২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চান্দিনায় সাড়ে ১১শ’ শিশু শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৮ জন শিক্ষক

-

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদরের অন্যতম প্রাথমিক বিদ্যাপিঠ চান্দিনা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক শূন্যতায় বিঘœ ঘটছে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা।

উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে গড়ে উঠা ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ১ হাজার ১শ’ ৩৫ জন শিশু শিক্ষার্থীদের বিপরীতে মাত্র ৮ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান। উপজেলা পর্যায়ের সব চেয়ে বেশি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের চাপ নিয়ে শিক্ষক সংকটে ব্যহত হচ্ছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম।

সম্প্রতি সহকারি শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি লাভ করায় ওই বিদ্যালয় থেকে এক সাথে পাঁচ শিক্ষকের পদোন্নতিজনিত বদলীতে শিক্ষক সংকট দেখা দেয় উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ওই প্রতিষ্ঠানটিতে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পদোন্নতি পাওয়া আরো একজন শিক্ষক বদলী হওয়ার কথা রয়েছে।

দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়টিতে ১৬টি শ্রেণী কক্ষ থাকলেও প্রতি শিফটে ১০টি শ্রেণীকক্ষে পাঠদান পরিচালনা করছে আটজন শিক্ষক। এতে একদিকে যেমন পাঠদানের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই অপরদিকে প্রচন্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেক শিক্ষার্থীও। পাশাপাশি শিক্ষকরাও পাঠদান হিমশিম খাচ্ছে।

২০১৭ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ওই বিদ্যালয় থেকে ৮১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হলেও এবারের শিক্ষা ব্যবস্থায় ২০১৮ সালের সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সংকিত হয়ে পড়েছে অভিভাবকরা।

বিধিমোতাবেক প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও উপজেলা সদরের ওই প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় দেড়শ’ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক পাঠদান দিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, উপজেলার অনেক বিদ্যালয় রয়েছে যেখানে প্রতি ৩০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক রয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানে শিক্ষক সংকটে আমরা রীতিমত হিমশিম খাচ্ছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউছারুজ্জামান জানান, পদোন্নতি পাওয়ার সাথে সাথে এ বিদ্যালয় থেকে চলতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে পাঁচজন শিক্ষক অন্যত্র বদলী হওয়ায় চাপের মুখে পড়তে হয়েছে আমাদের। এব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ২৬ জুলাইয়ের পর হয়তো নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা শিক্ষা অফিসার এএইচএম শাহরিয়ার রসুল জানান, ইতিমধ্যে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে আগামী সপ্তাহে দুইজন শিক্ষক ডেপুটেশনে নিয়োগ দিবো। এর বেশি দিতে হলে আবারো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন হবে।


আরো সংবাদ