২১ নভেম্বর ২০১৮

সোনাগাজীতে আওয়ামী লীগ দ্বিধাবিভক্ত

সোনাগাজীতে আওয়ামী লীগ দ্বিধাবিভক্ত - ছবি : সংগৃহীত

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেনী-৩, সোনাগাজী আসন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। নির্বাচনী মাঠে দলটির একাধিক প্রার্থী এককভাবে নিজেদের মতো করে জনসমর্থন ও দলীয় সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। 

সরেজমিন ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা য়ায়, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং পদ-পদবি পাওয়া-না পাওয়া এবং দলীয় বলয় সৃষ্টি নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল ইসলাম সেলিম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ সভাপতি আজিজুল হক হিরন, প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ও বতর্মান এমপি রহিম উল্যাহ, উপজেলা চেয়ারম্যান জেড এম কামরুল আনাম, সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ফয়েজুল কবির, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বিভক্ত। বিভিন্ন সময় দলীয় ফোরামে এরা এক সাথে উপস্থিত থাকলে ও অভ্যন্তরে যে যার মতো করে বলয় সৃষ্টি করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন।

ইতোমধ্যে দলের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী জহির উদ্দিন মাহমুদ লিটন, আবুল বাশার, বর্তমান এমপি হাজী রহিম উল্যাহ, নাট্যব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচী, শমী কায়সার যখন এলাকায় জনসমর্থনের জন্য প্রচারণায় আসেন, তখন দলীয় নেতাকর্মীরা দ্বিধা বিভক্তের চিত্র ফুটে ওঠে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতা জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, কেন্দীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শিল্পপতি আবুল বাশার, সংসদীয় আসনের দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটারদের নজর কাড়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এ অবস্থায় এক প্রার্থীর সমর্থকেরা অন্য প্রার্থীর সমর্থকদের সাথে বাগি¦তণ্ডায় জড়িয়ে যাচ্ছেন।

সাম্প্রতি কেন্দ্রীয় নেতা আবুল বাশার ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এলে উপজেলার ভৈরব চৌধুরী বাজারে যুবলীগ কর্মী মিস্টার প্রতিপরে দ্বারা তাৎণিক পুলিশের হাতে গ্রেফতারের শিকার হন। যুবলীগ কর্মী মিস্টার জানান, আমি শুধু বশর ভাইয়ের সাথে দেখা করতে এসে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের শিকার হলাম। একইভাবে এমপি রহিম উল্যাহ উপজেলার ডাকবাংলা নামক স্থানে স্থানীয় জনসাধারণের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গেলে যুবলীগ নেতা বাদল চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বাধার মুখে পড়েন। বিভক্তির বিষয়ে উপজেলা আ’লীগ যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ফয়েজুল ইসলাম সেলিমকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বিভক্তির বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন এবং বর্তমানে হাইব্রিড নেতাকর্মীদের কারণে ত্যাগী আ’লীগ পরিবারগুলো আজ উপেতি। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ফারুক হোসেনকে দ্বিধা বিভক্তি বিষয়ে বলেন, আমি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি হিসেবে প্রিয় নেতা নিজাম উদ্দিন হাজারীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। অন্যদের বিষয়ে আমার জানা নেই। উপজেলা আ’লীগ সভাপতি রুহুল আমীন জানান, সম্ভাব্য প্রার্থীদেরকে কেন্দ্র করে সাময়িক বিভক্ত থাকলেও সব শেষ প্রধানমন্ত্রী নৌকা প্রতীক নিয়ে যাকে পাঠাবেন তাকেই আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে জয় যুক্ত করব।


আরো সংবাদ