরবানে দুটি জলাশয় নির্মাণ করে দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করায় সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিনকে দুটি প্রকল্পের মোট ৭ লাখ ৩৭ হাজর টাকা ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার।

ঠিকাদার উচনু মারমার স্ত্রী লিলি প্রু মারমা দুর্নীতি দমন কমিশনে সদর উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে গণশুনানিতে অভিযোগটি উত্থাপন করা হয়। সেখানে মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন তার অভিযোগ স্বীকার করে নিলে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার আত্মসাতকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার নির্দেশ দেন।

জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শুনানিতে অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদার, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অংচ মং মারমা প্রমুখ। শুনানিতে বান্দরবানের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম জানান, দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত টাকা মৎস্য কর্মকর্তা জিয়া উদ্দিন বুধবার টাকা জমা দিবেন। ঐ টাকা অভিযোগকারীদের সাথে নিয়ে তাদের প্রাপ্য টাকা বুঝিয়ে দেয়ার পর বাকি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এছাড়া গণশুনানিতে বান্দরবানের বিদ্যুৎ বিভাগ, ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।

আরো পড়ুন : অসহায় বিধবার ঘর ভেঙে দিল সরকারি কর্মকর্তা
আরফাত বিপ্লব, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম), (১৪ মার্চ ২০১৯)

টাকা না পেয়ে লোহাগাড়ার এক বিধবার ঘর ভেঙে দিয়েছে বন কর্মকর্তা। গত বুধবার চুনতী ইউনিয়নের সাতগড় এলাকার মাস্টারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

বিধাবা শাহিন আক্তার জানান, শত বছর ধরে তাদের পরিবারের পূর্বপুরুষরা এ জায়গায় বসবাস করে আসছেন। ১১ বছর আগে তার স্বামী আহমদ কবির মারা যান। ৩ ছেলের মধ্যে একজন আজন্ম রোগাক্রান্ত। তাকে প্রতিমাসে রক্ত দিতে হয়। দিনমজুরি ও বাড়ি বাড়ি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে তারা।

সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংক ও ইসলামি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটি সেমিপাকা বাড়ি তৈরি করে বিধবা শাহিন। বাড়ির কাজ প্রায় শেষ হলে বনবিভাগ থেকে লোক এসে ৬০ হাজার টাকা দাবি করেন। শাহিন আক্তার এই টাকা দিতে অপারগতা জানালে বুধবার ১৫/১৭ জন লোক এসে কিছু বুঝে উঠার আগেই হাতুড়ি বল্লম দিয়ে ঘরের দেয়াল ভাঙতে থাকে।

এসময় শাহিন আক্তার ও তার পুত্রবধু পারভিন আক্তার ফরেস্ট অফিসারের পায়ে পড়লেও কর্ণপাত করেনি। এরপর তারা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের শরনাপন্ন হলে তিনিও তাতে হস্তক্ষেপ করেননি বলে জানিয়েছেন শাহিন আক্তার।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চুনতী ইউপি চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদ্বীন জনু নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘বনবিভাগের জায়গায় বাড়ি করলে কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে টাকা-পয়সা দিতে হয়। এই মহিলা টাকা দেয়নি তাই হয়তো ঘরটি ভেঙে দিয়েছে।’

যোগাযোগ করা হলে চুনতী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের বিট কর্মকর্তা এটিএম গোলাম কিবরিয়া জানান, ‘বনবিভাগের জায়গার উপর ঘর তৈরি করায় সেই ঘর ভেঙে দিয়েছি। এটি আইনত বৈধ।’

টাকা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে সাতগড় বনবিট কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে কি, ওইদিন ঘর ভেঙে দিয়ে আসার পর আমারও খারাপ লেগেছে। কিন্তু কিছুই করার ছিল না। উর্দ্ধতন অফিসারদের নির্দেশেই আমাদেরকে কাজটি করতে হয়েছে। ওরা বাড়ি তৈরি করেছিল বন বিভাগের জায়গায়।’

এদিকে এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ঘর তৈরি করার আগেই বাধা দিলে একটা কথা ছিল। বাংক থেকে লোন নিয়ে নির্মাণ করা এই অসহায় পরিবারটির ঘর ভেঙে দেয়া অত্যন্ত অমানবিক। বনবিভাগের জায়গার উপর অনেকেই ঘর তৈরি করে যুগ যুগ ধরে বসবাস করছে। তাদের কাউকে কিছু না বলে বিধবা মহিলার ঘর ভেঙে দেয়া অত্যন্ত দুঃখজনক কাজ।


আরো সংবাদ




Instagram Web Viewer
Epoksi boya epoksi zemin kaplama hd film izle Instagram Web Viewer instagram takipçi satın al/a> parça eşya taşıma evden eve nakliyat Bursa evden eve taşımacılık gebze evden eve nakliyat Ankara evden eve nakliyat
agario agario - agario