২২ জুন ২০১৮

পাহাড়ে বসবাস থামছে না : দেয়াল ধসে রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু

ফাইল ছবি -

টানা দুদিনের ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোহিঙ্গাদের অর্ধশতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আহত হয়েছে কয়েকজন রোহিঙ্গা। গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে আজ সকালে পাহাড়ধ্বসে ওই শিশুর মৃত্যু হয়। পাশাপাশি বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে বালুখালী সহ নিচু এলাকার কয়েকটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, কুতুপালং ক্যাম্পের ডি-ফোর এবং ডি-সেভেন ব্লকে ঝড়ো বাতাস ও পাহাড়ধসে অর্ধশতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় এক রোহিঙ্গা শিশু নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ধসের পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিতে ক্যাম্পের কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানান, টানা বৃষ্টির কারনে ক্যাম্পে ছোট-খাটো ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। বিধ্বস্ত হয়েছে বেশকিছু রোহিঙ্গার ঘর। আমরা দুর্যোগের ক্ষতি এড়াতে সচেষ্ট রয়েছি।
আবহাওয়া অফিস বলছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারনে ৩নং সতর্কতা সংকেত অব্যাহত রয়েছে। এতে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ধমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি আরো ২-৩ দিন অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এইদিকে কক্সবাজার পৌরসভার অভ্যন্তরে বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে লক্ষাধিক মানুষ। পাহাড় ধ্বসে জান মালের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা থাকায় পাহাড়ের ঢালে ও পাদদেশে ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কক্সবাজারে ২দিনের টানা বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধ্বসের আশংকায় গত রবিবার রাতে জরুরী ঘোষণা হিসাবে এ নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন।
কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টি ওয়ার্ড জুড়েই রয়েছে ছোট বড় হাজারো পাহাড়। এসব পাহাড় কেটে বা পাহাড়ের পাদদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে লক্ষাধিক মানুষ। কক্সবাজার পৌরসভার ৬, ৭, ৮, ৯, ১০ ও ১২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পাহাড় কেটে হাজার হাজার বসতঘর তৈরী করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে এসব মানুষ। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারনে কক্সবাজারে ২ দিন ধরে টানা বর্ষন চলছে। ফলে পাহাড় ধ্বসের আশংকা রয়েছে। এতে যেকোন মুহুর্তে পাহাড় ধ্বসে ব্যাপক হতাহতের আশংকায় ঝুঁকিপুর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল রাতে জরুরী ঘোষণা হিসাবে এ নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন। জরুরী ঘোষনায় ৬টি ওয়ার্ডের পাহাড়ে ঝুকিপুর্ণ অবস্থায় থাকা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়। আজকের মধ্যে নিজ ইচ্ছায় সরে না গেলে তাদেরকে বাধ্য করা হবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে। প্রতি বছর পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়লেও সেদিকে কোন খেয়াল নেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী এসব মানুষের।
কক্সবাজারের পাহাড়ের বৈশিষ্ট বালিমাটি হওয়ায় বেশি বৃষ্টি হলেই পাহাড়ধ্বসের আশংকা রয়েছে বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক,মো: কামাল হোসেন জানিয়েছেন, কক্সবাজার পৌরসভার ৬টি ওয়ার্ড়ে পাহাড় রয়েছে। এসব পাহাড়ে ঝুকিপুর্ণভাবে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে একজন ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থাকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাহাড়ে ঝুকিপুর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং সহ সতর্ক করা হচ্ছে।
কক্সবাজার শহরের পাশাপাশি জেলার ৮ উপজেলায় ৩ লক্ষাধিক মানুষ পাহাড়ে বসবাস করছে। গত ৮বছরে কক্সবাজারে পাহাড় ধ্বসে মারা গেছে ২২৫ জন। আবহাওয়া অফিস বলছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারনে ৩নং সতর্কতা সংকেত অব্যাহত রয়েছে। এতে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ধমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি আরো ২-৩ দিন অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


আরো সংবাদ