২৭ জুন ২০১৯

সীমান্তে কাটা তারের বেড়া শক্ত করছে মিয়ানমার

সীমানে কাটা তারের বেড়া তৈরি করছে মিয়ানমার - নয়া দিগন্ত

বান্দরবানের তুমব্রু সীমান্তে খালের ওপর কাটা তারের বেড়া শক্ত করছে মিয়ানমার। পরে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র কর্মকর্তারা সোমবার সকালে এলাকাটি পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, তুমব্রু বাজারের কাছে নো-ম্যানস ল্যান্ডের তুমব্রু খালের ওপর পাকা স্থাপনা নির্মান করা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থাপনাটি সেতু নাকি বাঁধ সেটি নিয়েও তৈরি হয়েছে ধূম্রজাল। পাশাপাশি আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে নো-ম্যানস ল্যান্ডে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে।

বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল এস এম বায়েজিদ খান জানান, তুমব্রু খালের ওপর মায়ানমার কর্তৃপক্ষ কাটা তারের বেড়া সংস্কার করছে। খালের ওপর আগে কাঠের খুটি ছিল এটি পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখানে আরসিসি পাকা পিলার দেয়া হচ্ছে। এটি কোনো সেতু বা বাঁধ নয়।

তিনি আরো বলেন, তবে নো-ম্যানস ল্যান্ডে কেন তারা এটি নির্মাণ করছে তা জানতে চেয়ে সোমবার দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপিকে চিঠি দেয়া হবে। তাদের কাছ থেকে জবাব আসলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।
তুমব্রু এলাকার ইউপি সদস্য আবদুর রহিম ও বাজার এলাকার স্থানীয়রা জানান, গত কয়েকদিন থেকেই খালের পাশে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী পাকা স্থাপনা ও পিলার তৈরি করছে। এটির কারণে বর্ষা মৌসুমে তুমব্রু বাজার ও কোনাপাড়া পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এটি সেতু নাকি বাঁধ তা সঠিক বোঝা যাচ্ছে না। এ প্রেক্ষিতে সীমান্তে বিজিবি নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানান তারা।

এদিকে নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করা রোহিঙ্গারা জানান, তুমব্রু সীমান্তে আবারো সেনা টহল বাড়িয়েছে মিয়ানমার। এদিকে গত ডিসেম্বর মাস থেকেই বান্দরবান সীমান্ত সংলগ্ন মিয়ানমারের আরাকান ও চিন রাজ্যের স্বাধীনতাকামী গ্রুপ আরাকান আর্মির সাথে দেশটির সেনাবাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। গোলযোগের কারণে রাখাইন রাজ্যের বুথিডং, রাথিডং মংডুসহ বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন ও রোহিঙ্গারা আতংকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাচ্ছে। সেখানে গত কয়েকদিন থেকে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সাড়াশি অভিযান চলছে। অন্যদিকে সীমান্তে সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধে বান্দরবান সীমান্তের রুমা ও থানছি এলাকায়ও যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে।


আরো সংবাদ