২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ধ্বংসের মুখে উত্তর চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বারইয়ারহাট লেনদেন

-

ধ্বংসের মুখে পড়েছে উত্তর চট্টগ্রামের বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বারইয়ারহাট। প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ব্যবসায়ী অলস সময় পার করছে। অথচ আগে দৈনিক গড়ে লেনদেন হতো কয়েক কোটি টাকা। এখন তার অর্ধেকেও হচ্ছে না। গোল চত্বর অথবা আন্ডারপাস না থাকায় ক্রেতা বিক্রেতারা সড়ক পারাপারে দূর্ভোগে পড়েছে। একটি ফুটওভার ব্রীজ থাকলেও ভারি কোন সদায়পাতি নিয়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারছে না। গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত। ফলে উত্তর চট্টগ্রামের বড় এই বাজারে গোল চত্বর অথবা আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, বারইয়ারহাট থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ৭০ ও ফেনীর দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। বারইয়ারহাট বাজারটি কয়েকটি অঞ্চলের সংযোগস্থল। ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াও ফেনী, নোয়াখালী, ছাগলনাইয়া, করেরহাট, রামগড়, খাগড়াছড়ি ও ফটিকছড়ির সাথে যোগাযোগের জন্য একমাত্র রাস্তা। রয়েছে বড় একটি গরু বাজার। এই বাজারে রয়েছে কলেজ ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২টি সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৪টি বেসরকারি হাসপাতাল, প্রায় ১০টি ক্ষুদ্র ঋণের এনজিও সংস্থা, ১টি রেলষ্টেশন, ৪/৫টি মসজিদ, রয়েছে ৫০টি স্বর্ণের দোকান, ৬৯টি হার্ডওয়ার টাইলস স্যানেটারী দোকান, ৫৫টি ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকক্সের দোকান, ২৫টি ক্রোকারিজ দোকান, ১৫০টি ফল দোকান, ৫০টি ঔষধের দোকান, ২০০টি মুদি দোকান, ৩০০টি মাছ দোকান, ৫০টি জুতার দোকান, ৭০টি মোবাইল দোকান, কয়েক হাজার ভ্রামমান্য দোকান, ২০০টি কাপড়ের দোকান, প্রায় ৫০টি ছোট বড় কুলিং কর্ণার, ১৫টি রেস্টুডেন্ট, ৫টি আবাসিক হোটেল, ৫০টি সেলুন, ১০০টি ফার্নিচার দোকান, ৩০টি পান সুপারির দোকান, ৫০টি কসমেটিকস দোকান, ১০টি চাউলের আড়ৎ, ১০টি ফিড দোকান। এছাড়া রয়েছে এনসিসি ব্যাংক, অগ্রনী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সাউদইষ্ট ব্যাংক, কৃষি ব্যাংকের শাখা। শুধু তাই নয় রয়েছে ৩টি বাস ষ্ট্যান্ড, ৪টি সিএনজি ষ্ট্যান্ড, ১টি পিক আপ ষ্ট্যান্ড, ১টি মাইক্রো-কার ষ্ট্যান্ড। প্রথম শ্রেনীর পৌরসভার এই বাজারটি থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু গোলচত্বর অথবা আন্ডারপাস না থাকায় ৫ হাজার ব্যবসায়ী অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এমতাবস্থা লোকসানের মুখে পড়ে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, সড়কে ডিভাইডার থাকায় পথচারীদের চলাচল করতে অসুবিধা হচ্ছে। পথচারী পারাপারে একটি ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তবে তা একপাশে হওয়ায় পথচারীরা ওভার ব্রিজ দিয়ে চলাচল করেন না। এক কিলোমিটারের মধ্যে গাড়ি পার হওয়ার কোনো জায়গা না থাকায় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
আল-আমিন গ্রুপের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কের বারইয়ারহাটে পথচারী পারাপারে যে ওভারব্রিজ দেয়া হয়েছে তা একপাশে হওয়ায় মানুষ চলাচল করেন না। রামগড়, খাগড়াছড়ি সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা গাড়িগুলো অনেক দূর দিয়ে আসতে হয়। আন্ডারপাস না থাকায় এক বস্তা চাল বাজারের পূর্বপাশ থেকে পশ্চিম পাশে নিতে ১০০ টাকা ভাড়া লাগে। অথচ তিন কিলোমিটার দূরে জোরারগঞ্জ বাজার থেকে এক বস্তা চাল আনতে খরচ পড়ে ২০ টাকা। এ ছাড়া হাসপাতালগামী রোগী অনেক দূর দিয়ে আসায় তারা ভোগান্তিতে পড়েন।
বারইয়ারহাট স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও লাকি জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী গিয়াস উদ্দিন পেয়ার জানান, বারইয়ারহাট পৌরবাজারটি উত্তর চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে ফেনী, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, রামগড়, ছাগলনাইয়া, ফটিকছড়ির একমাত্র সংযোগসস্থল। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত রয়েছে। কিন্তু সড়কে আইল্যান্ড নির্মাণের কারণে ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। এ সংযোগ স্থলে আন্ডারপাস স্থাপন করা হলে পথচারীদের ভোগান্তি কমত। এ ছাড়া মানুষ পারাপার হতে যে স্থান রয়েছে তা একেবারে অপ্রতুল। অনেক সময় একসাথে পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারীরা।
লাকী ফ্যাশন মলের স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ শামসুদ্দিন ও হাসান সুজ এর স্বত্ত্বাধিকারী শাদাত হোসেন সাদেক জানান, সিএনজি অটোরিক্সা বন্ধ হওয়ায় গ্রামঞ্চলের মানুষ আগের মত আসতে না পারায় ব্যবসা একেবারে কমে গেছে। এরপর ডিভাইডার বন্ধের পর তো অবস্থা আরো করুণ। তাই আন্ডারপাস অথবা গোল চত্বর নির্মাণ করা প্রয়োজন।
এনসিসি ব্যাংক বারইয়ারহাট শাখা ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম জানান, বারইয়ারহাট বাজারে ৯টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে। অনেক বৃদ্ধ ও মহিলা গ্রাহক ফুট ওভারব্রীজ ব্যবহার করে সড়ক পারাপার হতে পারে না। একটি আন্ডারপাস অথবা গোলচত্বর জরুরী।
বারইয়ারহাট গরু ছাগল বাজার ইজারাদার ও পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন জানান, ডিভাইডার বন্ধ করে দেয়ায় ও আন্ডারপাস না থাকায় চলতি বছর কোরবানী ঈদে বারইয়ারহাট গরু বাজারে প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।
বারইয়ারহাট পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন জানান, বারইয়ারহাট বাজারে গোল চত্বর অথবা আন্ডারপাস নির্মাণের বিষয়ে ইতিমধ্যে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।


আরো সংবাদ