২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চাটখিলে ১৮২ মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে পুলিশের চিঠি

-

সংশোধনের জন্য ১৮২ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে চিঠি দিয়েছে নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানা পুলিশ, এর সাথে অব্যাহত রয়েছে (ভ্রাম্যমান থানা কার্যক্রম) পুলিশি সেবা প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌছে দিতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির অপরাধ বিরোধী গণমুখী পুলিশিং ব্যবস্থাপনার অংশ হিসাবে এবং জেলা পুলিশ সুপারের মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলের নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া জেগেছে।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের বিভিন্ন সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ১৮২জন মাদক ব্যবসায়ীকে গত মঙ্গলবার এই ব্যবসা এবং নেশা থেকে বিরত থেকে ফিরে এসে স্বাভাবিক জীবন যাপনের আহ্বান জানিয়ে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে মাদক নির্মূলে সাঁড়াশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভ্রাম্যমান থানায় জিডি করা, মামলা দায়ের, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রদান, আইনি পরামর্শ সহ সকল আইনি সুযোগÑসুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এতে কোনো প্রকার হয়রানি বা অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। চাটখিল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমাউল হক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লোকজনকে তথ্য প্রদানের জন্য আহবান জানিয়ে যাচ্ছেন।
মাদক নির্মূলে থানা পুলিশের কর্মকর্তাদের শপথ করিয়েছেন এবং গণসচেতনতার সৃষ্টি করেছেন। গত দুই মাসে নাশকতার মামলায় ৪২ জন, মাদক ব্যবসায়ী ৮০ জন এবং মাদকসেবী ৪০ জন, নিয়মিত মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানার ৬০ জনকে গ্রেফতার এবং বিপুল সংখ্যক মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
গত ১ মাসে দশঘরিয়া, বদলকোট, কুলশ্রী ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, সিংবাহুড়া গার্লস একাডেমী, শাহাপুর ইউপি পরিষদ কার্যালয় এবং রামনারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভ্রাম্যমান থানা আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো থানা এলাকায় এ কার্যক্রম চলবে। উপকারভোগী রামনারায়নপুরের আবুল কাশেম জানান, তার উপর নির্যাতনের একটি অভিযোগ নিয়ে তিনি তিনদিন চাটখিলে গেলেও দালালের দৌরাত্মের কারনে তিনি পুলিশের আইনী সহযোগীতা নিতে ব্যর্থ হন। ভ্রাম্যমান থানায় অভিযোগ করে সাথে সাথে প্রতিবাদ পেয়েছেন। ১নং সাহপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম হায়দার কাজল জানান, পুলিশ জনগনের বন্ধু এটা ভ্রাম্যমান থানা কার্যক্রমে প্রমাণিত হচ্ছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ ইমাউল হক জানান, পুলিশ সম্পর্কে জনগণের ধারণার পরিবর্তন করতে লোকজন যাতে অবাধে ন্যায্য বিচার পায়, কোনো ধরনের হয়রানি বা প্রতারণার শিকার না হন এবং দালালদের খপ্পরে না পড়েন তার জন্য তিনি ভ্রাম্যমান থানার কার্যক্রম আরম্ভ করেছেন এবং তা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অফিসারদের শপথ করানোর পর মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে।


আরো সংবাদ