১৫ নভেম্বর ২০১৮
রামগঞ্জে আলোচিত নুশরাত ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনা

নুশরাতের পরিবারের বিরুদ্ধে ধর্ষক রুবেলের বাবার মামলা

আটক রুবেল। (ইনসেটে) নুসরাত -

লক্ষীপুরের রামগঞ্জের আলোচিত নুশরাত (৭) ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে হত্যাকাণ্ডের শিকার নুশরাতের বাবা-মাসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা করেছে ধর্ষক ও হত্যাকারী রুবেল হোসেনের বাবা সিরাজুল ইসলাম।

১ আগষ্ট ধর্ষক ও ঘাতক রুবেলের পিতা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম লুটপাটের অভিযোগ এনে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিপুরণের দাবিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার নুশরাতের পিতা মোঃ এরশাদ মিয়াকে প্রধান আসামী করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুর জুডিসিয়াল আমলী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সিআর ২১৯/১৮ মামলা দায়ের করেন।  আদালত মামলা করার পর রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। তারই আলোকে রামগঞ্জ থানার এসআই মোঃ তাজুল ইসলাম রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশের উপস্থিতি এবং তাদের বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলার খবর জানতে পেরে নুশরাতের পরিবারে নতুন করে আহাজারি চরম আকার ধারণ করে। মেয়ে হারানোর শোকের ক্ষত না শুকাতেই উল্টো মিথ্যে মামলার আসামী হওয়ার খবর ১০ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে উপজেলাব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে সকল শ্রেনী-পেশার লোকজনের মাঝে সর্বত্র চরম ক্ষোভ ও মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

একমাত্র মেয়ে নুশরাতের নিখোঁজের তিনদিন পর পাশ্ববর্তি ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়ার একটি খাল থেকে ব্যাগভর্তি অবস্থায় শিশু নুশরাতের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে রামগঞ্জ থানা পুলিশ।

নুশরাতের মা রেহানা বেগম ও বাবা এরশাদ হোসেন জানান, আমাদের আর বেঁচে থেকে লাভ কি। নিজের মেয়ে নুশরাতকে হারিয়ে এখন আমরা উল্টো ১৫ লাখ টাকার লুটপাট মামলার আসামী। কারা এ মিথ্যে মামলা নিলো ? আমার মেয়েকে নেক্কারজনকভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। আসামী গ্রেফতার হয়েছে। থানা পুলিশ, কোর্ট কাছারীতে জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেছে রুবেল কিভাবে আমার কলিজার টুকরাকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হয়েছে। এখনো আমার মেয়ে হত্যাকারীর কোন বিচার শুরুই হয়নি উপরন্তু আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।

রুবেল হোসেনের বাবা সিরাজুল ইসলামের দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তাজুল ইসলাম জানান, লক্ষ্মীপুর কোর্টে একটা মামলা হয়েছে। ওই মামলার এজহারের কপি হাতে পেয়ে তদন্তের জন্য আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।

রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকম রুহুল আমিন জানান, ধর্ষণ শেষে শিশু নুশরাতকে হত্যা করা হয়েছে। এটা দেশব্যাপী আলোচিত বিষয়। উত্তেজিত লোকজনরাই ঘটনার দিন ধর্ষক রুবেলের বাড়িঘর ভাংচুর করেছে। ওই দিন শুধু বাড়িঘর নয় উত্তেজিত জনতা তখন রুবেলকে সামনে পাওয়া মাত্রই মেরেই ফেলতো। আর যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন সেখানে নুশরাতের বাবার বিরুদ্ধে লুটপাটের মামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি এই মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও নারী নেত্রী সুরাইয়া আক্তার শিউলী জানান, ধীক্কার জানাই। এতবড় ঘটনাকে ভীন্নখাতে প্রবাহিত করতে যারা উঠে পড়ে লেগেছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদেও প্রতি উদাত্ত আহবান জানান, যেন একটি সত্য ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য কোন অন্যায় ও মিথ্যা ঘটনার জন্ম দেয়া না হয়। তাহলে মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারাবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৩ মার্চ শুক্রবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের নোয়াগাঁও নজুমুদ্দিন বাড়ীর (কালু মেস্তুরির বাড়ীর) প্রবাসী এরশাদ হোসেনের মেয়ে ও স্থানীয় পশ্চিম নোয়াগাঁও ফয়েজুল রাসূল সুন্নিয়া মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুশরাত জাহান (৭) বাড়ী থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের তিনদিন পর ২৬ মার্চ পাশ্ববর্তি ভ্রহ্মপাড়া এলাকার খাল থেকে ব্যাগ ভর্তি অর্ধগলিত নুশরাতের লাশ উদ্ধার করে রামগঞ্জ থানা পুলিশ। এ নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্কুল কলেজ শিক্ষার্থী ও ঢাকা ও চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে হাজার হাজার মানুষ শিশু নুশরাত হত্যাকান্ডের ঘটনার মূল আসামীকে গ্রেফতার করতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তোতা মিয়ার কৌশলী হস্তক্ষেপে নুশরাত হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা একই বাড়ীর সর্ম্পকৃত চাচা মোঃ রুবেলকে খুলনার একটি থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। পরবর্তিতে রামগঞ্জ থানা পুলিশ লক্ষ্মীপুর জেলা জজ কোর্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করলে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুানাল মামলাটি গ্রহণ করে।


আরো সংবাদ