০৬ ডিসেম্বর ২০১৯
তথ্য বিভ্রাটে শাস্তি ডিএসই কর্মকর্তার

আবারো বড় পতন পুঁজিবাজারে

-

আবার বড় ধরনের পতনের শিকার হয়েছে পুঁজিবাজার। গতকাল বুধবার দেশের দুই পুঁজিবাজারেই একই ঘটনা ঘটে। এর আগে টানা চার দিন সূচকের উন্নতির পর মঙ্গলবার পুঁজিবাজারের আচরণ ছিল মিশ্র। গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে দুই পুঁজিবাজার। মাঝখানে সাময়িকভাবে চাপ হ্রাস পেলেও শেষদিকে তা আবার বেড়ে যায়। এ সময় উভয় বাজারেই লেনদেন হওয়া কোম্পানির একটি বড় অংশ দর হারায়।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৪২ দশমিক শূন্য এক পয়েন্ট হ্রাস পায়। চার হাজার ৭৭৯ দশমিক ১৮ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি বুধবার দিনশেষে নেমে আসে চার হাজার ৭৩৭ দশমিক ১৭ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় ১৭ দশমিক ২৬ ও ছয় দশমিক ৯১ পয়েন্ট। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে ১১৫ দশমিক ২৮ ও ৬৮ দশমিক ৬২ পয়েন্ট। এখানে সিএসই শরিয়াহ হারায় ৫ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেন কমেছে দুই পুঁজিবাজারেই। ডিএসই গতকাল ৩৮৯ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা তিন কোটি টাকা কম। মঙ্গলবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৩৯২ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম স্টকে ৩০ কোটি টাকা থেকে ১২ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন।
গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হয় দুই পুঁজিবাজারে। ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স চার হাজার ৭৭৯ দশমিক ১৮ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করে সকাল সাড়ে ১১টায় নেমে আসে চার হাজার ৭৫২ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে সূচকের ২৭ পয়েন্ট হারায় ডিএসই। এরপর সাময়িকভাবে হ্রাস পায় বিক্রয়চাপ। দুপুর ১২টায় ডিএসই সূচক ফের চার হাজার ৭৭৪ পয়েন্টের ঘর অতিক্রম করে। কিন্তু দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আবার বিক্রয়চাপ বেড়ে যায়। দিনের বাকি সময় এ চাপ কার্যকর থাকলে দিনশেষে চার হাজার ৭৩৭ দশমিক ১৭ পয়েন্টে স্থির হয় ডিএসই সূচক।
দুই পুঁজিবাজারের সবগুলো খাতেই দরপতন ঘটে গতকাল। বাদ যায়নি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও। তবে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দরপতনই সূচককে বেশি প্রভাবিত করে। এ তিনটি খাতেই ৮০ শতাংশের বেশি কোম্পানি দর হারায়। এ ছাড়া কয়েকটি খাতে দরপতনের শিকার ছিল শতভাগ কোম্পানি। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩৫০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৭৭টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ২৩৫টি। অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টির দর। অপর দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৫১টি সিকিউরিটিজের ৫৩টির দাম বাড়লেও কমে ১৭৪টির। এখানে দর অপরিবর্তিত ছিল ২৪টি সিকিউরিটিজের।
এ দিকে তথ্য বিভ্রাটের কারণে ডিএসইর মার্কেট অপারেশন্স বিভাগের ইনচার্জ ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক সাইদ মাহমুদ জুবায়েরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। মহাব্যবস্থাপক ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের প্রধান শেখ মোহাম্মদ উল্লাহকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ডিএসইর সার্ভিল্যান্স বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ ও কমন সার্ভিস বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল ওয়াহিদ। কমিটিকে ১৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী ওষুধ খাতের কোম্পানি এসিআই লিমিটেডের চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সমন্বিত শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে পাঁচ টাকা ৯৯ পয়সা। অথচ ১২ নভেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির পাঁচ টাকা ১৯ পয়সা সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়। আর এ ভুল তথ্যের কারণে কোম্পানিটির শেয়ারদর বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে ভুল সংশোধন করা হলে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমে যায়। ফলে যেসব বিনিয়োগকারী প্রথমে ডিএসইর তথ্য দেখে এসিআইয়ের শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলেন, এর ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে।
গত মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে ডিএসইর ওয়েবসাইটে এসিআইয়ের ইপিএস নিয়ে ভুল তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ বিষয়ে ডিএসইর কাছে অনেকেই অভিযোগ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুপুর ১২টা ৯ মিনিটে ডিএসই এসিআইয়ের ইপিএসের সংশোধিত তথ্য প্রকাশ করে। ইপিএস নিয়ে ভুল তথ্য প্রকাশের ফলে ওই দিন ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ২৩৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ২৭০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। অবশ্য ভুল সংশোধনের পর ওই দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর কমে ২৪২ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে আসে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

 


আরো সংবাদ




Paykwik Paykasa
Paykwik