২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

৩ বিদেশী সাংবাদিকের ওপর রোহিঙ্গাদের হামলা

রোহিঙ্গাদের হামলায় আহত জার্মান সাংবাদিক ও ভাংচুরকৃত গাড়ি - নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের হামলায় ৩ জার্মান সাংবাদিক ও পুলিশসহ ৬জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কুতুপালং ক্যাম্প-১ ইস্ট এর লম্বাশিয়া বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিনজন জার্মান সাংবাদিক ও একজন বাংলাদেশি দোভাষী, একজন পুলিশ ও একজন গাড়ির ড্রাইভার রয়েছেন।

হামলায় আহতরা হলেন জার্মান সংবাদিক ইয়োচো লিওলি (৪৪), এস্ট্যাটিউ এপল (৪৯) ও গ্রান্ডস স্ট্যাফু (৬১), তাদের বাংলাদেশী দোভাষী মোঃ সিহাবউদ্দিন (৪১), গাড়িচালক নবীউল আলম (৩০) ও পুলিশ সদস্য জাকির হোসেন (৩৩)।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন জানান, জার্মান সাংবাদিকরা ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন থেকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে লম্বাশিয়ায় বাজারে এক রোহিঙ্গা পরিবারকে জামা-কাপড় কিনে দিচ্ছিলেন। কিন্তু ক্যাম্পের ভেতরে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা 'শিশুদের কৌশলে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে' ভেবে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে উগ্র রোহিঙ্গাদের হাতে আহত হন জাকির হোসেন নামে এক পুলিশ সদস্য।

কুতুপালং মধুরছড়া পুলিশের ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইয়াছিন জানান, জার্মান সাংবাদিকরা ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশন থেকে সংবাদ সংগ্রহ শেষ করে ফেরার পথে লম্বাশিয়া বাজারে এক রোহিঙ্গা পরিবারকে জামা কাপড় কিনে দিচ্ছিলেন। এই সময় রোহিঙ্গারা অপহরণকারী বলে গুজব ছড়িয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় রোহিঙ্গারা বিদেশিদের ব্যবহৃত গাড়ি ভাংচুর করে। তাছাড়া হামলাকারীরা ক্যামেরা, তাদের কাগজপত্র (পাসপোর্ট) ও সাথে থাকা জিনিসপত্রও ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, পরে আহতদের উদ্ধার করে সেনা ক্যাম্পে অবস্থিত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয় এবং গাড়ীটি উদ্ধার করে উখিয়া থানায় নিয়ে আসা হয়।

কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ নুর জানান, জার্মান সাংবাদিকেরা একটি রোহিঙ্গা পরিবারকে কাপড় কিনে দেয়ার জন্য গাড়িতে উঠালে রোহিঙ্গারা বিষয়টি ভিন্ন ভাবে নিয়ে অপহরণকারী মনে করে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ৩জন বিদেশী সাংবাদিক আহত হয়।

উখিয়া থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের বলেন, জার্মান সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের ধরতে ও মালামাল উদ্ধারে পুলিশের পাশাপাশি সেনা, বিজিবি, র‌্যাব একসাথে অভিযান চালাচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক বা সনাক্ত করা যায়নি।

 

১ লাখ পিস ইয়াবা ও ট্রলারসহ ১১ রোহিঙ্গা আটক
নয়া দিগন্ত অনলাইন, (২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯)

কক্সবাজারের টেকনাফে কোস্টগার্ড জওয়ানরা সাগরে অভিযান চালিয়ে এক লাখ পিস ইয়াবা, ট্রলার ও ১১ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড টেকনাফ সিজি স্টেশনের কমান্ডার ফয়েজুল ইসলাম মন্ডল (বিএন,এক্স) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি দল সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মিয়ানমার হতে একটি ট্রলার বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ করতে দেখে ধাওয়া করে আয়ত্বে নেয়া হয়।

এরপর ট্রলারটি তল্লাশি করে ১ লাখ ইয়াবা ও ট্রলারসহ মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মন্ডু থানার বুচিদংয়ের মইন্যা পাড়ার আবু বক্করের পুত্র কবির আহাম্মদ (৩৫), মৃত হাবিবুল্লাহর পুত্র মোঃ নবী (২০), করিম উল্লাহর পুত্র আমান উল্লাহ (১৮) , মৃত হাবিব উল্লাহর পুত্র তারেক উল্লাহ (১৪), মৃত মোঃ শাকেরের পুত্র কামাল উদ্দিন (২০), আবু তাহেরের পুত্র মোঃ ছাবের (১৮), মৃত আবু তাহেরের পুত্র মোঃ রিয়াজ (১৪), হাফেজ আহমদের পুত্র মোঃ শাকের (১৬), নুর মোহাম্মদের পুত্র মোঃ ফয়সাল (১৬) , আব্দু শফির পুত্র রহমত উল্লাহ (১৯) ও শামসুদ্দিনের পুত্র মোঃ রিয়াজ উদ্দিন (১৮) সহ ১১ জন নাগরিককে আটক করে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মাদক আইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলা দায়েরের পর টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


আরো সংবাদ