২৬ এপ্রিল ২০১৯
কক্সবাজার পৌর নির্বাচন 

ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে নৌকায় সীল মারার অভিযোগ

কেন্দ্র দখলের বাধা দেয়ায় কাউন্সিলর প্রার্থী মুকুল আহত
নির্বাচন
নৌকায় সিল মারা ব্যালট - ছবি : নয়া দিগন্ত

কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ হলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শহরের ৩ নং ওয়ার্ডের নুরপাড়া কেন্দ্রে এক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণ, ভোটারদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি ও জাল ভোট প্রদানের অভিযোগ করেছেন কাউন্সিলর প্রার্থী আমিনুল ইসলাম মুকুল।

তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক নির্বাচন দেখেছি, কিন্তু এভাবে কেন্দ্র দখলের মহোৎসব আর দেখিনি। নির্বাচনে নিয়োজিত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। সরকারী দলের কাছে অনেকে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশনের কাছে আমি এর প্রতিকার চাই।’

তিনি কেন্দ্র দখলের বাধা দিলে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় আমিনুল ইসলাম মুকুলকে আহত অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়াও অসংখ্য কেন্দ্রে থেকে বিএনপির এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম।

অপরদিকে কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নৌকায় সীল মারার অভিযোগ করেছেন নাগরিক কমিটির মেয়রপ্রার্থী সরওয়ার কামাল।

সকাল থেকে অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে সরকার দলীয় প্রভাবশালীরা ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে প্রকাশ্যে নৌকা মার্কায় সীল মারে। অনেক ভোটারকে মেয়রের ব্যালট বাদে দুইটি ব্যালট পেপার দেয়া হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রের খুব ভয়াবহ অবস্থা।

তিনি অভিযোগ করেন, ১ নং, ২ নং ওয়ার্ডের সবকেন্দ্র, ৭ নং ওয়ার্ডের এবিসি ঘোনা কেন্দ্র, ৫ নং ওয়ার্ডের হাশেমিয়া মাদরাসা কেন্দ্র, ৮ নং ওয়ার্ডের বল্যাপাড়া কেন্দ্র, ১২ নং ওয়ার্ডের কলাতলী কেন্দ্র, ৬ নং ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া কেন্দ্রে প্রকাশ্যে ব্যালট ছিনতাই করে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়া হয়েছে। সব কেন্দ্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতারা এসব করছে। কেন্দ্রগুলোর আশপাশে প্রচুর পরিমাণ বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের ৩৯টি কেন্দ্র ভোট গ্রহণ শুরু হয়। যেখানে ৩টিতে ইভিএম পদ্ধতি ভোট গ্রহণ হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি একটু কম হলেও নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে গ্রহণ করার লক্ষ্যে ৩৯টি ভোট কেন্দ্রে স্থায়ী ২২৪টি ও অস্থায়ী ১১টি বুথ রয়েছে।

এবারের পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে পাঁচজন, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৭ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৮৩ হাজার ৭২৮ জন ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ৪৪ হাজার ৩৭৩ জন ও নারী ভোটার রয়েছেন ৩৯ হাজার ৩৫৫ জন। সার্বিকভাবে এক হাজারের বেশি পুলিশ, ৬ প্লাটুন বিজিবি, ৫০ জন র‌্যাব সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। ১২টি ওয়ার্ডে রয়েছে ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত মাঠে রয়েছে।

আরো পড়ুন : 

মানিকছড়িতে ইউপি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে
আবদুল মান্নান, মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি) 
খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার ৩ নং যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন পরিষদের স্থগিত নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ও আশে-পাশে উৎসবমুখর পরিবেশে এবং ভোটারের ব্যাপক উপস্থিতিতে সকাল থেকে ভোট গ্রহণ চলছে। সকাল ৮ থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত গড়ে ৫০% ভোট কাস্টিং হয়েছে বলে প্রিসাইডিং অফিসাররা নিশ্চিত করেছেন।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ৩নং যোগ্যাছোলা ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মাঝে কিছুটা ভয়-ভীতি থাকলেও নির্বাচন চলাকালে সেটি বোঝা যায়নি। সকাল থেকে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে অনায়াসে ভোটাররা ভোট প্রদান করেছেন। কোথাও কোথাও চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীরা সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ায় ভোটাররা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে।

কালাপানি নতুন বাজার ইসলামীয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ভোটারদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র সাথে আনতে বাধ্য করার ঘটনায় কিছুটা সময় ভোটারদের মাঝে অস্বস্তিবোধ বিরাজ করলেও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

তবে কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের চেয়ে মহিলা ভোটার উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনজন, সাধারণ সদস্য পদে ২৫ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ৩ জন।

এখানে মোট ভোটার পুরুষ ৪৩৯০ জন, মহিলা ৪৪৫৩জন। সকাল ৮ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটের পরিস্থিতি সর্ম্পকে জানতে চাইলে সরকার দলীয় প্রার্থী ক্যয়জরী মহাজন (নৌকা) বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীক মো. জামাল উদ্দীন বলেন, ভোটাররা ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে নিজের ভোট নিজে দিতে পারলে ফলাফল তার পক্ষে আসবে।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ আলমাছ মিয়া (আনারসে) বলেন, আমার ভোটারদেরকে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে, বহিরাগত লোকজন কেন্দ্রে জড়ো হয়েছে। আমি প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। এসব অনিয়ম ঠেকানো গেলে ফলাফল আমার পক্ষে আসবে।

সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যরা নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের খুঁজে খুঁজে কেন্দ্রে নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে একযোগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও সীমানা বিরোধ সংক্রান্ত জনৈক ব্যক্তির মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে উপজেলার ৩ নং যোগ্যাছোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ সময় পর মামলা নিষ্পত্তি হওয়ায় গত ১০ জুন নির্বাচনী তফশীল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন। ফলে আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


আরো সংবাদ

বিজিএমইএর ব্যাখ্যাই টিআইবি প্রতিবেদনের যথার্থতা প্রমাণ করে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার প্রস্তাব সংসদে নাকচ ঢাকায় সবজি আনতে কিছু পয়েন্টে চাঁদাবাজি হয় : সংসদে কৃষিমন্ত্রী বসার জায়গা না পেয়ে ফিরে গেলেন আ’লীগের দুই নেতা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ডিফেন্স কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা আজ জুমার খুতবায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বয়ান করতে খতিবদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান কাল এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনে বাধা নেই জিপিএ ৫ পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী সুপ্রভাত বাসের চালক মালিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট পান্না গ্রুপ এশীয় দেশের ঘুড়ি প্রদর্শনী শুরু পল্লবীতে বাসচাপায় পথচারীর মৃত্যুর ৬ মাস পর চালক গ্রেফতার

সকল




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat