১৭ জুলাই ২০১৯

টেকনাফে ৯ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

-

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচারকালে পৃথক অভিযানে ৯ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিজিবি। এসব ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ২৭ কোটি টাকা।
আজ শনিবার ভোররাতে টেকনাফের নাজিরপাড়া ও হারিয়াখালী থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায়নি।
বিজিবি টেকনাফস্থ ২ ব্যাটালিয়ানের অতিরিক্ত পরিচালক শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানান, নাজিরপাড়া আড়িয়াখাল এলাকা দিয়ে মিয়ানমার হতে ইয়াবার একটি বড় চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করার গোপন সংবাদ ছিল। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি বিশেষ টহলদল ঔঁৎ পেতে থাকে। এসময় ২০/২৫ জন লোক ৮টি বস্তা মাথায় নিয়ে খাল পার হওয়ার সময় তাদের ধাওয়া করে বিজিবি। পাচারকারীরা দ্রুত বস্তাগুলো ফেলে পার্শ্ববর্তী গ্রামে পালিয়ে যায়। ৮টি বস্তা হতে ২৪ কোটি টাকা মূল্যের ৮ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পৃথক অভিযানে হাড়িয়াখালী লবন মাঠ এলাকা থেকে একইভাবে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার এসব ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ২৭ কোটি টাকা।
উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে। যা পরবর্তীতে উর্দ্ধতন কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে।
এদিকে বিজিবি টেকনাফ সীমান্তে আগষ্ট মাসে ২০ কোটি ৯২ লক্ষ ৪৭ হাজার ৩৫২ টাকার ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য ও চোরাইপণ্য জব্দ করেছে। এ ঘটনায় ১২৯ মামলার বিপরীতে ৩৮ জনকে আটক এবং ১জনকে পলাতক আসামী করা হয়েছে। এদিকে সীমান্তে বিভিন্ন সংস্থার অভিযানের মধ্যেও মাদকের অপতৎপরতা অব্যাহত থাকায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
টেকনাফ-২ বিজিবি’র অধিনায়কের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক অতিরিক্ত পরিচালক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার জানান ‘১ আগষ্ট হতে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বিওপি ও ক্যাম্প সমূহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট চেকপোস্ট অভিযানের মাধ্যমে ৫০টি মামলার বিপরীতে ৩৫ জন ধৃত আসামী ও পলাতক ১জনসহ ৫৭ হাজার ১১ পিস এবং পরিত্যক্ত ৫ লক্ষ ৯৯ হাজার ৭৮ পিস ইয়াবা বড়ি জব্দ করা হয়। এছাড়া বিয়ারের ৬টি মামলায় ১ হাজার ৯৫ ক্যান বিয়ারসহ ৩জনকে আটক আর মালিকবিহীন ৫১২ ক্যান বিয়ার জব্দ করা হয়। মালিকবিহীন ১টি মামলায় ৩৪ বোতল বিদেশী মদ জব্দ করা হয়। চোলাই মদের ৩টি মামলায় ৩০০ লিটার মদ জব্দ করা হয়। ৬৯টি মামলায় ১ কোটি ১৮ লক্ষ ৭৭ হাজার ৯০২ টাকা মুল্যের অন্যান্য চোরাইপণ্য জব্দ করা হয়েছে। যার সর্বমোট বাজার মূল্য ২০ কোটি ৯২ লক্ষ ৪৭ হাজার ৩৫২ টাকা’।
এব্যাপারে টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ আছাদুদ-জামান চৌধুরী বলেন, ‘দূর্গম সীমান্ত আর সীমাবদ্ধতার মধ্যে বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালান দমনে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ও চোরাচালান দমনে বিজিবি সর্বদা সর্তক অবস্থানে রয়েছে’।

 


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi