২০ জুলাই ২০১৯
দর বৃদ্ধিতে জেড গ্রুপ এবং পতনে বীমা খাত শীর্ষে

আবারো নেতিবাচক ধারায় পুঁজিবাজার

-

দু’দিন যেতে না যেতেই ফের মন্দার কবলে পড়েছে পুঁজিবাজার। বাজেট পরবর্তী দরপতন থেকে দু’দিন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দেখা গেলেও গতকাল আবার নেতিবাচক আচরণের শিকার হয়েছে পুঁজিবাজারগুলো। দর হারিয়েছে উভয় বাজারের ৭০ শতাংশের বেশি কোম্পানি। এ সময় ঢাকা শেয়ারবাজারে হ্রাস পায় লেনদেন। তবে লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১৫ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট হারায়। ৫ হাজার ৪১১ দশমিক ৪ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ৩৯৫ দশমিক ৬২ পয়েন্টে। একই সময় ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় ৩ দশমিক ৪২ ও ১ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট। এর আগে দু’দিনের প্রধান সূচকটির প্রায় ৩৫ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে। দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে ৪২ দশমিক ৭৭ ও ২৭ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ হারায় ১ দশমিক ৩৩ ও ১ দশমিক ৫১ পয়েন্ট।
সূচকের মতো হ্রাস পেয়েছে ডিএসইর লেনদেনও। পুঁজিবাজারটি গতকাল ৪৪৫ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ১০৯ কোটি টাকা কম। গত বুধবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৫৫৪ কোটি টাকা। তবে লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে। এখানে ৩৫ কোটি টাকা থেকে ৪১ কোটিতে পৌঁছে লেনদেন।
এ দিকে বাজারের মন্দার সুযোগ বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ গতকাল ফের ‘জেড’ গ্রুপের শেয়ার নিয়ে কারসাজিতে মেতে ওঠেন। যেখানে প্রধান প্রধান মৌলভিত্তিহীন কোম্পানির বেশির ভাগ দর হারিয়েছে সেখানে ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় বেশির ভাগ ছিল ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানি। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বিচ হ্যাচারিজ, ইমাম বাটন, ফার্স্ট ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলস। অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল বীমা খাত। গতকাল এ খাতের প্রায় শতভাগ কোম্পানি দরপতনের শিকার হয়।
এক সপ্তাহ ধরে বীমা খাতের কোম্পানিগুলো বরাবরই মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উপরের দিকে ছিল। এ সময় এ খাতের প্রায় সব কোম্পানির ২০ থেকে ৩০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটতে দেখা যায়। ফলে গত দু’দিন এ খাতে কমবেশি সংশোধন ঘটতে দেখা যায়। বিক্রয়চাপ ছিল সব কোম্পানিতে। আবার বুধবার জীবন বীমা কোম্পানিগুলো মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে এলেও গতকাল এগুলোতেও কমবেশি সংশোধন ঘটে।
সূচকের উন্নতি দিয়ে গতকাল সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসটি শুরু হয় পুঁজিবাজারে। কিন্তু লেনদেন শুরুর মাত্র ১৫ মিনিটের মাথায় বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে। ঢাকা স্টকে ৫ হাজার ৪১১ দশমিক ৪ পয়েন্ট থেকে যাত্রা করা ডিএসইর প্রধান সূচকটি সকাল পৌনে ১১টায় ৫ হাজার ৪২৫ পয়েন্টে ঘর অতিক্রম করলেও বিক্রয়চাপের মুখে বেলা ১১টায় নেমে আসে ৫ হাজার ৪০০ পয়েন্টে। লেনদেনের মাঝামাঝি পর্যায়ে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করলেও শেষদিকে এসে ফের বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হয়। এতে দিনশেষে অবনতি ঘটে সূচকের।
বীমা খাতের পাশাপাশি প্রধান খাতগুলোর বেশির ভাগই পতনের শিকার ছিল গতকাল। বিশেষ করে ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠা, প্রকৌশল, রসায়ন ও টেক্সটাইল খাতে এ সময় মূল্যবৃদ্ধি ঘটে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানির। ছোট খাতগুলোর কোনো কোনোটিতে দর হারায় শতভাগ কোম্পানি। ঢাকা শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ৩৫১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৮৫টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ২২২টি। অপরিবর্তিত ছিল ৪৪টির দর। অপরদিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৬৩টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৬৯টির দাম বাড়ে, ১৫০টির কমে এবং ৪৪টি সিকিউরিটিজের দাম অপরিবর্তিত থাকে।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন। ৩০ কোটি টাকায় কোম্পানিটির ৮ লাখ ২ হাজার শেয়ার এ সময় হাতবদল হয়। ১১ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় ১৭ লাখ ৬ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ছিল দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল নূরানী ডাইং, জেএমআই সিরিঞ্জ, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, সিঙ্গার বাংলাদেশ, মুন্নু সিরামিকস, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস, জেনেক্স ইনফোসিস ও ভিএফএস থ্রেড।

 


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi