মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮
বেটা ভার্সন

পুলিশের ধাওয়ায় রিক্সা আরোহী দুই নারীর মৃত্যু

পুলিশের ধাওয়ায় রিক্সা আরোহী দুই নারীর মৃত্যু - ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনায় পুলিশের ধাওয়ায় পিকআপ চাপায় রিক্সা আরোহী দুই নারীর মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনার পরপর পুলিশের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে মহাসড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে অবরোধ করে বিক্ষুদ্ধ রিক্সা চালক ও এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা পালকি সিনেমা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধের পর পুলিশ ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এসময় আবুল হোসেন (৩৮), কাউসার হোসেন (২২), আশিষ নন্দী (১৯) ও পঙ্কজ সরকার (২৪) নামে চার অবরোধকারীকে আটক করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার শাহআলমের স্ত্রী মাজেদা বেগম (৫৫) ও তার ভাইঝি চান্দিনার হাড়িখোলা গ্রামের নান্না মিয়ার মেয়ে জান্নাত (২৪)। তারা দু'জনের চান্দিনা বাজার থেকে ঈদের কেনাকাটা শেষে বাবার বাড়ি হাড়িখোলায় যাচ্ছিল।

জানা যায়, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী আগমনের বার্তায় মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখতে এবং থ্রিহুইলার চলাচল বন্ধ রাখতে কঠোর হয়ে ডিউটি করছিল হাইওয়ে পুলিশ। দুপুর সোয়া ১২টায় চান্দিনা বাস স্টেশন থেকে দুই নারী যাত্রীকে নিয়ে হাড়িখোলা যাচ্ছিল ব্যাটারী চালিত একটি রিক্সা। ওই রিক্সাটি চান্দিনা পালকি সিনেমা হল সংলগ্ন স্থানে পৌঁছার পর হাইওয়ে পুলিশের এক সদস্য রিক্সাটিকে ধাওয়া করে। এ সময় পিছন থেকে আসা একটি মাল বোঝাই পিকআপের সাথে ধাক্কায় পিকআপ ও রিক্সা উল্টে ঘটনাস্থলে রিক্সা যাত্রী নারী (৪৫) নিহত হয়। অপর নারী যাত্রীকে (৩০) গুরুতর অবস্থায় চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এসময় রিক্সা চালক, পিকাপ চালক ও তার ভাই গুরুতর আহত হয়। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে দেবিদ্বার উপজেলার আসাদনগর গ্রামের বিধান চন্দ্র দাসের ছেলে অতিন চন্দ্র দাসের (২২) অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে অবরোধ করে। প্রায় এক ঘন্টা ব্যাপী অবরোধে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। এসময় ক্ষুব্ধ জনতার সাথে পুলিশের বাকবিতন্ডা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বিক্ষুদ্ধ জনতাকে অনেক বুঝানোর পরও তারা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে না নিলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি করে। এসময় বিক্ষুদ্ধ জনতাও পুলিশকে উদ্দেশ্যে করে ইট-পাটকেল ছুঁড়ে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়।

খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আবিদ হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মহিদুল ইসলাম, চান্দিনা উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা তপন বক্সী, চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম জাকারিয়া, সহকারী কমিশনার ভূমি তুষার আহম্মদ, চান্দিনা পৌরসভার মেয়র মো. মফিজুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সহ চান্দিনা থানা ও ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
এব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শাহ্ মো. আবিদ হোসেন জানান, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ। সেখানে রিক্সা উঠবে কেন? এছাড়া মহাসড়ক অবরোধ করা মারাত্মক অপরাধ। যারা মহাসড়ক অবরোধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


আরো সংবাদ