২২ জুন ২০১৮

অভিনব প্রতারণা

-

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার জনতা ব্যাংক শাখায় ঘটেছে এক অদ্ভুত কান্ড। ক্যাশ কাউন্টারে টাকা জমা দেওয়ার পর গ্রাহকের অজান্তেই গায়েব হয়ে যায় ২ লাখ টাকা। 

ভুক্তভোগী গ্রাহক ও ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, দেওড়া গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে রাকিব মিয়া চাঁদপুরে টিটি করার জন্য ভাউচার সহ ২ লাখ টাকা ক্যাশ কাউন্টারের হাসান মিয়ার নিকট জমা দেন । হাসান মিয়া ক্যাশিয়ার সুভাষ বাবুর নিকট ভাউচারসহ টাকা জমা দেন। ভাউচার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুভাষ বাবু কিছুক্ষণ পর গ্রাহক রাকিবকে জানান হিসাব নাম্বারে ভুল আছে তাই টাকা পাঠানো যাবে না। সঠিক আরেকটি নাম্বার দিতেও বলেন। রাকিব তখন টাকা ও ভাউচার ফেরত চাইলে ক্যাশিয়ার তাকে অপেক্ষা করতে বলেন।

দেড় ঘন্টা অপেক্ষার পর গ্রাহক রাকিব কাউন্টারে গিয়ে টাকা ফেরৎ চাইলে তাকে জানানো হয় ‘আপনার সাথের লোকটি টাকা নিয়ে গেছেন।’ একথা শুনে রাকিব আশ্চর্য্য ও হতভম্ভ হয়ে পড়েন। এরপর দিশেহারা হয়ে দিগিবিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন রাকিব ও তার বাবা।

এ ঘটনায় ক্যাশিয়ারের সাথে রাকিবের স্বজনদের বাকবিতন্ডা ফলে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে ব্যাংকের লেনদেন কার্যক্রম। ব্যবস্থাপকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ক্যাশিয়ার সুভাষ ভাউচারসহ ২ লাখ টাকা জমা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, হিসাব নাম্বার ভুল ছিল। এরপর রাকিবের লোকের কাছেই টাকা ফেরৎ দিয়েছি। নাম্বার ভুল না সঠিক তা যাচাইয়ের জন্য ভাউচার দেখতে চাইলে ক্যাশিয়ার বলেন, সেটা ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছি। রাকিবকে বসতে বলে আরেকজনের কাছে ভাউচার ছাড়া টাকা ফেরৎ দিলেন কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে নিরব থাকেন ক্যাশিয়ার সুভাষ বাবু।

বিষয়টি নিস্পত্তির জন্য রোববার ব্যবস্থাপকের সাথে বসেন স্থানীয় শাহজাদাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খোকন। ব্যাংকের ভেতরের ভিডিও ফুটেজ দেখে তারা ৩ জনকে জরিমানা করেন। ভাউচারে এনালগ নাম্বার লেখা ও যে লোকটি টাকা নিয়ে গেছে তার সাথে ব্যাংকের ভেতরে আন্তরিক পরিবেশে দেখা যাওয়ায় রাকিবের আত্মীয় রবিউলকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং গ্রাহক রাকিবের ভাউচার ছিঁড়ে ফেলার অপরাধে ক্যাশিয়ার সুভাষ বাবুকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর টাকা নিয়ে যাওয়া লোকটির সাথে ব্যাংকে বসা এবং হাঁটাহাটি করার দায়ে রাকিবকে গুনতে হয়েছে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা।

জনতা ব্যাংকের সরাইল শাখার ব্যবস্থাপক মানবেন্দ্র্র পাল ব্যাংকের ভবনের মালিক, সরাইল বাজার কমিটির মাখন মিয়া ও চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম খোকনকে নিয়ে নিস্পত্তি সভা করার কথা স্বীকার করে বলেন, ক্যাশিয়ারের ক্রটি থাকায় জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে নাম্বার ভুল লেখার ও টাকা নিয়ে যাওয়া প্রতারকের সাথে দহরম-মহরম সম্পর্ক ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়ায় রাকিবকেও জরিমানা করা হয়েছে।

তবে প্রতারককে চিহ্নিতকরণ বা বিচার করার বিষয়ে কিছু বলেননি ব্যাংক ব্যবস্থাপক।


আরো সংবাদ