২৭ জুন ২০১৯

আস্থাহীনতার চরম প্রকাশ পুঁজিবাজারে

-

একটি দিন ভালো কাটিয়ে ফের দরপতনের ধারায়ই ফিরে গেল পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোতে ছাড় দিয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পটভূমিতে গত রোববার পুঁজিবাজারে সূচকের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটে। এদিন পুঁজিবাজারগুলোতে ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায় বাজার সূচক। কিন্তু এর ২৪ ঘণ্টার মাথায় আবার বড় ধরনের পতন ঘটল পুঁজিবাজার সূচকের। ১ শতাংশের বেশি পতন হয় বাজার সূচকের। এ মুহূর্তে পুঁজিবাজারে যে চরম আস্থাহীনতা বিরাজ করছে চলমান বাজার আচরণ তারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজার তার নিজস্ব শক্তিতে টিকে না থাকলে কোনো ধরনের প্রণোদনা বা বিশেষ সুযোগ-সুবিধা যে দীর্ঘমেয়াদের কোনো সমাধান নয় তা আরো একবার প্রমাণিত হলো। এর আগে এ মাসের শুরুতেও একই ঘটনা ঘটে। জাতীয় সংসদে পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক টানা দরপতনের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করে এর পেছনে দায়ীদের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয়ার পরদিন বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটে বাজার সূচকে। ওই দিন দুই পুঁজিবাজারের সবগুলো সূচকের উন্নতি হয় ২ শতাংশের বেশি। কিন্তু দু’দিন না যেতেই আবার যেই সেই। একটানা চার দিন ধারাবাহিক পতনের শিকার হতে দেখা যায় পুঁজিবাজারকে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে আইনি যে কাঠামো রয়েছে তার প্রয়োগ জরুরি। প্রয়োজন নীতিগত সহায়তা। সব কিছুই হওয়া উচিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। আর এসব কিছুই কঠোর নজরদারির মধ্যে থাকা উচিত। ক’দিন পরপর বিধি পরিবর্তন করার মতো যেসব ঘটনা ঘটছে তা কোনোভাবেই একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার নিশ্চিত করতে পারে না। তাছাড়া আমাদের বাজারগুলো এখনো যথাযথ মান অর্জন করতে না পারায় আইনি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর সুযোগ নেয় বিভিন্ন সময় বাজার খেলোয়াড়রা। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া কিছু কিছু কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ক’দিন পরপরই বাজারকে অস্থির করে তোলে। বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও তার কোনো প্রতিবিধান নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে যেমন নেই, তেমনি নেই পুঁজিবাজার কর্তৃপক্ষের কাছেও। তাই দিনের পর দিন এ ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে। তারা মনে করেন, বিনিয়োগকারীরা যখন মনে করবে বাজারে বিনিয়োগ করলে তাদের পুঁজি নিরাপদ ও সংরক্ষিত থাকবে- কেউ প্রতারিত করার সুযোগ পাবে না তখন বাজার আর তারল্য সঙ্কটে পড়বে না। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এ ধরনের পরিবেশ তৈরি করা।
গতকাল দুই বাজারেই বড় ধরনের পতন ঘটে। লেনদেনের শুরু থেকেই সৃষ্ট বিক্রয়চাপ বিরতিহীনভাবে সূচকের এ পতন ঘটায়। উভয় বাজারে দরপতনের শিকার হয় ৭৫ শতাংশের বেশি কোম্পানি। হ্রাস পেয়েছে বাজারগুলোর লেনদেনও।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৫৯ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ৫ হাজার ৩৩৫ দশমিক ৭ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে নেমে আসে ৫ হাজার ২৭৬ দশমিক ১৪ পয়েন্টে। এ সময় ডিএসইর দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৪৮ ও ১৫ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট। এর আগে রোববার প্রধান সূচকটির ১০৪ পয়েন্ট উন্নতি হয়।
দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি হয় যথাক্রমে ২০৪ দশমিক ০৮ ও ১২২ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট। এখানে সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ হারায় যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৬৪ ও ১৪ দশমিক ১৬ পয়েন্ট। রোববার সিএসই সার্বিক মূল্যসূচকের উন্নতি হয় ৩০৫ দশমিক ৫২ পয়েন্ট।
সূচকের পাশাপাশি কমেছে দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনও। ডিএসই গতকাল ৩৮৭ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিন অপেক্ষা ৫৬ কোটি টাকা কম। রোববার বাজারটির লেনদেন ছিল ৪৪৩ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ৩২ কোটি টাকা থেকে ১০ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ব্র্যাক ব্যাংক। ৪০ কোটি টাকায় কোম্পানিটির ৬৮ লাখ ৭৭ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ১৯ কোটি ২৭ লাখ টাকায় ৩৭ লাখ ৪১ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে এস কে ট্রিমস উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ফরচুন স্যুজ, ব্যাংক এশিয়া, আইএফআইসি ব্যাংক, ডরিন পাওয়ার, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রুপালি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, মুন্নু সিরামিকস ও এস্ক্যোয়ার নিট কম্পোজিট।


আরো সংবাদ

আগামীতে মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ : এলজিআরডি মন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে শক্তিশালী করলেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব সুপ্রিম কোর্টের ডিএজি ও এএজিদের পদত্যাগের আহ্বান আইনমন্ত্রীর খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে প্রতীকী অনশন আজ প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান অদম্য প্রতিবন্ধী চাঁদের কণা পূর্ণ তদন্তের আবেদন শুনতে হেগের আদালতে বেঞ্চ নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলো পাকিস্তান বিশ্বকাপে বাবরের দারুণ সেঞ্চুরি দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জয়ের আভাস দিচ্ছে পাকিস্তান বিন্দুমাত্র সুযোগ থাকলেও ভারতের বিপক্ষে নামবো : মাহমুদউল্লাহ নির্যাতন বন্ধে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

সকল