১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮
কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন

ভোট ডাকাতি করা হলে লাগাতার হরতালের হুঁশিয়ারী

-

২৫ জুলাই বহুল আলোচিত কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচনে কোন ধরণের অনিয়ম ও ভোট ডাকাতি করা হলে ভোটের পরের দিন থেকে লাগাতার হরতালের হুঁশিয়ারী দিয়েছেন নাগরিক কমিটির (নারিকেল গাছ প্রতীক) মেয়রপ্রার্থী সরওয়ার কামাল। মঙ্গলবার বিকালে নিজ বাসায় সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

সরওয়ার কামাল বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমানকে বিজয়ী করতে বিভিন্ন এলাকার স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে আনা হয়েছে। তারা শহরের আবাসিক হোটেল ও বাসা-বাড়ী কেন্দ্রিক অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে সন্ত্রাসীদের নিয়ে মিছিল করেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। যা পৌরবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।
আমরা বিশ্বস্থ সূত্রে জানতে পেরেছি, স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র করে নৌকা মার্কার প্রার্থীকে বিজয়ী করার চেষ্টা চালাবে। এছাড়া আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড পর্যায়ের শক্তিশালী টিম নৌকার পক্ষে কাজ করছে। তারা যে কোনভাবে সরকার দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করবে বলে আমাদের কাছে ম্যাসেজ আছে।

সরওয়ার কামাল বলেন, বহিরাগত ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা না হলে নির্বাচন কোনভাবেই সুষ্ঠু হবেনা। একটি পৌরসভার জন্য পুরো সরকারের বদনাম হবে। যদি নীল নকশার নির্বাচন করা হয়, মিথ্যা মামলা, হুমকি, ধমকি ও গ্রেফতার অব্যাহত থাকে তাহলে নির্বাচনের পরের দিন থেকে জেলায় ১ সপ্তাহের হরতাল ডাক দেয়া হবে। তবে, সুষ্ঠু ভোটে যে বিজয়ী হবে তাকে আমরা স্বাগত জানাব।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আমরা নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বারবার অনুরোধ করে আসছিলাম। কিন্তুআমাদের কোন আবেদন রক্ষা করা হয়নি। সরকারী দলের প্রার্থী বেপরোয়াভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্গন করছেন। ‘পৌরসভা নির্বাচন আচরণ বিধিমালা’ ৭ এর ‘ক’, ‘খ’, ‘গ’, ‘ঘ’, ‘ঙ’, ১২ এর (১) ১৩ এর (ক), সুস্পষ্ট লঙ্গন করেছেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত ৩৩টি বিধিমালার অধিকাংশ অগ্রাহ্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। অথচ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। উল্টো আমাদের প্রচারকাজে বাঁধা দিচ্ছে। হামলা মামলা করছে। নির্বাচনী এজেন্টদের বাসা-বাড়ীতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। শুধু নির্বাচনীকর্মী নয়, নিরীহ লোকজনকে থানায় ধরে নিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত আমাদের প্রায় ৪০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুরো নির্বাচনী এলাকায় ‘ভূতের আতঙ্ক’ তৈরী করেছে আওয়ামী লীগ।

নাগরিক কমিটির এই মেয়রপ্রার্থী বলেন, আমি ১৯৯৩ ও ২০০২ সালে পরপর দুইবার পৌর কাউন্সিলর নির্বাচিত হই। একবার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করি। ২০১১ সালে জনগণের ভোটে আমি পৌর মেয়র নির্বাচিত হই। দল মতের উর্ধে উঠে আমি কাজ করি বিধায় সর্বশ্রেণীর মানুষের মাঝে আমার একটা সম্মানজনক অবস্থান রয়েছে। পৌরবাসী আমাকে খুবই ভালবাসে। এই বারের নির্বাচনে সেই অবস্থান আরো সুসংহত হয়েছে। আমার প্রতীক নারিকেল গাছ মার্কার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়।

সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি আরো বলেন, পৌরবাসী নিরব ব্যালট বিপ্লবের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সরকারী দলের প্রার্থী ততই দিশেহারা হয়ে পড়েছে। পুলিশ ব্যবহার করে আমাদের পথসভা ও মিছিলে বাঁধা দিয়ে আতংক সৃষ্টি করছে। ২৩ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার পথসভায় যাওয়ার পথে কালুরদোকান এলাকায় আমাকেসহ আমার নির্বাচনী কর্মীদের ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়। একেমন আচরণ? একেমন গণতন্ত্র? নির্লজ্জ ঘটনায় আমি নিন্দা জানাই। এতে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাচ্ছি।

তার অভিযোগ, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় পুলিশকে নগ্নভাবে ব্যবহার করছে। বাধ্য হয়ে পুলিশ নির্বাচনী কর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানী করছে।

সরওয়ার কামাল আরো বলেন, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক পর্যটন শহর। বর্তমানে এখানে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাহায্য সংস্থার প্রায় ৩০০০ প্রতিনিধি অবস্থান করছে। যদি ভোট ডাকাতি ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন হয় তাহলে কক্সবাজারের মর্যাদা ও সুনাম ভুলুণ্ঠিত হবে। কক্সবাজারে অবস্থানরত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় তিনি সকল ভোটারদের ভয়ভীতির উর্ধ্বে উঠে ভোট প্রদান করার জন্য আহবান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নাগরিক কমিটির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া। তিনি বলেন, বর্তমান পুলিশ বাহিনী ১৯৭৩ সালের ‘রক্ষি বাহিনীর’ স্থান দখল করেছে। তাদের উপর মানুষের আস্থা নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সেনা বাহিনী মোতায়েনের বিকল্প নেই। সংবাদ সম্মেলনে মেয়রপ্রার্থী সরওয়ার কামালের নির্বাচন পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে ৫ মেয়র পদপ্রার্থীসহ মোট প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ৮৬ জন। ১২ টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৪৪ হাজার ৩৭৩ জন ও মহিলা ভোটার রয়েছেন ৩৯ হাজার ৩৫৫ জন। ১২ ওয়ার্ডে মোট ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ৩৯ টি।


আরো সংবাদ