২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন কাল

-

আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্পের বাংলাদেশ অংশের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কাজের উদ্বোধন করবেন। রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভিডিও কনফারেন্স উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে এক সুধী সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। ওই সুধী সমাবেশে বাংলাদেশ সরকারের একাধিক মন্ত্রীও উপস্থিত থাকতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মোফাজ্জেল হোসেন আখাউড়ায় সাইট পরিদর্শন করতে এসে স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে এমনটিই জানিয়েছিলেন।

আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন প্রকল্পটি নির্মাণ হলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথমদিকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে।

২০১৬ সালের ৩১ জুলাই একই প্রকল্পের ভারতের আগরতলা অংশে কাজের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের রেলপথ মন্ত্রী মো: মুজিবুল হক, ভারতের রেলপথ মন্ত্রী সুুরেশ প্রভাকর প্রভু। ইতিমধ্যেই ভারতের অংশে রেলপথ নির্মাণের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।

এদিকে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের অংশে ৫৬.৩৬ এক জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া শেষে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছে। আখাউড়ার সহকারি কমিশনার (ভূমি) জেসমিন সুলতানা জানিয়েছেন বিগত জুন মাসেই অধিগ্রহন ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

আখাউড়া থেকে আগরতলার রেললাইনের দৈর্ঘ্য হবে মোট ১৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে বাংলাদেশের অংশে ১০ কিলোমিটার ও ভারতের অংশে পাঁচ কিলোমিটার। আখাউড়া থেকে গঙ্গাসাগর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে মনিয়ন্দ ইউনিয়নের শিবনগর পর্যন্ত হবে বাংলাদেশের রেললাইন। ওপারে নিশ্চিন্তপুর হয়ে রেললাইন যাবে আগরতলায়।

তথ্যানুসন্ধ্যানে জানা যায়, বিগত ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরকালে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগে যৌথ ইশতেহার ঘোষিত হয়। এরপরই ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আখাউড়া ও আগরতলার মধ্যে ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় একনেক।

সূত্রমতে, আখাউড়া-আগরতলা রেলপথটি নির্মিত হচ্ছে ভারত সরকারের অনুদান রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অংশের ১০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স টেক্সমাকো রেল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। এ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৮০ কোটি রুপি। এর মধ্যে ভারতের পাঁচ কিলোমিটার অংশের জন্য ৫৮০ কোটি রুপি ও বাংলাদেশ অংশের ১০ কিলোমিটারের জন্য ৪০০ কোটি রুপি (৪৭৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা)। রেললাইন নির্মাণে ভারত থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া গেছে ৪২০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অবশিষ্ট ৫৭ কোটি টাকা বাংলাদেশের সরকারি কোষাগার থেকে ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হচ্ছে।

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শামছুজ্জামান জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন উপলক্ষে আখাউড়ায় অনুষ্ঠিতব্য সুধী সমাবেশ উপলক্ষে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।


আরো সংবাদ